বিএনপি’র বক্তব্যকে ড্যামকেয়ার আ.লীগ নেতাদের
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৩, ০৯:১৮ পিএম
# বিএনপির আমলে দেশে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হয়েছে : এড. দিপু
# বিএনপির কাছে দেশ নিরাপদ নয় : ভিপি বাদল
আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি সরকার পতনের আন্দোলনে মাঠে রয়েছে। অপরদিকে বিএনপিকে রাজপথে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য ঠেকাতে মাঠে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী দিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ। শুধু কেন্দ্রীয়ভাবেই নয় ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দল জেলা ভিত্তিক পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী দিয়ে যাচ্ছে একের পর এক।
কিন্তু তাদের বিপরীতে জাতীয় পার্টি সরকার ও বিরোধী দলের কর্মসূচীগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির দিকেও নজর রয়েছে মানুষের। তবে নির্বাচনের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি এখন উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে। কিন্তু এই উত্তপ্ত রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয় তা নিয়েও চলছে নানা পর্যালোচনা।
এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্রমতে, নভেম্বর মাসে আগামী জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা হবে। সেই অনুযায়ী ক্ষমতাসীন দলের এমপি সহ সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে চাঙ্গা রয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের নেতারা তার বাহিরে নন। স্থানীয় ভাবে এখানকার ৫টি আসনের এমপি ও মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে নেমে প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
দলীয় সুত্রমতে জানা যায়, জেলার ৫টি আসনে নৌকার দাবী জানিয়ে আসছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। বিশেষ করে ২০১৮ সনের নির্বাচনের পর থেকে এখানকার নারায়ণগঞ্জ-৩ এবং নারায়ণগঞ্জ -৫ আসনটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এখানে নৌকার প্রার্থী চান ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু দলীয় কর্মসূচিতে বলেন, আমরা নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকা চাই।
বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৫ এবং নারায়ণগঞ্জ ৩ আসনে নৌকা ভোট দিতে চাই। এখানে আমরা আর জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে চাই না। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বিভিন্ন সভায় তার বক্তৃতায় জেলার ৫টি আসনে নৌকার প্রার্থী দাবী জানিয়ে আসছেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনও জেলার ৫টি আসনে নৌকার দাবী তুলেন। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে তারা অন্তত একবার হলেও নৌকায় ভোট দিতে চান।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এখন একটাই চাওয়া, একটাই পথ, সেটা হচ্ছে এদেরকে সরাতে হবে, এদের পতন ঘটাতে হবে। তিনি বলেন, 'আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে এই দেশ নিরাপদ না, কেউই নিরাপদ না। আমাদের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য, অস্তিত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য এই সরকারকে বিদায় করতে হবে।
অপর দিকে বিএনপির নিবন্ধন বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনের সচিব বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করেছে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ। একই সাথে বিএনপিকে নিষিদ্ধের দাবী জানিয়ে রাজধানীর বুকে মিছিল করে আওয়ামী যুবলীগ। তারা বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দিয়ে দলটির নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) স্মারকলিপি জমা দিয়েছে আওয়ামী যুবলীগ।
আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু বলেন, মির্জা ফখরুলের মত সিনিয়র রাজনীতিবিদকে নিয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে চাই না। তবে এই দেশে যা অর্জন হয়েছে তা আওয়াম লীগের সরকারের মাধ্যমে হয়েছে। এমনকি দেশকে সারা বিশ্বে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আওয়ামী লীগ পরিচিতি করেছে। বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে এই দেশ মাথা উচু করে দাঁড়াতে শিখে। ১৫ আগস্টের কালো অধ্যায়ের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর এই দেশের উন্নয়ন হতে থাকে। আজকে সারা বিশ্বে তাকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে চিনে।
তিনি আরও বলেন, মির্জা ফখরুলদের আমলে এই দেশ দুর্নীতিতে ৫ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। দেশে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির আমলে কৃষকদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নৌকায় ভোট দেয়া নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আহসান উল্লাহ মাস্টারের মত নেতাদেরকে তারা হত্যা করেছে। ভুতের মুখে রাম রাম। তাদের মন্তব্য এমন অবস্থা। সারা বিশ্ব এখন বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে জানে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশে শান্তি বিরাজ করে। সেই সাথে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকে। তাছাড়া বিএনপির নৈরাজ্য ঠেকাতে আমরা শান্তি সমাবেশ করে আসছি। আর তারা আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মত বড় মাপের রাজনীতি বিদের মুখে এই কথা বলা ঠিক না। তারা শান্তির রাজনীতিতে আসুক মানুষ তাদেরকে গ্রহন করবে। এস.এ/জেসি


