Logo
Logo
×

রাজনীতি

অনৈক্যের মাঝে দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় হাই-বাদল

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৩, ০৮:১০ পিএম

অনৈক্যের মাঝে দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় হাই-বাদল
Swapno

 

জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ততই বাড়ছে। নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশা, স্থানীয় রাজনীতিতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা, নিজস্ব বলয় তৈরিসহ নানা কারণে বিরোধে জড়িয়ে পড়ছেন নেতারা। কেন্দ্রীয় নেতাদের তৃণমূলে সফর বৃদ্ধি, ঢাকায় ডেকে মীমাংসা করাসহ নানা উদ্যোগ থাকলেও এগুলো বন্ধ হচ্ছে না। দলের অব্যাহত অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিয়ে চিন্তিত ক্ষমতাসীনরা।

 

এমতাবস্থায় নির্বাচনের আগে অভ্যন্তরীণ ঐক্য আরও সুদৃঢ় করতে চায় আওয়ামী লীগ। এছাড়া ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন দলের দলীয় সভানেত্রী দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর। দলের সংসদ-সদস্য ও মনোনয়ন প্রত্যাশীরা একে অপরের বিরুদ্ধে কুৎসা রটালে মনোনয়ন বঞ্চিত করাসহ দলীয় পদও হারাতে হতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া দলের বিভিন্ন পর্যায়ে ত্যাগীদের সামনে আনার বিষয়ে সভায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

এদিকে গত বছরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পর থেকে সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল পৃথক ভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনাকেও তোয়্ক্কাা করা হচ্ছে না। বিএনপির আন্দোলনের বিরুদ্ধে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনেও একই সময়ে এই দুই নেতাকে পাল্টা পাল্টি শান্তি সমাবেশ করতে দেখা গেছে। সেখানেও তাদের দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

 

সম্প্রতি ৬ আগস্ট গণভবনে ডেকে নিয়ে সকল জেলা মহানগর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সেক্রেটারি ও এমপি মন্ত্রীদের নিয়ে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ওই ৪৩ টি জেলার নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দিতে পারলেও নারায়ণগঞ্জের নেতারা পারেন নাই। তবে এই সভায়ে দলীয় কোন্দলের বিষয়ে নিরসনের জন্য গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সেই সাথে নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ ভাবে মাঠে নামার জন্য সকলকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু আগস্ট মাস হলো শোকের মাস। এই মাস জুড়ে আওয়ামী লীগের কর্মসুচি থাকে।

 

কিন্তু ১৫ আগস্টের আগে পরেও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদলকে পৃথক ভাবে কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। দুজনেই আলাদাভাবে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আলাদা ভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এতে করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরেও যে তহাদের মাঝে ঐক্য না হয়ে বিভেদ রয়েছে তা পরিষ্কার ভাবে বুঝা যাচ্ছে। আর এ নিয়ে রাজনীতিতে বলাবলি হচ্ছে অনৈক্য নিয়েও জেলার দুই নেতা পৃথক ভাবে দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন।  

 

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, দলীয় সভানেত্রী (শেখ হাসিনা) দলের ঐক্যের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিগুলোতে দলের ত্যাগী ও দুর্দিনের কর্মীরা যেন বাদ না পড়েন সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির সময় যেসব অনিয়ম-দুর্নীতি এবং জনগণের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে, সেগুলো তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত মানুষের কাছে গিয়ে বলতে হবে। এছাড়া সরকারের সময়ে যে উন্নয়ন কর্মকান্ড হয়েছে তুলে ধরতে হবে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগে সারা দেশের বেশিরভাগ নির্বাচনি আসনেই দলীয় সংসদ-সদস্য এবং জেলা-উপজেলার নেতা এবং দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বিরোধ তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গাতেই মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এমপিদের সমালোচনা করে প্রকাশ্যে বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন। স্থানীয় নেতা বা দলের জনপ্রতিনিধি যারা নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চান তাদের অনেক এলাকাতেই এমপিদের বিরুদ্ধে একজোটও হতে দেখা গেছে। আবার এমপিরাও নিজেদের মতো করে তৈরি করেছেন আলাদা বলয়।

 

এসব বিষয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পাহাড় কেন্দ্রেও জমা হয়েছে। এতে সুযোগ পাচ্ছে বিরোধীরা। দিন শেষে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দল। অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের সমালোচনা করতে গিয়ে দল ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলা হচ্ছে। এছাড়া এমপিদের ঘিরে এই ক্ষোভ-বিক্ষোভ ও অসন্তোষের তথ্য উঠে এসেছে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার কাছেও। ৬ আগস্ট তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে টানা কয়েক ঘণ্টা বৈঠক করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সেখানে তৃণমূল নেতাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন দলীয় প্রধান।

 

তারা নিজেদের দাবি এবং অভিযোগ বিষয়ে সভাপতিকে অবগত করেন। কিছু কিছু এলাকায় এমপিদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের মাত্রায় রীতিমত উদ্বিগ্ন শীর্ষ নেতারা। এরই প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বিভেদ ভুলে টানা চতুর্থবারের মতো দলকে ক্ষমতায় আনার নির্দেশনা দিয়েছেন। দল যাকেই মনোনয়ন দেবে আগামী নির্বাচনে তাকে বিজয়ী করতে বলেছেন।

 

এই দিক দিয়ে এক বছর আগে থেকেই বিভিন্ন সভায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান দলীয় নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ তাকার আহ্বান করে যাচ্ছেন। এমনকি তিনি নিজেও ঐক্যের আহ্বান করছেন। কেননা আগামী নির্বাচনে নিজেদের মাঝে ঐক্য থাকলে তাদেয়র জয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। যদিও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের উত্তর দক্ষিন বলয় নিয়ে একই দলের দুই জনপ্রতিনিধির মাঝে শত্রুতা প্রকাশ্যে আসে।

 

আর সেটা হলো উত্তর বলয়ের প্রভাবশালী নেতা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান দক্ষিন বলয়ের নেত্রী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী। এই দুই জনপ্রতিনিধি বিভিন্ন একে অপরকে উচ্চ বাক্য করে বক্তব্য রাখেন। তাদের এই দ্বন্দ্ব বিভিন্ন সময় নিরসনের জন্য কেন্দ্রীয় নেতারার একাধিকবার বসলেও তা নিরসন করা সম্ভব হয়ে উঠে নাই।

 

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল বলেন, নির্বাচনের নীতিমালার পরিবর্তন চাই। দলীয় প্রধানের পদটি ব্যতীত সমস্ত এলাকার এমপিদের বিষয়ে আমরা বলতে চাই এক ব্যক্তি একাধারে সর্বোচ্চ দুইবার নির্বাচন করে এমপি হতে পারবেন। তারপর দুইবার নির্বাচন থেকে বাহিরে থাকবেন। পঞ্চমবার আবারও তিনি নির্বাচন করতে বা এমপি হতে পারবেন। তাতে আমাদের কোন আপত্তি নাই, তবে পরিবর্তন দরকার।

 

আর না হলে রাজার ছেলেরা যুবরাজ, যুবরাজের ছেলেরা নবাব সিরাজউদ্দৌলা, তারপর গজিয়ে ওঠে মীর জাফর আলী খাঁ, খন্দকার মোস্তাক। যারা নাকি রাতের আধারে আমার নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির সাথে যোগাযোগ করা হলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন