Logo
Logo
×

রাজনীতি

নির্বাচনে মনোযোগী আ.লীগ আন্দোলনে বিএনপি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৩, ০৯:২৫ পিএম

নির্বাচনে মনোযোগী আ.লীগ আন্দোলনে বিএনপি
Swapno

 

সংবিধান অনুযায়ী আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একেবারে সন্নিকটে। নভেম্বরের যেকোনো দিন তফসিল ঘোষণার কথাও বলছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরোপুরি মনোযোগী হয়ে উঠেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। বিএনপি ও তার মিত্রদের এক দফার আন্দোলন রাজপথে মোকাবেলার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রস্তুতিও পুরোদমে নিতে চায় দলটি। ইতোমধ্যে সারা দেশ থেকে তৃণমূল নেতাদের ঢাকায় ডেকে এনে সে বার্তাই দিয়েছেন দলটির প্রধান।

 

এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে জনসভা করে তৃণমূলকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী বার্তা দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। ইতোমধ্যে বিভাগীয় শহরগুলোতে সফর করে নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন তিনি। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত বিভাগীয় শহর সফর সম্পন্ন করার পরই গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরেও সফর করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। তবে সেটি নির্ভর করছে বিএনপির আন্দোলনের গতিবিধির ওপর।

 

এদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য মরিয়া হয়ে যুগপুৎ,পদযাত্রার পরে এবার এক দফা আন্দোলন করে যাচ্ছে বিএনপি। বিরোধী দল বিএনপি গত কয়েক বছর ধরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন করে আসলেও এবার তারা সরকারের পদত্যাগকেই তাদের চূড়ান্ত বা এক দফা দাবি হিসেবে ঘোষণা করেছে বিরোধী দল বিএনপি। এই এত দফা দাবী বাস্তবায়নের ঢাকার প্রবেশ মুখ অবস্থান করতে গিয়ে ব্যর্থ হন। দলীয় সূত্রমতে তারা এখন ভিন্ন কৌশল নিয়ে চুড়ান্ত আন্দোলনের ছক নিয়ে মাঠে নামছে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পুরোদমে মাঠে কাজ করছেন। কিন্তু বিরোধী দল বিএনপি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য আন্দোলন করছেন। তারা প্রতি নিয়ত একের পর এক কর্মসূচি দিয়ে এখন এক দফা আন্দোলনে রয়েছেন। আর তা হলো প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ। তবে বিএনপি আন্দোলনের পাশাপাশি সাংগঠনিক ভাবে শাক্তিশালী হয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিয়ে রাখছে।

 

যদিও বিএনপির দাবী এই আন্দোলনই হলো তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি। তাদের দাবী এই সরকারকে মানুষ চায় না। মানুষ এখন বিএনপির আন্দোলনকে সমর্থন করে তাদের পাশে রয়েছে। অপরদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দাবী মানুষ জ্বালাও পোড়াও আন্দোলনকে সমর্থন করে না। তাই বিএনপি থেকে মানুষ এখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তবে আর কয়েক মাসেই পরেই জাতীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে জনগণের ভোটের মাধ্যমেই সব পরিস্কার হয়ে যাবে।  

 

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, নির্বাচনের আগেই কেন্দ্রের সর্বশক্তি নিয়োগ করে তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠ প্রস্তুত করাই দলটির অন্যতম লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপির সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন মোকাবেলা ও নির্বাচনী প্রস্তুতি একসাথে নিতে হচ্ছে। এ জন্য গত ৬ আগস্ট গণভবনে অনুষ্ঠিত বিশেষ বর্ধিত সভা করে তৃণমূল নেতাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি নেয়ার জন্য স্পষ্ট বার্তা দেয়া হয়েছে।

 

তাছাড়া বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় দীর্ঘ দিন থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল দৃশ্যমান, যা গণভবনে জেলার নেতাদের বক্তব্য থেকেও স্পষ্ট হয়েছে। লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রের বিভিন্ন পর‌্যায়ের নেতাদের সমন্বয়ে ৭৪টি সাংগঠনিক জেলায় আট বিভাগীয় টিম নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত গঠিত সাংগঠনিক টিমগুলো সারা দেশে নির্বাচনী ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

 

এ ছাড়াও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত সভা-সমাবেশগুলোতে বিগত দিনে বিএনপি জোটের আন্দোলন চলাকালে দেশব্যাপী চালানো ভয়াবহ নাশকতার চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি বর্তমান সরকারের টানা তিন মেয়াদের উন্নয়নের চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যদিও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের কোন নেতায় এই বর্ধিত সভায় বক্তব্য দিতে পারে নাই।

 

সুত্রমতে, বিএনপি নেতারা বলছেন দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কাছে দলের লক্ষ্য আরও পরিষ্কার করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও দলের অবস্থান তুলে ধরা হচ্ছে যাতে করে তারাও বুঝতে পারে যে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় রেখে অন্য কোনো ফর্মুলাতেই বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। অবশ্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের জল্পনা কল্পনাও রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। অনেকে মনে করেন বিদেশীদের মধ্যস্থতায় নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার নিশ্চয়তা পেলেই নির্বাচনে যাবে বিএনপি, সরকারে যেই থাকুক না কেন। এনিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।

 

দশ দফা থেকে এক দফা:

 

বাংলাদেশে ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করেছিলো বিএনপি এবং সেবারের নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতার পর আন্দোলনের ক্ষেত্রেও অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলো দলটি। পরে ২০১৮ সালে শেখ হাসিনার সরকারের অধীনেই নির্বাচনে যায় বিএনপি এবং নির্বাচনে মাত্র সাতটি আসনে জয়ের পর ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ করে এ সরকারের অধীনে আর নির্বাচন না করার ঘোষণা দেয়। এরপর থেকে ধীরে ধীরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিকে সামনে রেখে দল গোছানো ও জনমত তৈরির কাজে নামে দলটি।

 

কিন্তু রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে ব্যাপক বাধার মুখে পড়ে দলটি। এসব সত্ত্বেও গত বছরের শেষার্ধে এসে বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ সফল করে নতুন করে আলোচনায় আসে বিএনপি। যদিও তখন ঢাকার সমাবেশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা হয় ও দলের মহাসচিবসহ অনেক নেতাকর্মী আটক হন।

 

এর মধ্যেই দশই ডিসেম্বরে ঢাকার সমাবেশ থেকে সংসদ বিলুপ্ত করে সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন বাতিল করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠনসহ দশ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়েছিলো। ঢাকার ওই সমাবেশ থেকেই বিএনপি এমপিদের সংসদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা নিয়ে ‘নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি করে বর্তমান সরকার বিরোধী অলআউট মুভমেন্টে’র কথা বলা হয়েছিলো।দলটি সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিকে সামনে নিয়ে এসে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে।

 

আাওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু জানান, বিএনপি মুখে বলছে তারা নির্বাচনে আসবে না। কিন্তু বিএনপির আন্দোলন ও নির্বাচনী প্রস্তুতি একসাথেই চলছে। বিএনপি-জামায়াত অতীতের মতো নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। আর আমাদের লক্ষ্য একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেয়া।

 

সুষ্ঠুভাবে ভোট দেয়ার ব্যবস্থা করা অর্থাৎ আমরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। এ ছাড়াও আমরা আমাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে জনগণের কাছে তুলে ধরছি। আমরা ভবিষ্যতে জনগণকে নিয়ে কী ভাবছি সেটিও তুলে ধরছি। গত ৬ আগস্ট আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায়ও আমাদের নেত্রী তৃণমূল নেতাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি নেয়ার জন্য স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমরা আগে থেকেই বলে আসছি আওয়ামী লীগ স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা করছে। তারা ৭৫ এর বাকশাল কায়েম করার মনোভাষনা করছেন। তাদের দুঃশাসন যত বাড়বে ততো সন্নিকটে তাদের পতন হবে। গত ১৫ বছর যাবৎ বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য তারা নীল নকশা করে যাচ্ছে। এই দেশের মানুষ এখন আর আওয়ামী লীগকে চায় না। ক্ষমতাসীন দল ভয়ে বিএনপিকে নিয়ে একের পর এক নানা ভাবে ষরযন্ত্র করছে।

 

কিন্তু তাদের কোন ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। কেননা মানুষ এখন ভোটাধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করছে। এই সরকারকে হটাতে আমাদের আন্দোলনের সাথে মাঠে মানুষ নেমেছে। তাদের এই বাকশাল কায়েমের নীল নকশা বাস্তবায়ন হবে না। তাছাড়া আমরা মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করছি। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন