বিএনপির নিবন্ধন বাতিলের আবেদনে নেতাদের প্রতিক্রিয়া
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৩, ০৮:৪৯ পিএম
# তারা চায় একাই দেশ শাসন করবে : খোকন
# ৭৫ এর বাকশাল কায়েম করতে চায় : সাখাওয়াত
আগামী নির্বাচনের আগমুহুর্তে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে চাপে রাখতে নানা ভাবে কৌশল অবলম্বন করে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল। বিএনপির কর্মসূচি দিলে পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে সক্রিয় থাকে আওয়ামী লীগ। বিরোধী দল ক্ষমতাসীন দলকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য এক দফা আন্দোলন করে যাচ্ছে।
গতকালও রাজধানীর বুকে ঢাকা উত্তর দক্ষিন মহানগর বিএনপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এর আগে কখনো পল্টন, কখনো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সভা সমাবেশ করে যাচ্ছে বিএনপি। আর এই সভা সমাবেশ গুলোতে সবচেয়ে বেশি ভুমিকা রাখে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। জেলা মহানগর বিএনপি নেতাদের নেতৃত্বে পৃথক ভাবে বিশাল আকারে মিছিল নিয়ে যান।
এদিকে বিএনপি যখন ২৯ জুলাই ঢাকার প্রবেশ মুখ বন্ধ করে মহাসড়কে অবস্থান নেয়ার কর্মসূচি ঘোষনা করে তখন আওয়ামী লীগ পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে রাজপথ নিজেদের দখলে রাখেন। তখন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ঢাকা চট্রগ্রাম মহা সড়কের সাইনবোর্ড এর রাস্তায় দাঁড়াতে পারে নাই। রাস্তাই উঠতে গেলেই বিএনপির সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ভাবে ক্ষমতাসীন দল বিরোধী দলের আন্দোলনকে দমাতে একের পর এক নানা ভাবে চাপে রেখে যাচ্ছেন।
এবার বিএনপিকে চাপে রাখার জন্য তাদেরকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে আখ্যায়িত করে নিষেদ্ধের দাবী জানিয়ে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ নির্বাচন কমিশনের সচিব বরাবর স্বারক লিপি দিয়েছে। গত বুধবার বিএনপির নিবন্ধন বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনের সচিব বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করেছে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ। একই সাথে বিএনপিকে নিষিদ্ধের দাবী জানিয়ে রাজধানীর বুকে মিছিল করে আওয়ামী যুবলীগ।
তারা বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দিয়ে দলটির নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) স্মারকলিপি জমা দিয়েছে আওয়ামী যুবলীগ। তবে বিএনপির নেতৃবৃন্দ তাদের এই দাবীকে প্রত্যাখান করেছে জেলা মহানগর নেতৃবৃন্দ। বিএনপির দাবী আওয়ামী লীগের পায়ের নিচে মাটি নেই। তাই তারা এখন কি রেখে কি করবে তা নিয়ে দিশে হারা হয়ে গেছে। এছাড়া বিএনপি নেতারা মনে করেন তাদের সাথে দেশের জনগণ রয়েছে। দেশের মানুষকে নিয়ে তারা এই সরকারের পতন ঘটাবে বলে বিশ্বাস করেন।
বিএনপির নিবন্ধন বাতিল নিয়ে প্রতিক্রিয়াতে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন বলেন, বিএনপি একটি সারা বিশ্বে জনপ্রিয় দল হিসেবে পরিচিত। মানুষ ইতোমেধ্য কয়েকটি নির্বাচনের মাধ্যমে বুঝতে পারছে এই সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন সুষ্ঠ হওয়া সম্ভব না। আওয়ামী লীগের যদি সৎ সাহস থাকে তাহলে তাদের নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে এত ভয় কিসের।
ক্ষমতাসীন দল বাকশাল কায়েম করার পথে আগাচ্ছে। তারা চায় একাই দেশ শাসন করবে। তারা মানুষের ভোটাধিকার, মানবাধিকার কেরে নিয়েছে। এছাড়া গণমাধ্যম কর্মীদের স্বাধীনতা নেই। তাদেরকে মানুষ প্রত্যাখান করেছে। যার চিত্র ঢাকা ১৭ আসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। তারা বিএনপিকে ভয় পেয়ে এই ধরনের ন্যাক্কার জনক পন্থা বেছে নিছে।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমরা আগে থেকেই বলে আসছি আওয়ামী লীগ স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা করছে। তারা ৭৫ এর বাকশায়েল কায়েম করার মনভাষনা করছেন। তাদের দুঃশাসন যত বাড়বে ততো সন্নিকটে তাদের পতন হবে। গত ১৫ বছর যাবৎ বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য তারা নীল নকশা করে যাচ্ছে।
এই দেশের মানুষ এখন আর আওয়ামী লীগকে চায় না। ক্ষমতাসীন দল ভয়ে বিএনপিকে নিয়ে একের পর এক নানা ভাবে ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু তাদের কোন ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। কেননা মানুষ এখন ভোটাধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করছে। এই সরকারকে হটাতে আমাদের আন্দোলনের সাথে মাঠে মানুষ নেমেছে। তাদের এই বাকশাল কায়েমের নীল নকশা বাস্তবায়ন হবে না।
জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য গত ১৫ বছর যাবৎ নানা ভাবে ষড়[যন্ত্র করে যাচ্ছে। এটাও তাদের ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। তারা বিএনপিকে দাঁড়াতে দিবে না। নারায়ণগঞ্জ ক্ষমতাসীন দল বিএনপির একটি অংশকে তাদের নিয়ন্ত্রনে নেয়ার জন্য কাজ করছে। তারা যেভাবে বিএনপিকে নিয়ে নীল নকশা করছে তাদের এই নীল নকশা বাস্তবায়ন হবে না। তাদের সকল ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করার জন্য আমরা তৃনমূল সব সময় সতর্ক অবস্থায় রয়েছি। এস.এ/জেসি


