আনোয়ার-খোকনের নাটকীয়তায় অস্বস্তিতে তৃণমূল
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৩, ০৭:৪৫ পিএম
নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহার দ্বন্দ্বের নামে নাটকীয়তা সৃষ্টের মাধ্যমে মহানগর আওয়ামীলীগে নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখার কৌশল নতুন কিছু নয়। যেটা এখনো চলমান রেখেছে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক। বছরের শুরুর দিকে কমিটি গঠনে নিজেদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে আজব সম্মেলন করে কমিটিগুলো গঠনে এক প্রকার বাধ্যকতা সৃষ্টি করে।
এছাড়া সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক অতিমাত্রায় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হলে এবং কমিটি গঠনে গড়িমসির বিষয় কেন্দ্র পর্যন্ত পৌছলে কেন্দ্রে তলব হয় সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহাকে। তবে কোনক্রমে কেন্দ্রে তলব থেকে মুক্তি পাবার পর থেকেই মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা আবারও ঐক্যের নাটকীয়তায় লিপ্ত হয়েছেন।
কিন্তু আনোয়ার-খোকন ঐক্যে ফিরলেও মহানগর আওয়ামীলীগের অর্ন্তভুক্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়া ওয়ার্ডগুলোর কমিটিগুলো গঠন করতে এখনও ব্যর্থের কোটায়ই রয়ে গেলেন। তবে মহানগর আওয়ামীলীগ নেতাদের মতে এটা হল তাদের কর্তৃত্ব বজায় রাখার কৌশল। কারণ ওয়ার্ড কমিটিগুলো পূর্ণ হয়ে গেলেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলনের নির্দেশনা আসতে পারে। যার কারণে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠনে গড়িমসি।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৫ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও আবহাওয়া জনিত কারণে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলন স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে দলীয় হাইকমান্ড থেকে নির্দেশ ছিল নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের অর্ন্তভুক্ত ২৭টি ওয়ার্ডের সম্মেলনের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শেষ করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলনের দিকে অগ্রসর হওয়া।
সে আলোকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের অর্ন্তগত ১৭টি ওয়ার্ডে কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে ওয়ার্ড সম্মেলন করতে গিয়ে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। কোন মতে ১৭টি ওয়ার্ডের সম্মেলনের সমাপ্তি এবং ১৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭টি ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করতে সক্ষম হয়েছে এরমধ্যেও কয়েকটি ওয়ার্ডে করেছে অর্ধ কমিটি।
তবে ১৭টি ওয়ার্ডের সম্মেলন সমাপিÍ করে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে এক পর্যায়ে একে অপরকে উদ্দেশ্য করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শুরু করে দেন। এভাবে দীর্ঘদিন তাদের দ্বন্দ্বের অযুহাতে আটকে থাকে ওয়ার্ড কমিটিগুলো। কারণ সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের সমন্বয়হীনতার অভাবে ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠিত হচ্ছিল না।
সবশেষ ১৮ মে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নীতি নির্ধারকগণ নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহাকে ঢাকায় তলব করেন। মূলত নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সার্বিক কার্যক্রমের অবস্থান সম্পর্কে জবাবদিহিতার জন্য তাদেরকে তলব করা হয়েছিল। শেষতক তাদের তলব হতে হয়নি এবং তলব থেকে রেহাই পেয়েছিলেন।
কিন্তু তলব থেকে রেহাই পেয়ে আবার কেন্দ্রের চাপে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক এক টেবিলে মহানগর আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে বসেন। তবে আবারও এক টেবিলে বসে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক রাজনীতি শুরু করলেও ওয়ার্ড কমিটিগুলো অনুমোদন দিচ্ছে না।
তবে মহানগর আওয়ামীলীগের নেতাদের মতে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের অর্ন্তগত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়া সকল ওয়ার্ড কমিটি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক আলাদা আলাদা ভাবে প্রস্তুত করেছেন তাদের দুজনের সমন্বয়ে যেকোন সময়ই মহানগরের ওয়ার্ড কমিটিগুলো অনুমোদন দিতে পারেন। কিন্তু তারা নানা অযুহাতে এখনো ওয়ার্ডগুলো অনুমোদন দিচ্ছে না।
কারণ ওয়ার্ড কমিটিগুলো অনুমোদিত হয়ে গেলেই মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলনের নির্দেশনা আসবে। যার কারণে নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে নির্বাচনী বছরে ওয়ার্ড কমিটি গঠনেই দীর্ঘ সময় অতিক্রম করেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনও খুব সন্নিকটে যার কারণে নির্বাচনের আগে কোন ক্রমেই মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলনের সম্ভাবনা থাকছে না।
তবে জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে সম্মেলন অনুষ্ঠিত মহানগরের ১৭টি ওয়ার্ডের কমিটিগুলো অনুমোদন দেয়ার মত সক্ষমতা রয়েছে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের তারা কমিটি অনুমোদনের মনোনিবেশ করলেই ১৭টি ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের কমিটি গঠিত হতে পারে। এস.এ/জেসি


