Logo
Logo
×

রাজনীতি

আসলে এই জনপদে সন্ত্রাসের রাজনীতির জনক কে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৩, ০৮:৫৪ পিএম

আসলে এই জনপদে সন্ত্রাসের রাজনীতির জনক কে
Swapno

 

# বিগত বিশ বছরে সন্ত্রাসের রাজনীতির বলি হয়েছেন দুই দলের অনেকে
# গিয়াসউদ্দিন ১৭টি খুন করলে বিগত পনেরো বছরে তার ফাঁসি হয়ে যেত

 

 

সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমান বার বার সাবেক এমপি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিনকে একজন খুনী হিসাবে আখ্যায়িত করছেন এবং তিনি জোর দিয়ে বলছেন গিয়াস উদ্দিন নাকি মোট ১৭টি খুন করেছেন। তিনি কাদেরকে খুন করেছেন তাদের নামও বলছেন শামীম ওসমান।

 

তিনি সাব্বির আলম খন্দকার, মমিন উল্লা ডেভিড, রগকাটা জাফর, গলা কাটা কাশেম ও সুন্দর আলী সহ অন্তত সতেরো জনকে হত্যা করার জন্য গিয়াস উদ্দিনকে দায়ী করে আসছেন। বিপরীতে গিয়াস উদ্দিন এবং নারায়ণগঞ্জের আরো অনেকে শামীম ওসমানকে তথা ওসমান পরিবারকে বহু মানুষ হত্যা করার জন্য দায়ী করে আসছেন। তারা তানভির মুহম্মদ ত্বকী, নাট্য শিল্পী চঞ্চল, আশিক, মিঠু, ভুলু সাহা সহ আরো বহু হত্যাকান্ডের জন্য ওসমান পরিবারের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ তুলছেন।

 

ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বী এবং সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ বিগত প্রায় এক দশক ধরে ত্বকী সহ এসব হত্যাকান্ডের জন্য ওসমান পরিবারকে দায়ী করে বিচার দাবি করে আসছেন। তারা মনে করেন যদি এসব হত্যাকান্ডে প্রভাবশালী ওসমান পরিবার জড়িত না থাকতো তাহলে এতোদিনে এই নির্মম হত্যাকান্ডগুলির বিচার হয়ে যেতো। ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বীর নেৃতত্বেতো প্রতি মাসেই এসব হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

 

এদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবং তার অনুসারীদের দাবি হলো বিগত পনেরো বছর ধরে রাষ্ট্র ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামী লীগ এবং দশ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি হলেন শামীম ওসমান। তাই গিয়াস উদ্দিন যদি কোনো খুনের সাথে জড়িত থাকতো তাহলে বর্তমান সরকার নিশ্চয়ই তার বিচার করতো। অথচ কোনো একটি খুনের মামলায় গিয়াস উদ্দিন জড়িত এমন প্রমান মিলেনি।

 

প্রমান হলে এতোদিনে নিশ্চয়ই তার ফাঁসি বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়ে যেতো। তাই ১৫ বছর ধরে শামীম ওসমানের সরকার ক্ষমতায় থাকার পরেও তিনি যখন গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে মানুষ হত্যার অভিযোগ তোলেন তখন বিচার করতে না পারার ব্যর্থতার দায়ভার বর্তমান সরকারের উপরই বর্তায় বলে তারা মনে করেন। তার জন্য দায়ী নারায়ণগঞ্জের এমপি শামীম ওসমান নিজেও। গিয়াস অনুসারীদের মতে ১৭টি খুনতো দূরের কথা একটি খুনের মামলায়ও গিয়াস উদ্দিনকে অভিযুক্ত করা যায়নি।

 

তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে কোনো খুনের প্রমান পাওয়া যায়নি। যদিও গিয়াস উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে কয়েকটি মামলা হয়েছিলো। কিন্তু পরে তদন্তে প্রমান হয়েছে তিনি জড়িত নন। যেমন কয়েক বছর আগে সিদ্ধিরগঞ্জের এক কিশোরকে তার বন্ধুরা মিলে হত্যা করে গিয়াস উদ্দিন মডেল কলেজের পুকুরে লাশ ফেলে রাখা হয়েছিলো। মামলায় আসামী করা হয়েছিলো গিয়াস উদ্দিন সহ তার ছেলেদেরকে।

 

কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই ঘটনায় পুলিশী তদন্তে খুনীরা গ্রেফতার হয় এবং তাদের জবানবন্দিতেই বেড়িয়ে আসে যে এই হত্যাকান্ডে মোটেও গিয়াস উদ্দিন এবং তার ছেলেরা জড়িত নন। তদন্ত শেষে আসামীর তালিকা থেকে গিয়াস উদ্দিন ও তার ছেলেদের নাম বাদ দিয়ে চার্জসিট দেয়া হয়। ফলে গিয়াস উদ্দিনের অনুসারীরা মনে করেন এভাবেই তাকে জড়িয়ে বিভিন্ন সময় মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং কোনো কোনো মামলায় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ষড়যন্ত্র ছিলো বলেও তারা অভিযোগ করেন।

 

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জে বিগত বিশ বছরে সাত খুন সহ আরো বহু হত্যাকান্ড এবং গুমের ঘটনা ঘটেছে। সাত খুনের নেপথ্য কারিগর এবং অন্যতম আসামী নূর হোসেন এবং হত্যাকান্ডের শিকার গোয়ার নজরুল দুইজনেই ছিলেন সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের লোক। এছাড়া এই ধরনের হত্যাকান্ড এবং গুমের শিকার আওয়াম লীগ ও বিএনপির বহু নেতাকর্মী। তবে তাদের মাঝে যারা ক্যাডার ভিত্তিক রাজনীতি করতেন তাদের সংখ্যাই বেশি।

 

আইনশৃংখলা বাহিনীর গুলিতেও অনেকে মৃত্যু বরণ করেছেন। এদের মাঝে উল্লেখ যোগ্য হলেন নূরুল আমিন মাকসুদ, মমিন উল্লা ডেভিড, ক্যাঙ্গারু পারভেজ, টাওয়ার সেলিম, নজরুল ইসলাম সুইট, রগকাটা জাফর, গলাকাটা কাশেম, মেছের, বন্ধুক শাহিন, তোফাজ্জল শিকাদর সহ আরো অনেকে। এদের অকাল মৃত্যুর জন্য মোটা দাগে কে বা কারা দায়ী সেই বিচার হোক বা না হোক নোংরা রাজনীতি যে দায়ী এতে কারোই কোনো সন্দেহ নেই।

 

তাই শামীম ওসমান এবং গিয়াস উদ্দিন একে অপরকে খুনী বলে গালি দিলেও এই জেলায় সন্ত্রাসের রাজনীতির জন্য আসলে কে বা কারা দায়ী এটা জানেন জেলাবাসী অনেকেই। তবে আগামী নির্বাচনকে ঘিরে এই মুহুর্তে ঘায়েল করার যে রাজনীতি চলছে সেটা আগামী দিনগুলিতে আরো জোরালো হবে বলেই অনেকে মনে করেন।

 

তবে এই জনপদে আর কোনো খুন বা সন্ত্রাসের রাজনীতি দেখতে চায় না সাধারন মানুষ। আর এই যুগে একজন অপরজনের বিরুদ্ধে কোনো রকম ষড়যন্ত্র করে সফল হবে না বলেই মনে করেন নারায়ণগঞ্জের জনগন। তাই আগামী দিনগুলিতে তাদের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয় সেটাই এখন দেখার বিষয়। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন