# মেয়র এমপির সমন্বয়হীনতার অভাব রয়েছে: ভিপি বাদল
# বৃষ্টিতে মানুষের চলাচলের মত অবস্থা নেই : সাখাওয়াত
আগামী নির্বাচন নিয়ে রাজনীতির মাঠ এখন উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে এখন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি পাল্টা পাল্টি কর্মসূচি দিয়ে রাজনৈতিক মাঠে রাজপথ গরম করে রেখেছে। তবে তাদের বাহিরে সুবিধায় রয়েছে জাতীয় পার্টি।
তারা কোন আন্দোলনে নেই। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মাঝে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে অল্প বৃষ্টিতেই শহরের রাস্তাঘাট ডুবে যায়। এতে করে ভোগান্তিতে পড়তে হয় নগরবাসী। সম্প্রতি টানা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জলাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদল।
এককই বিষয় নিয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খানও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এদিকে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসন নিয়ে নির্বাচন প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল ডিবিসি টেলিভিশনের সিএসআরএম নির্বাচন এক্সপ্রেস সাক্ষাৎকারে বলেন, মহাজোটে থেকে জাতীয় পার্টি প্রায় ১৫ বছর এখানে সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছে। এর আগেও ছিল।
এই সরকারে আমলে নারায়ণগঞ্জে ব্যপক উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়ন করেছে। তার পরেও কিছু থেকে যায়। এখানে আমার ডিমান্ড একটি মেডিকেল কলেজ করা প্রয়োজন। এখানকার রোগিরা যখন হাসপাতালে যায় তখন ইমারজেন্সি কোন চিকিৎসা পায়না।
শহরের জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, এখানে সমন্বয় হিনতার অভাব রয়েছে। এখানে একদিকে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য অপর দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়রের এলাকা হওয়ায় তাদের মাঝে সমন্বয়হীনতায় মানুষের এই ভোগান্তি। এই দুই জনপ্রতিনিধির মাঝে সমন্বয়ের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হলে এখানে দুরভোগ থাকে না।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে শহরের জলাবদ্ধতার দুরভোগ রয়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জলাবদ্ধতা দুরভোগ লাগবে এমপি শামীম ওসমান কাজ করছেন। বিএনপি নেতারা বলছে এখানে জাতীয় পার্টির এমপি থাকায় আওয়ামী লীগ দুর্বল হয়ে আছে। সুষ্ঠ নির্বাচন হলে বিএনপি র্নিঙ্কুশ বিজয়ী লাভ করবে বলে তাদের দাবী।
এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ভিপি বাদল বলেন, বিএনপিতো কতকিছু স্বপ্ন দেখে। তাদের এই ধারনাই ভুল। তারা একটি জনবিচ্ছিন্ন দল। তারা অগ্নি সন্ত্রাস করে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। তাদেরকে মানুষ এখন বয়কট করেছে। এখানে নৌকার প্রার্থী আসলে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়ী হবে। আমি নেত্রীর কাছে মনোনয়ন চাইবো। নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হবো।
আমরা জেলার ৫টি আসনে নৌকার প্রার্থী চাই। আর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনতো আমাদের হৃদয়। কেননা এখানে আওয়ামী লীগের জন্ম। আমি নেত্রীর কাছে মনোনয়ন চাইবো আমার হাত দিয়ে ১৫ লাখ ছেলে মেয়ে তৈরী হয়েছে। তারা সবাই বাদল ভক্ত তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নৌকা ভক্ত।
অপরদিকে বিপরীতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমরা সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে রয়েছি। জনগণের দাবী হচ্ছে এই দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রতিষ্ঠা হওয়া। আমরা জনগণের সেই দাবী আদায়ের জন্য আন্দোলন করছি। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি হলো বিএনপির আসন। সুষ্ঠ নির্বাচন হলে এই আসনটি সব সময় বিএনপি বিজয়ী হয়েছে।
সদর বন্দর এলাকার সত্তর ভাগ মানুষ বিএনপিকে সমর্থন করে। সুষ্ঠ নির্বাচন হলে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হবে। এখানে জাতীয় পার্টির এমপি থাকার কারনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ অনেক র্দুবল। জলাবদ্ধতা প্রসেঙ্গ বিরোধী দলের এই নেতা বলেন, সামন্য বৃষ্টিতে শহর ডুবে গেছে। এই হলো তাদের উন্নয়নের চিত্র। মানুষের চলাচলের মত অবস্থা নেই। মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারে না।
নারায়ণগঞ্জের রাস্তাঘাট অত্যন্ত সরু। আগামী নির্বাচন ত্বত্তাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে। আর সেখানে আমি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবো। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হবো। সদর বন্দর এলাকা সহ সারাদেশের মানুষ বিএনপিকে ভোট দেয়ার জন্য বসে আছেন। এন. হুসেইন রনী /জেসি


