দুইজনের ডাকে ৭০ ভাগ নেতা কোন কর্মসূচিতে আসেন না
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৩, ০২:৪০ পিএম
# মতপার্থক্য নিয়ে দুইজনই পৃথক প্রস্তাবিত কমিটি জমা দিয়েছেন
১০মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও হয়নি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। দীর্ঘ ২৫ বছর পর ২০২২ সালে ২৩শে অক্টোবর ইসদাইর পৌর ওসমানী স্টেডিয়ামে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন হওয়ার এক মাস আগের থেকে নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে ছিলো ব্যাপক উৎসাহ।
সেই সময় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মুখে শুধু ছিলো নারায়ণগঞ্জের দুই জন প্রভাবশালী নেতার নাম। একজন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ.কে.এম শামীম ওসমান ও অপর জন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভী’র।
সেই সময় এক পক্ষে চেয়ে ছিলো সংসদ শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আসুক ও অপর আরেক পক্ষ চেয়েছিলো নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভী সভাপতি পদে আসুক। তাদের এই দু’জনকে সভাপতি পদে দেখতে চেয়ে নারায়ণগঞ্জের তৃণমূল নেতাকর্মীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে লাগিয়ে ছিলো বড়-বড় ব্যানার ও ফেস্টুন।
কিন্তু সম্মেলণে তাদের কাউকেই কোন পদ দেওয়া হয়নি। এসময় সম্মেলনে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি আগামী তিন বছরের জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাইকে সভাপতি ও এড.আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলকে দ্বিতীয় বারের মতো সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাম ঘোষণা করেন।
একই সঙ্গে একমাসের মধ্যে তাদের পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটির খসড়া তালিকা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু কমিটি নিয়ে দু’ধারায় বিভক্ত হয়ে পরায় গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে পৃথক পৃথক ভাবে ৭৫ সদস্যের প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দেয় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক এড.আবু হাসনাত মো.শহিদ বাদল।
এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মুখে নানা আলোচনায় ছিলেন তারা। এদিকে পৃথক পৃথক ভাবে জমা হওয়া প্রস্তাবিত কমিটিতে যে সকল নেতার নাম বাদ পড়েছে বা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে তারা দৌড়-ঝাঁপ করছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা বিশেষ করে ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা আজম এমপি’র কাছে।
আর যারা তাদের দু’জনের প্রস্তাবিত কমিটিতে আছে তারা দাপকি মেরে চুপ করে বসে আছেন। বিভিন্ন সময় দলীয় কোন কর্মসূচি থাকলে পৃথক পৃথক ভাবে পালন করেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর হাই ও সাধারণ সম্পাদক এড.আবু হাসনাত মো.শহিদ বাদল।
এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এর প্রস্তাবিত ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে রয়েছেন- সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক এড.আবু হাসনাত মো.শহিদ বাদল। সহ-সভাপতি পদে রাখা হয়েছেন ১১জন’কে।
এরা হলেন, নাসিক মেয়র ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বাচ্চু, বীর মুক্তিযোদ্ধা খবির উদ্দিন। মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির, এস.এম জাহাঙ্গীর হোসেন, এড.হোসনে আরা বাবলী, আদিনাথ বসু, খন্দকার আবুল বাসার টুকু, মো.ছানাউল্লাহ, হাজী জসিম উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক পদে রয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম, ইকবাল পারভেজ, এড.মফিজউদ্দিন আহমেদ।
আইন বিষয়ক সম্পাদক এড.মাসুদ-উর রউফ, সাংগঠনিক পদে সুন্দর আলী, আবু সুফিয়ান, তাবিকুল কাদির তমাল, দপ্তর সম্পাদক এম.এ রাসেল, কৃষি ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকমো.সেলিম, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ নার্গিস আক্তার, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদকএড.কবির হোসেন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আবু দাইয়ান।
প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদকসালাউদ্দিন সিকদার, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আবদুল কায়উম খান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জালালউদ্দিন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদকমরিয়ম কল্পনা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক এড.নুরুল হুদা, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এরফান হোসেন দীপ, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক অধ্রক্ষ মোনতাজউদ্দিন মর্তুজা।
শিল্প ও বিষয়ক সম্পাদক শাহ আলম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোতাহার হোসেন ভুইয়া নাদিম, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা.নিজাম আলী , উপদপ্তর সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জুলহাস মিয়া, ও কোষাধ্যক্ষ মতিউর রহমান চেয়ারম্যান। এছাড়াও সদস্য পদে ছিলেন, গাজী গোলাম দস্তগীর এমপি, নজরুল ইসলাম বাবু এমপি, আব্দুল্লাহ আল কায়সার।
এনাজুর রহমান চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদা মহিউদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম.এ রশিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদঅন টুলু, এড.আনিসুর রহমান দিপু, এম.এ সালাম চেয়ারম্যান, আজিজুর হক আজিজ, মেজর (অব:)মশিউর রহমান, শাহজালাল মিয়া, মিয়া আলাউদ্দিন,এড.সামসুল ইসলাম ভুইয়া, ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম, মাহফুজুর রহমান কালাম, কাওছার আহমেদ পলাশ।
এড.সেলিনা আক্তার, আব্দুল মান্নান, ব্যরিষ্টার খান মো.শামীম, আফাজ খান, আমজাত হোসেন, তানভীর হাই, ইউনুস মিয়া, আশরাফুল আলম, মো.শাহজাহান ভূইয়া, শেখ সাইফুল ইসলাম, মাহবুবুল ইসলাম রাজন, ডা.অঅউয়াল, নাসরিন সুলতানা ঝরা, মনির হোসেন, এড.তায়েবুর , মতিউর রহমান, আলতাফ হোসেন, জাহাঙ্গীর মাস্টার, শাহজাহান মিয়া।
এছাড়াও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড.আবু হাসনাত মো.শহিদ বাদলের ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে সভাপতি পদে রাখা হয়েছে আব্দুল হাই’কে ও সাধারণ সম্পাদক এড.আবু হাসনাত মো.শহিদ বাদল। এছাড়াও প্রস্তাবিত কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে রাখা হয়েছে ১১জনকে।
সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে রাখা হয়েছে নাসিক মেয়র ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ও তার সাথে রাখা হয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু চন্দন শীলকে। এছাড়াও সহ-সভাপতি পদে রাখা হয়েছে ফয়েজ উদ্দিন আহম্মেদ লাভলু, মুক্তিযোদ্ধা মনির হোসেন, শরফুদ্দিন আহমেদ, মো.সিরাজুল ইসলাম, মো.সানাউল্লাহ, অনুপ কুমার সাহা ও মাসুদ চৌধুরী মজনু।
যুগ্ম সম্পাদক পদে ডা.আবু জাফর চৌধুরী বিরু, নাজমুল আলম সজল ও মীর সোহেল। সাংগঠনিক পদে মাহবুবুর রহমান রোমান, জাহাঙ্গীর হোসেন, ফায়জুল ইসলাম। দপ্তর সম্পাদক এম এ রাসেল, উপ দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুল ইসলাম রাজন, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড.মো. মাসুদর রউফ, কৃষি ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক দীপক কুমার বনিক দিপু।
তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মুজাম্মেল হক জুয়েল, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আলমাছ ভূইয়া, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সামছুদ্দিন খান আবু, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মো.নাসির উদ্দিন নাসির, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. মোসাদ্দেক হোসেন পানু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মেজ মশিউর রহমান বাবুল।
মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদা আক্তার ফেনসি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন টুলু, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক মীর্জা সোহেল, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক মো.হায়দার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক আরমান হোসেন জুয়েল, উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জিল্লুর রহমান লিটন ও কোষাধ্যক্ষ কাজী সুমন।
এছাড়াও সদস্য হিসেবে রয়েছেন একেএম শামীম ওসমান এমপি, নজরুল ইসলাম বাবু এমপি, গাজী গোলাম দস্তগীর এমপি, এড.সামসুল ইসলাম ভুইয়া, আব্দুল্লাহ আল কায়সার, মো.শাহজাহান ভূইয়া, এম এ রশিদ, মো. সাইফুল্লাহ বাদল, মো.শওকত আলী, তোফাজ্জেল হোসেন মোল্লা, ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম, কাজিম উদ্দিন প্রধান, মানজারি আলম টুটুল, আজিজুল হক ভূইয়া।
খোরশেদ আলম, মিয়া মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, হালিম শিকদার, মনির শিকদার, এড.আবু তাহের ফজলে রাব্বী, এড.মনিরুজ্জামান বুলবুল, নাহিদা হসনাত, প্রফেসর শিরিন বেগম ফেরদৌসি নিলা, সীমা রানী, এহসানুল হাসান নিপু, শাহাদাত হোসেন ভূইয়া সাজনু, এড.হাসান ফেরদৌস জুয়ের, এড, মহসিন, সুন্দর আলী, নজরুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, মেখ সাইফুল ইসলাম, মো আলী হোসেন, মো.আবু শরীফুল হক।
কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির অনেক নেতাই দলীয় কোন কর্ম সূচিতে থাকেন না। আব্দুল হাই এর কর্মসূচিতে এড.আনিসুর রহমান দিপু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বাচ্চু, বীর মুক্তিযোদ্ধা খবির উদ্দিন, মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, এড.হোসনে আরা বাবলী, জসিম উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম, মরিয়ম কল্পনা, এরফান হোসেন দীপ।
মেহেদী হাসান রবিন সহ আরও ৪-৫ জন ছাড়া বাকি কেউ থাকেন না। আগের কমিটিতে আদি নাথ বসু, ডা.নিজাম আলী, সুন্দর আলী, আবু সুফিয়ান, ইকবাল পারভেজ সহ অনেকের যখন পদ ছিলো তখর তারা দলীয় কর্মসূচিগুলো আসত। কিন্তু পদ না থাকায় তারা এখন আসে না।
এদিকে আবার সাধারণ সম্পাদক এড.আবু হাসনাত মো.শহিদ বাদলের পৃথক কর্মসূচিতেও ডা.আবু জাফর চৌধুরী বিরু ও এম.এ রাসেল ছাড়া কেউ নেই। বাদল সোনারগাঁ, গোননগর, আলীরটেক ও বন্দরের কর্মীদের এসে কর্মসূচি করে। কিন্তু তার এই ৭৫ জন এর কমিটির নামের মধ্যে শুধু ৪-৫জন ছাড়া কেউ আসে না।
অথচ তারা দুই জনে ৭৫ জন করে প্রস্তাবিত কমিটিতে নাম দিলেও সেই লোকগুলো কোন কর্মসূচিতে নেই। এবিষয়ে আওয়ামীলীগের একজন নেতা জানান, যারা কোন কর্মসূচিতে আসে না তাদের নাম জেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে। আগে যকন পদ ছিলো তখন নেতারা আসত, এখন পদ না থাকায় তারা আসেন না, এরা পদের নেতা। এন. হুসেইন রনী /জেসি


