নিজের দলে কোন্দল রেখে বিএনপি’র সমালোচনায় শামীম ওসমান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৩, ০১:০১ পিএম
আগামী নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের তৃনমূলের নেতা কর্মীদের সাথে এমপি মন্ত্রীদের দূরত্ব কোন্দল নিরসনের নির্দেশনা দিয়েছেন খোদ দলীয় সভানেত্রী। কেননা ৬ আগষ্ট গণভবনে জেলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সেক্রেটারিদের নিয়ে বর্ধিত সভা করেন। এই সভায় ক্ষমতাসীন দলের এমপি মন্ত্রীদের সাথে তৃনমূলের দূরত্ব এবং দলীয় কোন্দল বেশি উঠে আসে।
আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় এমপিদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝেড়েছেন দলের তৃণমূল নেতারা। জনপ্রতিনিধিরা নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেন না-এমন অভিযোগ করে উঠে এসেছে। এছাড়া বর্ধিত সভায় তৃণমূল নেতারা বলেন, এর জন্য নির্বাচনে খেসারত দিতে হতে পারে। কারণ, অবহেলা ও উপেক্ষার শিকার হয়ে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন।
এদিক দিয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগও এর বাহিরে নয়। এখানেও তৃনমূল নেতা কর্মীদের সাথে আওয়ামী লীগের এমপির সাথে দূরত্ব তৈরী হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় দলীয় কোন্দলের কারনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা হযবরল হয়ে রয়েছে।
দলীয় সূত্রমতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বছর খানিক আগে জেলা তাতী লীগের সদস্য সচিব ভিপি আলমগীর মারা যান। ২০২২ সনের ১৩ মার্চ তিনি মারা যান। তারও কিছু দিন আগে ২০২১ সনের ১৭ আগষ্ট বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আফাজ উদ্দিন ভ‚ইয়া ইন্তেকাল করেন। কিন্তু তারা দুজনেই এমপি শামীম ওসমানের অনুসারী ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এই সাংসদকে নেতা হিসেবে মানতেন।
তবে তৃনমূলের মাঝে ক্ষোভ তৈরী হয়েছে তারা মারা যাওয়ার পর স্থানীয় ভাবে দলী নেতা কর্মীদের উদোগ্যে তেমন কোন দোয়ার আয়োজন হয় নাই। এছাড়া এমপি শামীম ওসমানও তাদের পরিবারের তেমন কোন খোঁজ খবর রাখেন নাই। এছাড়া বক্তাবলী ইউনিয়নে দলীয় কোন্দলের কারনে বছর হতে যাচ্ছে সম্মেলন হলেও কোন কমিটি নেই। তাছাড়া ফতুল্লা থানার ৪টি ইউনিয়নের মাঝে ৩টিতে দলীয় কোন্দলের কারেন কমিটি হচ্ছে না।
আর এতে করে নতুন নেতৃ্ত্ব তৈরী হচ্ছে না। তৃনমূলে এই নিয়ে ক্ষোভ তৈরী হয়ে রয়েছে। যা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় সম্পষ্ট ভাবে উঠে এসেছে। অথচ কেন্দ্র থেকে বার দলীয় কোন্দল নিরসনের নির্দেশনা দেয়া হলেও এখানে তা মানা হচ্ছে না। বর্ধিত সভার কথা গুলো যেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের চিত্র ফুটে রয়েছে।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনটিকে বিএনপির একটি শক্ত ঘাটি হিসেবে মনে করেন দলটির নেতাকর্মীরা। তবে এমনটি মনে করেন না নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান। জানতে চাইলে বেসরকারি টেলিভিশনের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে শামীম ওসমান বলেন, “আমার মনে হয়না ওই অঞ্চলে (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) বিএনপির একটি শক্ত ঘাটি আছে।
বিএনপির ত্যাগি নেতাকর্মীদের যেভাবে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্ল করা হচ্ছে। এখন যারা সামনের সারিতে এসেছেন তাদের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ, ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত তারা ১৭টা খুনের সাথে জড়িত। এমনকি বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খানের ভাইয়ের হত্যার আসামীকেই জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচন হলে (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপি জয় লাভ করবে, দলটির নেতাকর্মীদের এমন দাবীর প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেতা বলেন, ‘আশা তো সবাই করবে। ২০০১ এ কিন্তু এখানে বিএনপি পাশ করে নাই। ওই বছর রাতের সাড়ে তিনটা বাজে ঘোষনা দেয়, যে আমি পাশ করেছি। পরে সেনাবাহিনী গিয়ে বাক্স বদলে দেয়া হয়।”
সাংসদ শামীম ওসমানের মন্তব্যে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, “তিনি নিজের দলের কোন্দল নিরসনে না করে অন্য দলের কমিটি নিয়ে সমালোচনা করেন। অথচ তার দলের নেতা কর্মীদের খবর নেন না তিনি। দলীয় নেতা কর্মীদের কাছ থেকে এমন ত্যথ উঠে এসেছে।” এন. হুসেইন রনী /জেসি


