Logo
Logo
×

রাজনীতি

অনুমোদিত কমিটিকে পাশ কাটিয়ে প্রস্তাবিত কমিটি নিয়ে আজব বর্ধিত সভা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৩, ০৮:৪১ পিএম

অনুমোদিত কমিটিকে পাশ কাটিয়ে প্রস্তাবিত কমিটি নিয়ে আজব বর্ধিত সভা
Swapno

 

# জেলা আওয়ামীলীগের অনুমোদিত কমিটি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন
# অনুমোদিত কমিটিতে সংযোজিত ১৮জনকে দাওয়াত দেয়া হয়নি

 

 

সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক ১৫ আগষ্টের পূর্বেই আবার নয়া বিতর্কের উত্থান ঘটালেন প্রস্তাবিত কমিটির নেতাদের দ্বারা আজব বর্ধিত সভা করে। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের দ্বারা অনুমোদিত কমিটিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক দ্বারা গঠিত প্রস্তাবিত কমিটির নেতাদের উপস্থিতিতে ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিশেষ বধিত সভা করেন। অথচ, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি জেলা আওয়ামীলীগ থেকে অনুমোদন দিলেও অনুমোদিত কমিটিতে ১৮ জন সংযুক্ত হওয়া নেতাদের কাউকেই বর্ধিত সভার বিষয়ে কোন রকম অবগত করেননি সোনারগাঁ আওয়ামীলীগ। উল্টো বর্ধিত সভায় সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কায়সার হাসনাত প্রস্তাবিত কমিটির সকল নেতাদের উপস্থিতিতে বাহবা দিয়েছেন। তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ নেতাদের ভাষ্যমতে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগ গঠনতন্ত্রকে উপেক্ষা করে এই ধরণের কর্মকান্ড চলমান রেখেছেন। এর আগেও গঠনতন্ত্রকে উপেক্ষা করে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগ প্রস্তাবিত কমিটির আজব পরিচিত সভা করে ব্যাপকভাবে সমলোচিত হন।

 


দলীয় সূত্রে জানা যায়, (৯ আগষ্ট) বিকেলে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কায়সার হাসনাতের বাগাবাড়িতে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সামসুল ইসলাম ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে প্রস্তাবিত কমিটির নেতাদের দ্বারা ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করেন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগ। তবে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি অনুমোদন হয়ে গেলেও প্রস্তাবিত কমিটির নেতাদের নিয়ে বর্ধিত সভা করেন। তবে গত ৪জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ ১৮জন প্রস্তাবিত কমিটির ১৮ জন নেতাকে বিয়োজন করে নতুন করে ১৮ জন নেতাকে সংযোজন করার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটির অনুমোদন দেন। কিন্তু কমিটি অনুমোদনের পরই সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক কমিটি প্রত্যাখান করে কেন্দ্রে নালিশ দেন এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের কমিটিকে প্রত্যাখান করেছে সেটা আবারও প্রতিয়মান করেছে। কারণ নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ কর্তৃক সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসকে সামনে রেখে বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করেন উপজেলা আওয়ামীলীগ এবং এই বর্ধিত সভায় সোনারগাঁ উপজেলার অনুমোদিত কমিটিতে ১৮জন নেতা নতুন করে যারা সংযুক্ত হয়েছেন তাদেরকে বাদ দিয়ে এই আজব বর্ধিত সভা করেন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগ। এতে করে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগ নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে বর্ধিত সভা করলেন। এর আগে ৭ জুন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি অনুমোদনের পূর্বেই জেলা আওয়ামীলীগের নেতাদের উপেক্ষা করে তাদের প্রস্তাবিত কমিটির নেতাদের নিয়ে আজব পরিচিতি সভা করে বিতর্কের জন্ম দেন। কিন্তু এবার আজব বর্ধিত সভা করে ফের নব বিতর্কের উত্থান ঘটালেন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগ।

 

আজব বর্ধিত সভায় সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-কায়সার বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক আামাদের সাথে আলাপ আলোচনা না করে নিজেরা ১৮ জন আমাদের প্রস্তাবিত কমিটি থেকে বাদ দিয়ে নতুন করে ১৮ জনকে সংযুক্ত করে এটা মানেই হল আমাদের নিজেদের মধ্যে ভাই ভাইয়ের মধ্যে একটা ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি করে দেয়া। কিন্তু এই কমিটিতে ডুকল সেও আওয়ামীলীগ করে যে কমিটি থেকে বাদ পড়ল সেও আওয়ামীলীগ করে। এখানে ‘৭১ জন বিশিষ্ট একটা কমিটি হবে, এখানে ৭১ হাজার লোকত আমরা দিতে পারব না’। তবে এই ৭১ জনকেই আমাদের বাছাই করে দিতে হবে দুই একটা ভুল ত্রুটি থাকতে পারে সেই ভুলটা সংশোধন করার জন্য আমরা আশা করেছিলাম জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আমাদেরকে ডাকবেন এবং আমাদের বলবেন আমাদের এখানে মনে হচ্ছে এই ব্যাক্তিটা বয়সে কম এই ব্যাক্তিটার সমস্যা আমাদের কাছে তালিকা আছে তার পরিবর্তে তাকে রাখতে চাই। অত্যান্ত দুঃখের সাথে বলতে চাই আমাদের রাজনীতির এই ধরণের একটি অপরিকল্পিত রাজনীতি আমরা জেলা থেকে কোন সময় আসা করিনি। যার কারণে আমরা সামনে বিএনপি জামাতকে ঠেকাব আমরা যে আন্দোলনে নামব যখন ভাইয়ে ভাইকে ভুল বুঝা শুরু করে তখন কিন্তু সে আন্দোলনটা বেগবান হয় না এটা একটা ষড়যন্ত্র। এই সময়ে এই ধরণের একটা অরাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আমাদের সোনারগাঁ আওয়ামীলীগকে হতাশ করেছে আমাদের প্রত্যেকটা নেতাকর্মীকে একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া মনের মধ্যে সৃষ্টি করেছে। কিন্তু আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই আমরা যারা ঐক্যবদ্ধ আছি সেটা আমাদের বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি কোন ষড়যন্ত্র এই আওয়ামীলীগকে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার আদর্শ থেকে বিচ্যুতি ঘটাতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, এখানে সিনিয়র নেতৃবৃন্দ যারা আছেন আমাদের আপনাদের নাম দিয়েইত কিন্তু আমরা একটি কমিটি পাঠিয়েছিলাম। যখন আপনারা দেখেছেন এখানে আপনাদের নেতাদেরকে নিয়ে এখানে খেলামেলা হচ্ছে এখান থেকে আপনারা দু চারজন জেলা গিয়ে আমাদের সাথে আলাপ আলোচনা না করে আপনারা জেলায় গিয়েছেন । এটা আমরা কষ্ট পেয়েছি তারপরও আমাদের মনে কষ্ট নাই আপনারা আমাদের সাথে আছেন আমরা ভাই আমরা সে সম্পর্কে রাজনীতিটা করতে চাই।

 

সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটির নেতাদের দ্বারা আজব বর্ধিত সভা প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল যুগের চিন্তাকে বলেন,  ১৫ আগষ্টের ব্যাপারে সবাই সবাইকে দাওয়াত দিতে পারে কোন বিষয় নয়। নির্ধারিত কাউকে দাওয়াত না দিয়ে থাকে সেটা আলোচনা সমালোচনার বিষয়। সোনারগাঁ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক তার চিন্তা ধারায় সে কত কথাই বলতে পারেন। তার চিন্তা ধারায় যে কথাগুলো বলেছেন সে চিন্তা ধারা দলীয় গঠনতন্ত্র মেনে হয়েছে কিনা সেটাই ভাবার বিষয় গঠনতন্ত্রই তাকে সমাধানটা দেখিয়ে দিবে তাদের উচিত গঠনতন্ত্র পড়ে নেয়া। সবচেয়ে বড় বিষয় হল দলীয় গঠনতন্ত্র, গঠনতন্ত্রটাই হল একটা নেতার সিদ্ধান্ত নেয়ার রাস্তা। তবে তার কথাগুলো তার চিন্তা ধারায় বলছে গঠনতন্ত্র মোতাবেক বিষয়টা হয়নি। একটা কমিটি নিয়ে নেতাদের নানা ধরণের মতবাদ থাকতে পারে। কিন্তু তারা যখন বসবে কেন্দ্রীয় ডাকবে বসবে তখন তারা সমাধানটা পেয়ে যাবে। তারা এর আগে স্টেটমেন্ট দিয়েছেন স্টেটমেন্টের পর তারা কেন্দ্রে দৌড়াদৌড়ি করছেন। তারপরও তাদের যেকোন কথা থাকলে কেন্দ্রে জানাতে পারেন কেন্দ্র তাদেরকে সমাধান দিবে।

 

সোনারগাঁ উপজেলার প্রস্তাবিত কমিটির বর্ধিত সভার বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের অনুমোদিত কমিটির সদস্য এরফান হোসেন দীপ যুগের চিন্তাকে বলেন, কিছুদিন পূর্বে,  দীর্ঘ দুই যুগ পর সোনারগাঁও উপজেলা কমিটি গঠিত হয়েছে। সোনারগাঁয়ে, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের প্রত্যেকটি সৈনিক এবং মানবতার মা জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মীরা স্বভাবতই এই কমিটি নিয়ে খুব উচ্ছ্বসিত ছিল। কিন্তু কমিটি গঠনের পর থেকেই সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কায়সার প্রতিনিয়ত বিতর্কে জন্ম দিয়ে যাচ্ছেন।  প্রথমে তারা, প্রস্তাবিত কমিটির পরিচিতি সভা করেন যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইতিহাসে বিরল। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী কর্তৃক সোনারগাঁও উপজেলা কমিটি অনুমোদিত হওয়ার পর তারা আবার জেলা কমিটির সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। সেই সাথে জেলা কমিটি কর্তৃক সংযোজিত ১৮ জন সদস্য ব্যাপারে বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য করেন। গত ৬ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা গণভবনে এক বিশেষ বর্ধিত সভায় সকলকে আগামী নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে জয়যুক্ত করার জন্য কাজ করার আহ্বান জানান।  তিনি এ উল্লেখ করেন ল্যাংড়া লুলা কানা যাকেই তিনি আগামী নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন  দেন না কেন, তার জন্য সকলকে কাজ করতে হবে। দলের মধ্যে কোন কোন দল তৈরি করা যাবেনা। সেই বর্ধিত সভায় সোনারগাঁ উপজেলার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু দুইদিন পর আজ ৯ই আগস্ট অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করলাম জননেত্রী শেখ হাসিনার ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ উপেক্ষা করে সোনারগাঁয়ে একটি তথাকথিত বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদিত কমিটির অনেকেই দাওয়াত পান নাই। আমি নিজেও এই বিশেষ বর্ধিত সভার ব্যাপারে আগে কিছু জানতে পারিনি। সোনারগাঁও উপজেলা কমিটির একজন সদস্য হিসেবে এটা আমার অধিকার যে যেকোনো সভায় আমি আমন্ত্রিত হব। অন্তত বঙ্গবন্ধুর একজন সৈনিক,  দেশরত্ন শেখ হাসিনার একজন কর্মী, সোনারগাঁয়ের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্যের ছেলে হিসেবেও আমি দলীয় যেকোনো দলীয় যে কোন সভার ব্যাপারে জানার এবং তাতে অংশগ্রহণ করার অধিকার রাখি। কিন্তু সোনার গাঁয়ে প্রকৃত আওয়ামী লীগেরদের জন্য আওয়ামী লীগ করা অনেক কঠিন।  কারণ বর্তমানে আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক দলকে ঐক্যবদ্ধ নয় বরং দলকে বিভক্ত করার জন্য কাজ করছেন। ২০১৪ এবং ২০১৮ এর মত সোনারগাঁয়ে যেন জাতীয় পার্টি কে আর এই  আসন ছেড়ে না দিতে হয় সেজন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার গুরুত্ব সবাই বুঝেন।  কিন্তু বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কায়সার দলকে বিভক্ত করে আবার যাতে জাতীয় পার্টি সংসদ সদস্য সোনারগাঁয়ে বহাল থাকে সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।  সোনারগাঁ অগণিত বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মী বাহিনী কখনো এই ষড়যন্ত্র মানবে না। যতই ষড়যন্ত্র হোক, দিনশেষে জয় হবে জননেত্রী শেখ হাসিনার তৃণমূলের কর্মীদের ইনশাআল্লাহ। আমি সোনারগাঁও উপজেলার সম্মানিত সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক কে আহ্বান করব,  দলকে আর বিভক্তির দিকে না নিয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে পথ চলুন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন