Logo
Logo
×

রাজনীতি

হুঙ্কারে কুপোকাত ল্যাতা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৩, ০৮:২৩ পিএম

হুঙ্কারে কুপোকাত ল্যাতা
Swapno

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল ওরফে ভিপি বাদলকে নারায়ণগঞ্জবাসী ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে জানেন। আর এই ওসমান পরিবারের বদৌলতেই তিনি পদ-পদবীসহ নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একটি অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি।

 

আর তাইতো এবারের জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দিতে হবে বলে নারায়ণগঞ্জ-বন্দর আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে ওঠে আসা নেতা কর্মীদের প্রাণের দাবির প্রতি সমর্থন জানালেও আবার সেখান থেকে সরে আসেন তিনি। অনেকের মতে এর আগে অর্থাৎ প্রায় তিন বছর আগে ভিপি বাদলকে ল্যাতা (নেতা) উল্লেখ করে নিজের থাবাকে বাঘের চেয়েও বেশি ভয়ঙ্কর বলে সাবধান করে দিয়েছিলেন।

 

আর জাতীয় পার্টির সাংসদের সেই হুঙ্কারেই আওয়ামী লীগের এই নেতা কুপোকাত হয়েছেন বলে মনে করেন তারা। যার কারণে সদর-বন্দরের আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে ওঠে আসা নেতা কর্মীদের প্রাণের দাবির সাথে সহমত পোষণ করলেও সেই একই সাংসদের হুঙ্কারের পরপরই ফিরে লেজ গুটিয়ে নেন তিনি।

 

গত ১৫ আগস্ট নবীগঞ্জে অবস্থিত জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগকে জাতীয় পার্টির সাথে রেষারেষি না করার হুশিয়ারী দেন সেলিম ওসমান। আর এরপর থেকেই নৌকার সরাসরি দাবি থেকে সরে এসে এখন নেত্রীর উপর ছেড়ে দেন তিনি।

 

সম্প্রতি বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের তৃণমূলসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসন থেকেই নৌকা প্রতীকের দাবি জানান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল। কিন্তু গত ১৫ আগস্টে এমপি সেলিম ওসমান বলেন, আমার আওয়ামী লীগের ভাইদের কাছে অনুরোধ রাখলাম রেষারেষি করবেন না। অন্তত আমাদের এই সদর বন্দর নারায়ণগঞ্জে কোনো রকম রেষারেষি করবেন না।

 

আমি যতক্ষণ আছি আমার সাথে যারা আছে তারা সবাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক। আমাদের সাথে রেষারেষি করার চেষ্টা করবেন না। আমি অনুরোধ করলাম স্থানীয় আওয়ামী লীগ যারা করেন আমাদের সাথে রেষারেষি কইরেন না। এরপর থেকেই এই এমপির বিরাগভাজন থেকে বাঁচতে কথার সুর পাল্টে ফেলেন তিনি। যা এবারই প্রথম না এর আগেও বেশ কয়েকবার এমপির বিরাগভাজন হয়ে তার কথার সুর পাল্টিয়েছেন তিনি।

 

এর আগে ২০২০ সালের ২৯ জুন বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে বন্দরের ফরাজিকান্দায় অনুষ্ঠিত এক কর্মসূচিতে ভিপি বাদল বলেন, ‘বন্দরে আওয়ামী লীগের কোনো এমপি নেই। বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রশিদ ভাই-ই বন্দরের এমপি।’ এর ৩/৪ দিন পর এর উত্তরে খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের একটি অনুষ্ঠানে এমপি সেলিম ওসমান ভিপি বাদলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি (বাদল) চাষাঢ়া রেলওয়ে হেড কোয়ার্টারে থাকতেন।

 

একজন এমপি সাহেবের আশীর্বাদে উনি বলে এখন ল্যাতা (নেতা)। তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন ‘দুই দিনের যোগি না ভাতেরে অন্য বইলেন না। আমরা দেশটা স্বাধীন করেছি। আমরা মুক্তিযোদ্ধা। হাজার বার বলি সেলিম ওসমানের থাবা বাঘের চেয়েও ভয়ংকর। বাঘের চেয়েও ভয়ংকর সেলিম ওসমানের থাবা। মতলব থেকে থেকে এসে নেতা হয়েছেন।

 

ধানমন্ডিতে অট্টালিকা করেছেন। দুই নাম্বার স্কুল বানিয়েছেন। কত টাকার মালিক হয়েছেন সেলিম ওসমান দেখিয়ে দিবে। দেখবো আপনি আমাকে সরাতে পারেন কি না। ওনাকে আবার মতলব ফিরে যেতে হবে। আপনি আওয়ামী লীগ করেন আর যাই করেন সেটা দেখার বিষয় না।’ এর পর অবশ্য ভিপি বাদল তার বক্তব্যকে ভিন্নভাবে প্রচার করা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন।

 

তারও আগে ২০১৮ সালের এপ্রিলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকার প্রার্থী দাবি করে ভিপি বাদল বলেন, ‘কোন গার্মেন্টে বসে আর কাউকে লাঙলের প্রার্থী দেওয়া যাবে না। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকার প্রার্থী দিতে হবে।’

 

পরদিন প্রতিক্রিয়ায় সেলিম ওসমান শহীদ বাদলকে স্নেহের বাদল উল্লেখ করে বলেন, আমার দাদা খান সাহেব ওসমান আলী প্রায়শই একটি কথা বলতেন। আমার দাদার সেই কথাটিই বলছি ‘আগের দিন আর নাইরে নাতি, খাবলাইয়া খাবলাইয়া খাতি’। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সাথে থেকে তার কাছ থেকে উন্নয়নের রাজনীতি শিখতে পারেনি।

 

তিনি দলে বিভেদ সৃষ্টি করার রাজনীতি শিখেছেন। আমি মনে করি বাদলকে উন্নয়নের রাজনীতি শিখতে হলে আগে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জ কলেজের তহবিলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া দরকার। আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উইজডম অ্যাটায়ার্স লিমিটেডে আমার ছোট ভাই শামীম ওসমানের থেকেও ভিপি বাদলের যাতায়াত বেশি ছিল।

 

তিনি আরও বলেন, স্নেহের বাদলের কাছে অনুরোধ রইলো, আপনি নারায়ণগঞ্জ কলেজে সভাপতি থাকালীন কলেজের ফান্ডের অবস্থা এবং বর্তামান কলেজ ফান্ডের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানুন। তাহলে অন্তত উন্নয়ন কাকে বলে বুঝতে পারবেন। অন্যথায় নারায়ণগঞ্জের মানুষ বুঝবে রূপগঞ্জ আর মতলবীরা কখনোই নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের কথা ভাবতে পারেন না। নারায়ণগঞ্জে রাজনীতি করতে হলে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন নিয়ে ভাবতে হবে।

 

তাই নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দরের আওয়ামী লীগের তৃণমূলের ধারণা ভিপি বাদল ওসমান পরিবারের মাধ্যমেই রাজনীতিতে এসেছে এবং বর্তমান অবস্থানে পোছাতে সক্ষম হয়েছেন। যা এমপি সেলিম ওসমানের বিভিন্ন সময়ের বক্তব্যে তাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই যতই হম্বিতম্বি করেন না কেন, আওয়ামী লীগ বা জাতীয় পার্টি তা বিবেচনা না করেই সেই আবারও ঘুরে ফিরে ওসমান পরিবার তথা সেলিম ওসমানের হুঙ্কারের কাছেই নত স্বীকার করতে হবে। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন