# শামীম ওসমানকে মোকাবেলায় কোনো বড় প্রস্তুতির দরকার নেই
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমানকে আগামী নির্বাচনে মোকাবেলা করতে বড় কোনো প্রস্তুতির দরকার নেই বলে মনে করেন এই আসনের বিএনপি নেতাকর্মীরা। তারা মনে করেন নির্বাচন যদি অংশগ্রহনমূলক হয় এবং অবাধ ও সুষ্ঠু হয় তাহলেই এবার বিপুল ভোটে জয় লাভ করবে বিএনপির প্রার্থী। গতকাল ফতুল্লা এবং সিদ্ধিরগঞ্জের মাঠ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সাথে আলাপকালে তারা এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
গতকাল এ প্রতিনিধির সাথে থানা পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতার আলাপ হয়। এদের মাঝে রয়েছেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার মনিরুল ইসলাম, থানা বিএনপির সহসভাপতি হাজী মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট বারী ভুঁইয়া, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ বলেন এটা ঠিক যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান এ দেশের রাজনীতিতে ব্যাপক পরিচিত একজন নেতা।
কিন্তু তা সত্ত্বেও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠু হয় এবং সেই নির্বাচনে বিএনপি যদি অংশগ্রহন করে তাহলে এবার শামীম ওসমানকে ভোটের রাজনীতিতে মোকাবেলা করা মোটেও কঠিন কিছু হবে না। কারন তারা মনে করেন এবার বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন হবেন তাদের প্রার্থী। আর সেই ক্ষেত্রে ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে এই আসনের জনগন বিএনপিকেই ভোট দেবে। যে সকল কারণে বিএনপিকে ভোট দেবে বলে তারা মনে করেন সেই সকল কারণের মাঝে রয়েছে,
১) বিগত দুটি নির্বাচনে জনগন ভোট দিতে না পারায় এমনিতেই আওয়ামী লীগের উপর সারা দেশের মানুষই ক্ষুব্দ। তাই যে দলটি জনগনের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে সেই দলকে জনগন ভোট দেবে না বলেই মাঠে ঘাটে জোরালো আওয়াজ রয়েছে। তাই মানুষ যদি ভোট দেয়ার সুযোগ পায় তাহলে তারা আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম ওসমানকে ভোট না দিয়ে বিএনপির প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনকেই ভোট দেবে বলে তারা মনে করেন।
২) আওয়ামী লীগ উন্নয়নের কথা বললেও বাস্তবতা হলো বিগত পনেরো বছরে কিছু উন্নয়ন হয়েছে এটা কেউ অস্বীকার করবে না। কিন্তু উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতি লুটপাটের বিষয়গুলি নিয়ে প্রায় প্রতিনিয়তই বিভিন্ন মাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশ হচ্ছে। বিদেশে মোটা অংকের টাকা পাঁচার হয়েছে। তাই জনগনের সম্পদ লুটপাট করার কারনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে জনগন ভোট দেবে না বলে তারা মনে করেন।
৩) দেশে দ্রব্যমূল্য এমন অবস্থায় গিয়ে ঠেকেছে যে প্রায় সব কিছুই সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে গেছে। তাই বিভিন্ন পরিসংখ্যান মতে দেশের অধিকাংশ মানুষ এখন অর্ধাহারে, অনাহারে জীবন কাটাচ্ছে। মানুষ মনে করে সরকার তার অনুগত ব্যবসায়ীদের সিন্ডিক্যাট করে দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে। দ্রব্যমূল্যের কারনে কষ্টে থাকা মানুষ আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে না।
৪) কোনো একটি দল এমনিতেও পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকলে নানা কারণে তাদের জনপ্রিয়তা কমে যায়। পরের নির্বাচনে আর তারা জিততে পারে না। আর এই সরকার জোর করে পনেরো বছর ধরে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে রেখেছে। তাই এই সরকারের মনোনীত প্রার্থীকে মানুষ ভোট দেবে না।
মূলত এই চারটি বড় কারণে এবার সুযোগ পেলে জনগন বিএনপির প্রার্থীদেরকেই ভোট দেবে বলে তারা মনে করেন। এছাড়াও স্থানীয় পর্যায়ে শামীম ওসমান এমপি উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। জলাবদ্ধতার কারণে কষ্ট করছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এলাকার মানুষ। এছাড়া সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি মাদক ব্যবসা এবং ভূমি দস্যুতাতো রয়েছেই। তাই এবার যদি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয় তাহলে বিএনপির প্রার্থীকেই নারায়ণগঞ্জের জনগন ভোট দেবে বলে বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতারা মনে করেন। এস.এ/জেসি


