সব দলের অংশগ্রহণের নির্বাচনে আশাবাদী অধিকাংশ মানুষ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৩, ০৯:০১ পিএম
দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই দুই দলই মূল ফ্যাক্টর। যেকোনো নির্বাচনে এই দুই দল যদি অংশ নেয় এবং নৌকা ও ধানের শীষের মাঝে যদি প্রতিদ্বন্দ্বীতা হয় তাহলেই কেবল জমে উঠে নির্বাচন। ফলে এই দুই দলের কোনো একটি যদি নির্বাচনে অংশ না নেয় তাহলে সেই নির্বাচনে ভোট দিতে যায় না বা যাবে না দেশের সাধারন মানুষ। তাই আগামী নির্বাচনে যদি এই বড় দুই দলের মাঝে প্রতিদ্বন্দ্বীতা হয় তাহলে নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি আসনে জমে উঠবে নির্বাচন।
অন্যথায় এবারও মানুষ ভোট দিতে যাবে না। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে। তবে নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ মানুষ মনে করেন আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে এবং সব দলের অংশগ্রহনে হবে। তাই তারাও এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য বেশ আশবাদী হয়ে উঠেছেন বলে জানান। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ খানপুর হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে কথা হয় স্কুল শিক্ষক নূর হোসেনের সঙ্গে।
তার কাছে প্রশ্ন ছিলো আগামী নির্বাচন কেমন হবে এবং আপনি ভোট দিতে যাবেন কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আমি মনে করি আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সহ সব দল অংশ নেবে। তাই আমি অবশ্যই ভোট দিতে যাবো। কারন যে যাই বলুক সরকার দেশী বিদেশী চাপে আর আগের মেতা একতরফা কোনো নির্বাচন করতে পারবে না। তাই সব দলের অংশগ্রহনেই নির্বাচন হবে।
তবে বড় দুই দলের কোনো একটি যদি কোনো কারনে নির্বাচনে অংশ না নেয় তাহলে আমি ভোট দিতে যাবো না। কারন তখন আর আমার ভোটের কোনো দরকার পরবে না। কারন তখন আগে থেকেই জানা থাকবে ওই নির্বাচনে কারা নির্বাচিত হচ্ছে। তখন নির্বাচন হবে একতরফা এবং তেমন কারো ভোট ছাড়াই একটি পক্ষ নির্বাচিত হবে। তবে আমার মনে হচ্ছে এবার আর একতরফা কোনো নির্বাচন হবে না।
কারন এবার দেশের মানুষ খুবই সজাগ হয়ে উঠেছে এবং বিদেশী শক্তিগুলো এই নির্বাচনের দিকে খেয়াল রাখছে। তাই আমি মনে করি এবার শেষ পর্যন্ত সব দলের অংশগ্রহনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি সহ সব দলই অংশ নেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
চাষাঢ়া শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে কথা হয় বিশ্বাবিদ্যালয়ের ছাত্র রকিব উদ্দিন মিরনের সাথে। তার কাছে একই প্রশ্ন করা হলে তিনিও বলেন, আগে দেখতে হবে নির্বাচন কি সব দলের অংশগ্রহনে হচ্ছে কিনা? বিশেষ করে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দল যদি কোনো নির্বাচনে অংশ না নেয় তাহলে সেই নির্বাচন মোটেও জমবে না। সেই নির্বাচন হবে একতরফা। এবারতো বিএনপি বলছে এবারের নির্বাচনে তারা এই সরকারের অধীনে অংশ নেবে না। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়।
আর আওয়ামী লীগ বলছে তারা বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন করবেন। তাই শেষ পর্যন্ত কি হবে সেটাতো জানি না। তবে পরিস্কার করে এটা বলতে পারি আগামী নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশ না নেয় তাহলে দেশের জনগন ভোট দিতে যাবে না। এমন কি আওয়ামী লীগের ভোটাররাও যাবে না। কেনোনা তখন ভোটের আগেই নির্ধারিত হয়ে যাবে যে কারা নির্বাচিত হচ্ছে। নির্বাচন হবে একতরফা। তবে এবারের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলে সারা দেশে বেশ সংঘাত ছড়িয়ে পরতে পারে।
কারন বিএনপি যে আন্দোলন করছে তাতে নির্বাচনের আগে থেকেই তারা হরতাল ডেকে দিতে পারে। আর সেটা হলে মানুষ একেবারেই ভোট কেন্দ্রে যাবে না বলে আমি মনে করি। তবে আমার মনে হয় দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য সরকার বেশ বড় ধরনের চাঁপের মাঝে রয়েছে। তাই সব দলের অংশগ্রহনে নির্বাচন করা ছাড়া তাদের কোনো উপায় থাকবে না। তাই এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুই দলই অংশ নেবে এবং নির্বাচন হবে অবাধ ও সুষ্ঠু। আমিও ভোট দিতে যাবো ইনশাআল্লাহ।
অপরদিকে ফতুল্লার বাসিন্দা মমিনুল ইসলাম কাজল বলেন, আমার বয়স এখন বত্রিশ বছর। আমি ভোটার হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো নির্বাচনেই ভোট দিতে পারি নাই। কারন ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা ভোটে সংসদ সদস্য শামীম ওসান নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর ২০১৮ সালের নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখি আগের রাতেই ভোট হয়ে গেছে। তাই আমি ভোটার হওয়ার পরেও আমার ভোট দেওয়ার কোনো অভিজ্ঞতা হয়নি।
তাই আগামী নির্বাচনও সরকার যেভাবে করতে চাইছে তাতে আমি আমার ভোট দিতে পারবো কিনা সন্দেহ রয়েছে। তবে বিরোধী দলগুলি যে আন্দোলন করছে এই আন্দোলন যদি সফল হয় তাহলে আমরা ভোটের অধিকার ফিরে পাবো। তখন যোগ্য লোক দেখে ভোট দেবো। আর যদি বিএনপি নির্বাচনে না আসে তাহলেতো কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীতাই হবে না। ভোট দেয়ারও কোনো দরকার পরবে না। তবে এবার দেশের মানুষ তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পাবে বলেই আমি মনে করি। আমরা ভোট দিতে যাবো ইনশাআল্লাহ। এস.এ/জেসি


