রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের চাপে বিঘ্নিত ইউপি সেবা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৩, ১০:২২ পিএম
# চেয়ারম্যান মেম্বাররা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে ব্যস্ত
দরজায় কড়া নাড়ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তাদের কর্মসূচি নিয়ে আদা জল খেয়ে মাঠে নেমেছে। একদিকে বিএনপি এক দফা দাবি নিয়ে সরকার পতনের আন্দোলনে নেমেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বিএনপি'র নৈরাজ্য প্রতিহত করতে ও আবারো ক্ষমতায় আসতে ব্যাপকভাবে তৎপর রয়েছে। এ তৎপরতার ফলে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে লাভবান হলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য তা অলাভ জনক ও ভোগান্তির বলে মনে করছেন স্থানীয় জনগণ।
এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা থানা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। যেহেতু তারা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে সেহুতু তারা দলীয় কর্মসূচি পালনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকে। যেমন, কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ বাদল ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি, বক্তাবলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়রম্যান শওকত আলী ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
এনায়েত নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি। ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। এতে করে তারা যেমনভাবে বছরের অন্যান্য সময় ইউনিয়ন পরিষদে বসে জনগণকে নিরবিছিন্ন সেবা প্রদান করে থাকে, যেভাবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে চিন্তা করে। নির্বাচনের আগে সেরকম সেবা প্রদান করা সম্ভব হয় না। কেননা তখন জনগণকে সেবা দেওয়ার পরিবর্তে মাথায় থাকে দলীয় কর্মসূচি সফলভাবে পালন করা।
সূত্র মতে, বছরের অন্যান্য সময় ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বাররা যতটা সময় ইউনিয়ন পরিষদে দেয় এবং জনগণের পাশে পাশে গিয়ে তাদের দুর্দশার কথা শুনে। নির্বাচনের পূর্বে তারা সেইভাবে নিয়মিত পরিষদে আসে না। তখন তারা উন্নয়ন করার পরিবর্তে বিভিন্ন কর্মসূচি সফল করার চিন্তায় মগ্ন থাকে।
এ ব্যাপারে ফতুল্ল থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ বাদল বলেন, আমি অসুস্থ এইজন্য ইউপির কাজগুলা বাসায় বসে করি। দলীয় কর্মসূচিও পালন করি। তবে দলীয় কর্মস‚চির চাপে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা যেন বিঘ্নিত না ঘটে সেই দিকে খেয়াল রাখি।
এ ব্যাপারে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বক্তাবলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী জানান, বিগত বছরগুলোতেও যে পরিমাণ সেবা আমরা মানুষদের দিয়েছি নির্বাচনের আগেও তেমনি সেবা দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচনের কারণে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে আমরা ইউনিয়নবাসীকে সেবা বঞ্চিত করি না।
এ ব্যাপারে ফতুলা থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও এনাযয়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান জানান, আগে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা তারপর দলীয় কর্মসূচি। দলীয় কর্মসূচি সফল করা যেমনভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঠিক তেমনি ভাবে ইউপি সেবা দেওয়া ও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন আমি ইউপিতে বসে সকল কাজ শেষ করি এবং তারপর দলীয় কর্মসূচি সফল করার জন্য কাজ করে।
দলীয় কর্মসূচি এবং জনগণের সেবা দুটোই আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে জনগণ আশা করে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে চেয়ারম্যান এবং ওয়ার্ড মেম্বারা যেন ইউনিয়ন সেবা থেকে জনগণকে বঞ্চিত না করে। উন্নয়ন যেন কোন বাধাগ্রস্ত না হয়। এস.এ/জেসি


