# দশ বছর চামচা পরিবেষ্ঠিত থেকে এখন কেনো জনগনের কাছে যাচ্ছেন?
২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন যখন একেবারে দোড়গোড়ায় তখন এই নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যাপক তৎপরতা দেখাচ্ছেন শামীম ওসমান। বিগত দশ বছরে তিনি দুই বার এমপি হয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জনগনের কোনো খোঁজ রাখেন নাই। কিছু চেলা বা চামচা পরিবেষ্ঠিত থেকেই তিনি জনগনের প্রতি তার দায় সেড়েছেন। ফলে তার এলাকার জনগনের ক্ষতি যা হবার তা হয়ে গেছে। বিশেষ করে ফতুল্লার জনগন অতি নিষ্ঠুর ভাবে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন।
এক কথায় বলতে গেলে ফতুল্লা থানা এলাকার কোনো কাজই করেননি এই দাপুটে এমপি। যার ফলে এই অঞ্চলের মানুষ জলাবদ্ধতা, যোগাযোগে প্রতিবন্ধকতা, শিক্ষা, চিকিৎসা থেকে শুরু করে সর্ব ক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়েছেন। তবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সিদ্ধিরগঞ্জবাসী বেঁচে গেছেন ওই থানা এলাকাটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভূক্ত হওয়ার কারণে। সিদ্ধিরগঞ্জে সিটি করপোরেশনের মেয়র আইভী ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তার সব উন্নয়নই দৃশ্যমান। কিন্তু ফতুল্লার জনগন ভয়ংকর ভাবে ভূগছেন।
গত কয়েকদিন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে এমন তথ্যই জানা গেছে। ফতুল্লাবাসী জানিয়েছেন এই থানার পাঁচটি ইউনিয়নে শামীম ওসমানের নামে একটি লুটেরা চক্র গড়ে উঠেছে। এরা জনগনকে নানা ভাবে শোষন করছে। ভূমি দস্যুতা আর চাঁদাবাজীর মধ্য দিয়ে এরা গোটা ফতুল্লা থানা এলাকার জনগনকে একেবারে জিম্মি করে রেখেছেন। কিন্তু এমপি হয়ে শামীম ওসমান কোনো খবরই রাখেননি। আর রাখলেও তিনি কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি।
বরং এদেরকে শেল্টার দিয়ে এসেছেন। তাই শামীম ওসমান এখন আর জোর দিয়ে বলতে পারছেন না তিনি একজন এমপি হয়ে বিগত দশ বছরে তার এলাকার জনগনের জন্য কি কাজ করেছেন? এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদগুলি যে কাজ করেছে তা ছিলো রুটিন ওয়ার্ক। তাও আবার লুটপাটের মধ্য দিয়েই কিছু রাস্তাঘাটের রক্ষনাবেক্ষন কাজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন এলাকার মানুষ। তারা নতুন কোনো রাস্তা নির্মান করেননি। বরং পূরনো রাস্তাগুলি আরো সংকীর্ণ করেছে। ফলে ফতুল্লার অনেক এলাকার রাস্তা দিয়েই জরুরী সার্ভিসের গাড়ি তথা ফায়ার সার্ভিস এবং এম্বুলেন্স ঢুকতে পারে না।
আর এসব নিয়ে এমপির কোনো পরিকল্পনাও ছিলো না। অথচ সিদ্ধিরগঞ্জে মেয়র আইভী বহুন নতুন রাস্তা নির্মান করেছেন এবং পূরনো রাস্তাগুলি প্রশস্ত করেছেন। তাই সংসদ সদস্য শামীম ওসমান নির্বাচনের এই আগ মুহুর্তে এসে যে তৎপরতা দেখাচ্ছেন তাতে তার কতোটুকু লাভ হবে সেই প্রশ্ন রয়েছে। কারণ তার হাতে আর চার মাস সময়ও বাকী নেই। তাই এই চার মাসে তিনি তেমন কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারবেন না বলেই মনে করেন এলাকার ভোটাররা।
এদিকে বিগত দশ বছর তিনি কেনো এলাকাবাসীর কোনো খোঁজ রাখলেন না? আর এখনইবা কেনো মাঠে নামলেন এই দুটি প্রশ্নের জবাবে ফতুল্লার জনগনের মতামত হলো শামীম ওসমান হয়তো মনে করছেন বিগত দুটি নির্বাচনে তিনি যেভাবে এমপি হয়েছেন এবার আর তেমনটা সম্ভব হবে না। এবার তাকে জনগনের ভোট নিয়েই এমপি হতে হবে। এ যাবৎ মিডিয়ায় প্রকাশিত বিভিন্ন সূত্রমতে দশ বছর আগে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন বিনা ভোটে, আর গত নির্বাচনে তিনি এমপি হয়েছেন রাতের ভোটে।
কিন্তু গত এক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের স্যাংশান এবং ভিসা নীতি, ইউরোপীয় ইউনিয়েন কঠোর অবস্থান এবং দেশের সব বিরোধী দলের এক সুরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি সহ নানা কারণে তিনি হয়তো ভাবছেন এবার আর জনগনের ভোট ছাড়া নির্বাচনে জিতার কোনো উপায় থাকবে না। আর এ কারণেই তিন এবার জোর কদমে মাঠে নেমেছেন। কিন্তু তিনি ফতুল্লার জনগনের প্রতি টানা দশ বছর যে চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছেন তাতে তিনি এই চার মাস জনগনের কাছে গিয়ে পার পাবেন না কিনা সেটা বুঝা যাচ্ছে।
মানুষ যদি শামীম ওসমানের একজন বিকল্প প্রার্থী পান আর জনগন যদি ভোট দিতে পারে তাহলে পরিস্থিতি তার অনুকুলে নাও থাকতে পারে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে মেয়র আইভীর সাথে তিনি যে পরিনতি বরণ করেছিলেন তেমন কিছুই অপেক্ষা করছে বলে অনেকে মনে করেন। তাই শামীম ওসমান অনেকটা দেরি করে ফেলেছেন বলেই এলাকাবাসীর অভিমত। এস.এ/জেসি


