২৯ জুলাইয়ের উপর নির্ভর করেই আসছে জেলা যুবদল
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৩, ০৯:২১ পিএম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির গতিশীল আন্দোলনের দ্বারা আরো বেগবান ঘটাতে অঙ্গসংগনগুলোর কমিটি নিয়ে ভাবছে দলটির নীতি নির্ধারকরা। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার পুরোনো অঙ্গসংগঠনগুলো বিলুপ্ত করে নয়া রূপে আরো শক্তিশালীভাবে গঠন করছে দল। এমতা অবস্থায় আন্দোলনের সুতিকাগার নারায়ণগঞ্জ বিগত দিন থেকেই এই জেলার রাজনীতির দিকে চোখ থাকে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের।
বর্তমানে ও বিএনপির এই জোড়ালো আন্দোলণকে ঘিরে এই জেলার নেতৃবৃন্দের প্রতি বিশেষ নজর রয়েছে দলটির নেতাকর্মীদের। সেই ধারাবাহিকতায় ও নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলকে আরো গতিশীল করার লক্ষে শীঘ্রই কেন্দ্র থেকে আসতে যাচ্ছে জেলা যুবদলের গতিশীল নয়া কমিটি। জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিকে লক্ষ্যে করেই কমিটি ঘোষণা করা হবে। আর যারা সাহসী ভূমিকা রেখে অবস্থান কর্মসূচিকে সফলের লক্ষে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন তারাই দায়িত্ব পাবে বলে জানা গেছে।
নেতাকর্মীরা বলছে, বর্তমানে জেলা যুবদল মশিউর রহমান রনির নেতৃত্বে বিগত দিন থেকে বর্তমানে আরো অনেকটাই শক্তিশালী রয়েছে। জানা গেছে, জেলা যুবদলের কমিটির আহ্বায়ক গোলাম ফারুক খোকন মূল দলে চলে যাওয়ায়। দীর্ঘ ৮/৯ মাস যাবৎ জেলা যুবদলের কমিটিতে আহ্বায়কের পদ ফাঁকা রয়েছে। কিন্তু সকল সময়েই জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খোকন সংগঠনটিকে সুসংগঠিত ও রাজপথে ব্যাপক ভূমিকা পালনের লক্ষে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক থাকা সত্ত্বে ও এই সংগঠটিতে ব্যাপক পরিশ্রম দিয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু সর্ব সময় জেলা যুবদলের হাল ধরে রেখেছে সংগঠনটির সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি। তিনি এককভাবে জেলা যুবদলের ১০ ইউনিটের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় হিসাবে জেলা যুবদলের একটি তরুন্যের কমিটি প্রয়োজন সেই লক্ষ্যে আসছে জেলা যুবদলের কমিটি। যার পরিপ্রেক্ষিতে আহ্বায়কের দায়িত্ব নিতে যোগ্য ও অযোগ্য অনেক নেতাকর্মীরই নানাভাবে গ্রুপিং ও লবিং করে যাচ্ছে। যে যার যার মতো করে বলয় দ্বারা নেতাকর্মী নিয়ে যুবলদের আলাদা ব্যানারে দলীয় সকল কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। কিন্তু এবার মোড় দেখা যাচ্ছে অন্য দিকে।
জানা গেছে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে যে ২৯ জুলাই বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিতে যাদের ব্যাপক ভূমিকা ছিলো তারাই আগামীতে পদপদবীতে আসতে পারবে। সেই লক্ষ্যে নিয়েই বর্তমানে দলের নতুন নেতৃত্বসহ ছাটাই কার্যক্রম ও অবহৃত রয়েছে। এদিকে ২৯ জুলাইয়ের নারায়নগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জ চিটাগাং রোডের অবস্থান কর্মসূচিতে ব্যাপক ভূমিকা ছিল জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি যিনি বর্তমানে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও সভাপতি পদপ্রার্থী অপর দিকে রয়েছে সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম স্বপন তিনি ও বর্তমানে জেলা যুবদলের সভাপতি প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন অপর দিকে আছেন রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম প্রিন্স যিনি বর্তমানে সভাপতি প্রার্থী হিসেবেই রয়েছেন।
এছাড়াও আরো অনেক পদ পত্যাশীরা সেদিনের কর্মসূচিতে অংশ গ্রহন করেছেন। যা নিয়ে বর্তমানে জোড়ালো আন্দোলন শুরুর আগেই নয়া কমিটির আশ্বাস পেয়ে আছে নেতাকর্মীরা। আর তৃণমূলের দাবি, ২৯ জুলাইয়ের ভূমিকা দেখেই যদি কমিটি গঠন করা হয় তাহলে বিগত দিনে জেল যুবদল আরো সুসংগঠিত হবে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০২২ সালের ১৬ মার্চ কেন্দ্রীয় যুবদলের দপ্তর সম্পাদক কামরুজ্জামান দুলাল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষনা করা হয়েছিল, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের তিন সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি। কমিটিতে গোলাম ফারুক খোকনকে আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান রনিকে সদস্য সচিব করা হয়। গঠিত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় ভিপি কবিরকে। তারপর থেকেই ব্যাপক ভূমিকাভাবে পালিত হচ্ছিল জেলা যুবদলের রাজনীতি।
সকল আন্দোলন সংগ্রামে দেখা গেছে গোলাম ফারুক খোকন ও মশিউর রহমান রনির নেতৃত্বে নগরীতে বিশাল বিশাল শোডাউন। কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি বেশিদিন, কমিটি হওয়ার ছয় মাসের মাথায় গত বছরের ১৫ নভেম্বর ঘোষনা করা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ৯ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি যেখানে সদস্য সচিব করা হয় জেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম ফারুক খোকনকে। ফলে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক পদটি খালি হয়ে যায়।
তারপর থেকেই জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির একক নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে জেলা যুবদলের ঐক্যবদ্ধ রাজনীতি। কিন্তু গোলাম ফারুক খোকন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হওয়ার পর থেকেই তার মাথায় আলাদা একটা চাপ প্রয়োগ হওয়া শুরু করে। যার ফলে একলা দুই সংগঠনের মূল পদে বসে সংগঠন পরিচালিত করা তার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠছে না।
কিন্তু যখনই একটু সময় পায় তখনই জেলা যুবদলের সাথে দলীয় আলাপ আলোচনা করে থাকে গোলাম ফারুক খোকন তার পাশাপাশি জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনিকে ও নানা দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকে সংগঠন পরিচালনার লক্ষে। কিন্তু সংগঠনের আহ্বায়ক পদে যোগ্য নেতা পদায়ন ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষে কেন্দ্রীয় যুবদল বলেছে অতি শীঘ্রই জেলা যুবদলের নতুন কমিটি গঠন করা হবে।
সেই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা যুবদলের নয়া কমিটিতে আসতে ইতিমধ্যেই অনেক নেতা নিজস্ব কর্মীবন্ধব নিয়ে দলীয় সকল কর্মসূচিতে আলাদা আলাদাভাবে জেলা যুবদলের নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের ভিন্নভিন্ন অবস্থান থেকে জেলা যুবদলের ব্যানারে চালিয়ে আসছে জেলা যুবদলের রাজনৈতিক কার্যক্রম। জেলা যুবদলের নেতৃত্ব প্রত্যাশী প্রায় ডজন খানেক নেতা দলের কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। নানা বলয় ও গ্রুপিংয়ের কারনে জেলা যুবদলের কমিটি গঠন জটিল আকার ধারণ করেছে, যার ফলে জেলা যুবদলের কমিটি আসছেনা বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।
যার কারণে আহ্বায়ক পদায়ন করে নয়া কমিটি গঠনের জন্য বার বার পিছিয়ে পরছে কেন্দ্র। ইতিমধ্যে প্রায় ১০ মাস চলছে নয়া কমিটি গঠনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন কেন্দ্র্র। কিন্তু এখনও কোনভাবেই কমিটি গঠনের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের জাগিয়ে তুলতে পারছে না কেন্দ্র। অপরদিকে জেলা যুবদলের বর্তমান কমিটির সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি এককভাবে সকল নেতাকর্মীদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের কমিটিতে স্থান পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন অনেকেই। কিন্তু যারা ২৯ জুলাইয়ের কর্মসূচিতে একটি ভূমিকা রেখেছেন তাদের হাতেই দল দায়িত্ব তুলে দিবে কারণ সাহসের মাধ্যমেই আগামীতে দলকে সামনে দিকে অগ্রসর করতে হবে।
বর্তমানে জেলা যুবদলের কমিটিতে আলোচনায় আসছে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, বাংলাদে যুবদলের কার্যকরী কমিটির ১নং সদস্য সাদেকুর রহমান সাদেক, সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের আহবায়ক সহিদুর রহমান স্বপন, রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম প্রিন্স, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি আনিরুল ইসলাম ইমন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম সজিব, ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান মাসুদ, আড়াইহাজার যুবদল নেতা জাহিরুল ইসলাম জহির, হারুনর রশিদ মিঠু, নূর ইয়াসিন নোবেল, সালাউদ্দিন। এদের থেকে দল যাদেরকে সুশৃঙ্খল মনে করে তাদের হাতেই সংগঠন তুলে দিবে। আর ওই নেতৃত্বেই আগামীতে জেলা যুবদলের দফায় দফায় চমক প্রদর্শন হবে।
এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি যুগের চিন্তাকে বলেন, বর্তমানে জেলা যুবদল বিগত দিন থেকে অনেকটাই উজ্জ্বীবিত। আর ইতিমধ্যে বিএনপির যতগুলো কর্মসূচি হয়েছে সকল কর্মসূচিতে অন্য জেলা থেকে বেশি ভূমিকা রেখেছে এই নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদল। আর বর্তমানে জেলা যুবদলের ১০টি ইউনিটের নেতৃবৃন্দরা অনেকটাই উজ্জ্বীবিত। আর সামনে যে কোন কর্মসূচি দিলে জেলা যুবদল অনেকটাই শক্তিশালী হয়ে রাজপথে থাকবে।
আর কমিটি গঠন কিন্তু একটি চলমান প্রক্রিয়া এটা সংগঠনের স্বার্থেই গঠন করা হয়। আর এর মাধ্যমেই জেলা যুবদল আরো গতিশীল হবে। আর দল যখন সিদ্ধান্ত দিবে কমিটি হয়ে যাবে। আর গত ২৯ জুলাই বিএনপির অবস্থান কর্মসচিকে ঘিরেই নয়া কমিটি আসবে আর যারা এই অবস্থান কর্মসূচিকে প্রাধান্য দিয়েছেন তারাই মূল্যায়িত হবে আর যারা প্রাধান্য দেয়নি তারা কোন পদে পদায়ন হবে না বলে আমরা মনে করছি।
রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম প্রিন্স যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা ইতিমধ্যে অনেকটাই শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে আসছি। আর সকলেই অবগত আছেন বর্তমান কর্মসূচিতে জেলা যুবদলের আওতাধীন রূপগঞ্জ উপজেলা সকল থানা থেকে বেশি নেতাকর্মী নিয়ে কর্মসূচি সফলের লক্ষে আসে।
আর বিগত দিনে ও আমরা দলের পক্ষে সংগঠনের পক্ষে কাজ করেছি আর বর্তমানে ও করে যাচ্ছি। ২৯ জুলাই বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের সাথে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে আমরা ও সেখানে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে এসেছি। আর বর্তমানে আমি জেলা যুবদলের সভাপতি প্রার্থী হিসেবে রয়েছি দল যদি আমাকে দায়িত্ব দিলে সংগঠন আরো সুসংগঠিত হবে তাহলে আমাকে দায়িত্ব প্রধান করবে। আর বর্তমানে আমরা সকলেই ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। এস.এ/জেসি


