আন্দোলন নিয়ে ঠাট্টা প্রসঙ্গে যা বললো বিএনপি নেতারা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৩, ০৪:০৫ পিএম
বাংলাদেশ জাতীয়বাদী বিএনপির রাজনীতি বর্তমানে দফায় দফায় আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে গর্জে উঠেছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যাচ্ছে নেতাকর্মীরা নানা মামলা ও হামলার শিকার হয়ে ও আন্দোলন সংগ্রামের নাম সামনে আসলেই ঝাঁপিয়ে পারছেন। কোনভাবেই এই সরকারের নেতাকর্মীরা বিএনপির নেতাকর্মীদের মনোবল নষ্ট করতে পারছে না।
সেই সাথে বর্তমানে ১ দফা দাবির আন্দোলনে অনেকাটাই উজ্জ্বীবিত নেতাকর্মীরা। সেই লক্ষ্যে নিয়ে দফায় দফায় পদযাত্রা,গণমিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। আজকে ১ দফা দাবির রূপ রেখা হিসেবে গণতন্ত্র, ভোটের অধিকারসহ নানা বিষয় নিয়ে কালো পতাকা মিছিল করছে বিএনপি।
এই মিছিলকে লক্ষ্যে করে গতকাল শুক্রবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি কালো পতাকা নিয়ে শোকের মিছিল নামিয়ে আন্দোলনের বারোটা বাজিয়েছে বিএনপি বলে গণমিছিল, যে মিছিলে জনগণ নেই সেই মিছিল গণমিছিল হয় কী করে?
বিএনপিকে এবার আওয়ামী লীগ দেখাবে গণমিছিল কাকে বলে। আওয়ামী লীগের মিছিল মানে জনগণের ঢল। আগামী ১ সেপ্টেম্বর লাখ লাখ তরুণদের সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। শোকের কালো পতাকা নয়, বিজয়ের পতাকা হাতে লাখো তরুণের মিছিল দেখাবে আওয়ামী লীগ। তিনি আরো বলেন, বিএনপি নেতাদের গলার জোর কমে গেছে, মিছিলের শক্তি নেই। তাদের আন্দোলনের মরা গাঙে ঢেউ আসে না। বিএনপির আন্দোলন গরুর হাটে ধ্বংস হয়েছে। সমাবেশের নামে পিকনিক পার্টি করে বিএনপি।
এ সময় তিনি দাবি করেন, যেখানে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ শেখ হাসিনাকে চায়, সেখানে তাকে নামানোর (ক্ষমতাচ্যুত) দিবাস্বপ্ন দেখছে বিএনপি। মানুষ যাকে ভালবাসে তাকে বিএনপি ক্ষমতা থেকে বিদায় দেবে কী করে? বিএনপি নিষেধাজ্ঞা ও ভিসানীতির আতঙ্ক ছড়ায় মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ দেশ মুক্তিযোদ্ধাদের দেশ, কোনো অপশক্তিদের নয়। বিএনপির মতো দুর্নীতিবাজদের হাতে বাংলাদেশের ক্ষমতা নিরাপদ বলে মনে করি না আমরা। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে আগামী নির্বাচনে বিজয় সুনিশ্চিত। তার এমন বক্তেব্যের পাল্টা জবাব জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বয়ক সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেবকে সারা বাংলাদেশের মানুষকে কি হিসেবে দেখা এটা যারা দেশে স্যোশাল মিডিয়া দেখে তারাই বুঝতে পারবে। আমরা যতটুকু যানি তাদের মিটিংয়ে তাদেরকে কাউয়া কাদের ইত্যাদি বলে সম্মতি দেয়।
কিন্তু আমরা এই ওবায়দুল কাদের সাহেবকে সেই নামে ডাকতে চাই না। সে একটি দলের সাধারন সম্পাদক যার কারে তার আচরনটা ও সাধারন সম্পাদকের মতো হওয়া উচিত এবং সে অন্য বিরোধী দলকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে কথা বলে এটার কারণ হলো তারা সামনে তাদের পতন দেখতে পারছে। আর এই পতন দেখতে পেয়েই তারা এখন বেশামাল হয়ে পরছে।
এছাড়াও বর্তমানে তাদেও কর্মী সমর্থকরা নিজেদের মনোবল হারিয়ে ফেলছে সেই নেতাকর্মীদের মনোবল ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সে এই ধরনের বক্তব্যে দেয়। কিন্তু তার এই বক্তব্যে দেশের জনগণ গ্রহণ করে না। দেশের মানুষ ও গ্রহণ করে না, এই ধরনের বক্তব্যে শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্যে।
আর আওয়ামী লীগ একটি প্রাচিন দল হলে ও এই ওবায়দুল কাদেররা গত ১৫ বছর যাবৎ এই বাংলাদেশে স্বৈরাতন্ত্র কায়েম করে আওয়ামী লীগের যে পুরনো ঐতিহ্যা এটা তারা ধ্বংস করছে। আর আগামীর প্রজন্মের আওয়ামী লীগের যে নেতাকর্মী রয়েছে তারাই এই আওয়ামী লীগের ওবায়দুল কাদেরকে নানান প্রশ্নের মাধ্যমে অপরাধী শিকার করা করবে তারাই সুতরাং সে দেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে অন্য দলের নেতাকর্মীদের সাথে যে শ্রষ্টাচার থাকবে না শুধু এদের মতো নেতাদের কারণেই।
জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন যুগের চিন্তাকে বলেন, বিএনপির একটি গণতান্ত্রিক দল। এই দলকে আরো সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে নিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপি নানা সময় নানা কর্মসূচি দিয়ে থাকে যা আমরা যথাযথভাবে পালন করি। আর বর্তমানে আমাদের আন্দোলন সংগ্রামের মাত্রা এতটাই তীব্র হয়ে গেছে যে সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা এখন আবল তাবল বলা শুরু করে দিয়েছে। কারন এখন তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই।
তারা এখন পাগলের বহি:প্রকাশ দেখাচ্ছে, কারণ বর্তমানে বাংলাদেশ একদিকে আওয়ামী লীগ একদিকে যার কারণে এখন তাদের মাথা পুরো নষ্ট হয়ে গেছে। কি রেখে কি করবে দিশেহারা হয়ে পরেছে যার পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলকে ছোট করে নানা বক্তব্যে দিয়ে থাকেন ওবায়দুল কাদের সাহেব আমি তাকে বলতে চাই আপনি একটি দলের সাধারন সম্পাদক তার বক্তব্যে থাকেব সুন্দর ও শিষ্টাচার প্রিয়।
জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বয়ক ও বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বয়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব যুগের চিন্তাকে বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব যে বললো আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। আন্দোলনে কি হয়েছে এটা সময় বলে দিবে, আর কাউন্টডাউনের সময় চলে আসছে তো তাই পাগলের প্রলাপ বুকছে এখন ওবায়দুল কাদের সাহেব। আর উনার কথা এখন দেশের মানুষ গুরত্বসহকারে নেয় না।
উনি কখন কি বলে এটার কোন ঠিক ঠিকানা নাই। আর উনি যে ভাষাই বলুক এখানে বিএনপির কিছু যায় আসে না। আর বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল ও অহিংস রাজনীতিতে বিশ্বাসী দল। আর যেভাবে দলকে সুসংগঠিত রাখা যায় সেদিকে লক্ষ্যে করেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি বিএনপিকে নানা কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে সেটা ও তারা গণতন্ত্র পতিষ্ঠার লক্ষে পালন করে আসছে। তাই এখন ভোট চোর সকারের নেতাকর্মীরা কি বললো এটা দেখার সময় এখন বিএনপির নেতাকর্মীদের নাই।
জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি যুগের চিন্তাকে বলেন, আমাদের দলের যে মহা-সচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সিনিয়র যুগ্ম মহা-সচিব রুহুল কবির রিজভী যে বক্তব্যে দিয়েছেন তাদের বক্তব্যের পাল্টা কাউন্টার দেওয়ার জন্য। আওয়ামী লীগের মহা-সচিব ওবায়দুল কাদের সাহেব বক্তব্যেগুলো দিয়ে থাকেন। তার বক্তব্যেগুলো নিয়ে দেশের সাধারন মানুষ ও স্কুলের ছেলে পেলেরা ট্রল করে। কারণ তার বক্তব্যের মধ্যে বাস্তবতা ও রাজনৈতিক কোন মিল থাকে না।
আমি সাবেক ছাত্র নেতা ও বর্তমানে যুবনেতা হিসেবে একটাই বলবো সারা যেহেতু সিনিয়র নেতাকর্মী তাদের কাছ থেকে আমাদের বহু কিছু শেখার আছে কিন্তু উনাদের কাছ থেকে আমরা কিছুই শিখতে পারি না। আমি শুধু এতুটুকু বলতে পারি বর্তমানে আওয়ামী লীগের অবস্থান শূন্যের কোঠায় চলে আসছে। আর বর্তমানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই তাদেরকে পছন্দ করে না।
আর কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে আমাদের যে কর্মসূচি দেওয়া হয় আমরা সেটাই পালন করে থাকি। আর আমরা যে আজকে কালো পতকা মিছিল করেছি এটা কেন করেছি এটা ও সে ও ভালো করে জানে। আমাদের নেতাকর্মীদের উপর হামলা ঘুম, খুন, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি সব মিলিয়ে আমাদের কেন্দ্র থেকে একটি কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। আর বর্তমানে তাদের জনপ্রিয়তা শূণ্যের কোঠায় চলে এসেছে যার কারণে এখন সাধারন মানুষ তাদের বক্তব্যে খায় না।
মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগর যুগের চিন্তাকে বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ক্ষমতা হারানোর ভয়ে ভীত হয়ে পরেছেন। এই কারণে তারা পাগলের প্রোলাব বকছেন, আমরা গণতন্ত্র হত্যা, মানুষের বাক স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে সেই জন্য আমরা ব্যাথিত ও আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছি।
আমাদের গনতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। আগামীকাল আমাদের ধারবাহিক কর্মসূচির যে অংশ ১ দফা ১ দাবি সেখানে লেখা রয়েছে কেন আমরা দফায় দফায় পদযাত্রা, গণমিছিল করে যাচ্ছি। আর মানুষ যখন ক্ষমতা হারানোর ভয়ে শেষ সীমানায় চলে আসে তখন মানুষ পাগল হয়ে যায়। সেই পাগলের বহিপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে ওবায়দুল কাদের সাহেবের। এন. হুসেইন রনী /জেসি


