Logo
Logo
×

রাজনীতি

জেলার পাঁচটি আসনে বিএনপির ১২ প্রার্থী

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৩, ০৯:২৭ পিএম

জেলার পাঁচটি আসনে বিএনপির ১২ প্রার্থী
Swapno

 

# এবারের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে, ফলে বাড়ছে প্রার্থীদের আগ্রহ

 

 

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি আলহাজ্ব মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি হওয়ার পর থেকে এই জেলায় সাংগঠনিক ভাবে খুবই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে বিএনপি। এছাড়া জাতীয় রাজনীতিতে দেশী-বিদেশী চাপের কারণে এবার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনাও পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। তাই বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের এবার নির্বাচনে অংশ নেয়ার আগ্রহ বেড়েছে।

 

নারায়ণগঞ্জে একই সাথে আন্দোলন এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। জানা গেছে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে বিএনপি থেকে যারা নির্বাচন করতে চান তাদের মাঝে এই মুহুর্তে মাঠে রয়েছেন মোট সাতজন প্রার্থী। তবে এই পাঁচ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাসীর সংখ্যা ১২ জন।

 

এরা হলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট সাখাওয়াৎ হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী মনির ও বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দীপু, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে আতাউর রহমান আঙ্গুর, নজরুল ইসলাম আজাদ ও মাহমুদুর রহমান সুমন এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আজহারুল ইসলাম মান্নান।

 

বিএনপির সূত্রগুলো জানিয়েছে এই নেতারা মনে করেন সরকার মুখে যতো কথাই বলুক বাস্তবে এবার আর বিগত দুই নির্বাচনের মতো যেনতেন নির্বাচন করা সম্ভব হবে না। কারণ এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমা শক্তিগুলো বাংলাদেশের উপর তীক্ষ্ণ নজরধারী অব্যাহত রেখেছে। আর পশ্চিমাদের উপরই বাংলাদেশের অর্থনীতি পুরো মাত্রায় নির্ভরশীল। অবাধ ও সুষ্টু না হলে যুক্তরাষ্ট্র সহ তার মিত্ররা যে এবারের নির্বাচন কোনো মতেই মেনে নেবে না এটা জানে সরকার নিজেও।

 

তাই শেষ পর্যন্ত একটি সুষ্টু নির্বাচনের দিকে সরকার এগিয়ে যেতে বাধ্য হবে বলে মনে করেন বিএনপির এই নেতাদের অনেকে। আর যদি সরকার সেটা না মেনে আগের মতোই মনগড়া নির্বাচন করে ক্ষমতা আকড়ে থাকতে চায় তাহলে বিএনপি কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে। সেই ক্ষেত্রে এই নেতারা মাঠের আন্দোলনের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

 

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই আসনে এবার বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মূলত দুই জন। এরা হলেন জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক আলহাজ্ব মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবং যুগ্ম আহবায়ক মামুন মাহমুদ। তবে জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক হিসাবে আগামী নির্বাচনে গিয়াস উদ্দিনের মনোনয়ন চূড়ান্ত বলেই মনে করেন দলটির নেতাকর্মীরা। কারণ এই আসনে সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন একবার নির্বাচিত হয়েছিলেন।

 

মূলত গিয়াস উদ্দিনের পর বিএনপি এই আসনে বিএনপির আর কেউ জয়ী হতে পারেননি। এবং বিগত নির্বাচনগুলিতে গিয়াস উদ্দিন মনোনয়ন পাননি। তাই এবার বিএনপি নির্বাচনে গেলে তিনিই মনেনায়ন পাবেন বলে অনেকে মনে করেন।

 

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মাঝে এডভোকেট সাখাওয়াৎ হোসেন খান এগিয়ে রয়েছেন। কারণ দলের দুঃসময়ে তিনি বিগত দেড় যুগ ধরে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি অংশ নিয়ে মেয়র আইভীর সাথে বিপুল পরিমান ভোট পেয়েছিলেন। তাই এবারের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে তিনিই যে পাবেন দলটির মনোনয়ন এটা প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায়। তবে আতাউর রহমান মুকুলও বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলি জানিয়েছে।

 

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে এবারও কাজী মনির এবং মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দীপু দুজনেই বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন। তারা দুইজনেই মাঠে রয়েছেন। তাই এই আসনে এবার কে পান দলটির মনোনয়ন সেটা পরিষ্কার করে বলা যাচ্ছে না। কারণ দুইজনেই এবার নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। বিগত দুটি নির্বাচনে কাজী মনির মনোনয়ন পেলেও এবার দুইজনেই সমান সমান। তাই এবার দল কাকে বেছে নেয় সেটা পরিষ্কার করে বলা যাচ্ছে না।

 

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন তিনজন প্রার্থী। এরা হলেন সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ এবং বিএনপি নেতা মাহমুদুর রহমান সুমন। তবে নজরুল ইসলাম আজাদের মনোনয়ন লাভের সম্ভাবনাই বেশি বলে জানা গেছে। কারণ তিনি যেমনই হোক মাঠে রয়েছেন।

 

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জোড়ালো ভাবে মাঠে রয়েছেন আজহারুল ইসলাম মান্নান। তাই এবারও মান্নানের মনোনয়ন লাভের সম্ভানাই বেশি। যদিও রেজাউল করিমও মনোনয়ন চাইবেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। তবে এবার যারা আন্দোলনের মাঠে থাকবেন শেষ পর্যন্ত তারাই পাবেন বিএনপির মনোনয়ন। কারণ দেশের প্রত্যেকটি আসনে কারা বিএনপির জন্য কি ভূমিকা রাখছেন সেদিকে নজর রাখছেন তারেক রহমান নিজে। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন