আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনীতি এখন উত্তপ্ত। বিএনপি সরকারের পদত্যাগ দাবী জানিয়ে এক দফা আন্দোলন করে যাচ্ছে। অপরদিকে তাদের বিপরীতে একের পর এক বিএনপির আন্দোলনকে দমনের জন্য নানা ভাবে হুঙ্কার দিয়ে যাচ্ছেন।
সেই সাথে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিরোধী দল বিএনপি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে রাজপথ গরম করে যাচ্ছে। বিএনপিকে রাজপথে কোন ভাবেই তেমন ভাবে দাঁড়াতে পারছে না। তারা আন্দোলনের মাঝে থেকেই সরকার পতন ঘটিয়ে বাড়ি ফিরবে বিভিন্ন সভা সমাবেশে এমন বক্তব্য দিচ্ছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ ৬ আগস্ট আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় নির্দেশনার পরে নিজেদের দ্বন্দ্ব আর ঘর গুছাতে ব্যস্ত সময় পার করছে। একই সাথে আগামী নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগ এখন মনোযোগী হয়ে রয়েছেন। সেই সাথে কর্মসুচি নিয়ে রাজপথে দখল রেখেছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি তখন নিজ দলের দ্বন্দ্বকে ওভার কাম করে স্লোগানে স্লোগানে রাজপথ কাঁপাচ্ছে।
তাদের বিপরীতে প্রায় প্রতিদিনই বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজপথে নামছেন নানা ইসুতে। ক্ষমতাসীন দলের হুঙ্কার, হুমকীকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে রাজপথে সরকার বিরোধী স্লোগান দিচ্ছে। হামলা, মামলা কিংবা গ্রেফতার করেও বিএনপির সরকার বিরোধী আন্দোলন থামানো যাচ্ছে না।
দলীয় সূত্রমতে, জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ হয়েছে প্রায় বছর হতে চলেছে। সম্মেলনে আগের কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক স্ব-পদে বহাল রয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের তালিকা জমা দিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনের আগে এই কমিটি অনুমোদন নিয়ে সংশয় রয়েছে। আর এ নিয়ে আওয়ামী লীগের পদ প্রত্যাশী নেতারা নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছেন।
কিন্তু সভাপতি, সম্পাদকের দ্বন্দ্বের কারনে থমকে আছে জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি। পদ পেতে দলের নেতায় নেতায় প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। তবে আগামী নির্বাচন এবং বিএনপির আন্দোলনকে দমনের জন্য এই আগস্ট মাস পুরোটাই দখলে রয়েছে আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রনে। কেননা এই মাসকে ক্ষমতাসীন দল শোকের মাস হিসেবে ঘোষনা করেছেন।
এছাড়া এই মাসে বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনীতি নিয়ে সারা মাস জুড়ে আলোচনা করার নির্দেশনা দিয়েছে দলীয় হাই কমান্ড। এই মাসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা, দোয়া মিলাদ মাহফিল নিয়ে সারা মাস কর্মসূচি রয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের। তাই দলীয় রাজনৈতিক নেতাদের মাঝে আলোচনা হচ্ছে আগস্ট মাস পুরোটাই আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।
অপরদিকে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা এক টেবিলে বসেছে। তারা দুজনে দুই মেরুর দুই নেতা এক টেবিলে বসেছে। কিন্তু মহানগর আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটি সম্মেলন হলেও কোন কমিটি ঘোষনা না হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
তার মাঝে বর্তমান নেতৃত্বের পরেও তরুণ নেতাদের মধ্যে অনেকে ওয়ার্ডের শীর্ষ পদে আসতে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে বিএনপির মধ্যে বিরোধ থাকলেও সরকার বিরোধী আন্দোলনে সবাই রাজপথে সক্রিয় রয়েছেন। প্রতিদিন রাজপথে নানা কর্মসূচি নিয়ে রাজপথ কাঁপাচ্ছেন বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বিএনপি নেতাকর্মীদের নানা ভাবে ভয় দেখাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে। কিন্তু, ভয়, হুমকী, কিংবা চোখ রাঙ্গানি উপেক্ষা করে সরকার বিরোধী আন্দোলন বেগবান করার চেষ্টা করছেন। অনেক সময় কেন্দ্রীয় নেতারাও নারায়ণগঞ্জে ছুটে আসছেন কর্মীদের উৎসাহিত এবং সাহস যোগাতে। কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশে পেয়ে নারায়ণগঞ্জের নেতারাও আরো বেশী সাহস নিয়ে রাজপথে নেমে আসছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের যে কাজ আরো পাঁচ বছর আগে করার কথা ছিল, সে কাজ এখন করছেন। যে কারণে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে বলয় ভিত্তিক দ্বন্দ্ব নতুন করে নতুন রূপে দেখা দিয়েছে। যদিও সকল দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন দলীয় সভানেত্রী।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, আগস্ট মাস আসলেই কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্রে সক্রিয় হয়ে উঠে। তারা চেয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে দেশকে ধ্বংস করতে। কিন্তু তারা এই ষড়যন্ত্র আল্লাহর রহমতে ধ্বংস হয়ে যায়। আগস্ট মাসে আমাদেরকে দেশ বিরোধীদের পক্ষে সজাগ থাকতে হবে। সেই সাথে এই আগস্ট মাস জুড়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতা কর্মীর কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল বলেন, আগস্ট মাস হলো আমাদের জন্য শোকের মাস। সারা মাস জুড়ে আমাদের আমাদের বিভিন্ন কর্মসূচি থাকে। তাছাড়া শোককে শক্তিতে রুপান্তরিত করে আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে হবে। এস.এ/জেসি


