দরজায় কড়া নাড়ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সে লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীতা ও মনোনয়ন নিয়ে তোড়জোড় বৃদ্ধি পেয়েছে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে একক প্রার্থী করতে মহানগর আওয়ামীলীগের একাংশের নেতারা ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহার প্রার্থীতা বা মনোনয়ন নিয়ে ভিন্ন রকম সুর উচ্চারিত করছেন।
কিন্তু নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের হর্তকর্তা হিসেবে সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহাকে বিবেচনা করা হলেও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক বর্তমান যে অবস্থান বা নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের ওয়ার্ডগুলোতে সম্মেলন হওয়ার পরও কমিটি অনুমোদিত না হওয়ায় যে জরাজীর্ণ অবস্থা বিরাজমানকর করছে সেই জরাজীর্ণ অবস্থাকে মেরামত না করেই প্রার্থীতা বা মনোনয়ন নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের অর্ন্তভুক্ত ২৭ ওয়ার্ডের মধ্যে ১৭টি ওয়ার্ডেই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। তবে ইতিমধ্যেই ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৭টি ওয়ার্ডেই ইতিমধ্যে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও ১৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র গুটি কয়েকটি ওয়ার্ডে কমিটি অথবা অর্ধ কমিটি হয়েছে।
কিন্তু আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সন্নিকটে থাকায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন মহানগর আওয়ামীলীগের এলাকা জুড়ে বিস্তৃত হওয়ায় এবং সম্মেলন অনুষ্ঠিত ১৭টি ওয়ার্ড মহানগর আওয়ামীলীগের অর্ন্তভুক্ত হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা ১৭টি ওয়ার্ডের নেতাদের কমিটি অনুমোদনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রস্তুতি হিসেবে সংগঠনকে মেরামত না করেই প্রার্থীতা বা মনোনয়ন নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সভাপতি আনোয়ার হোসেন মহানগর ও মহানগরের অন্তর্ভুক্ত ইউনিটগুলোর সমর্থনে একক প্রার্থী হওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা এখনো কৌশলী ভূমিকায় থেকে উক্ত আসনে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নৌকা বা লাঙ্গলের যেকোন প্রার্থীই চূড়ান্ত করা হয় সে প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করার জন্য ভিন্ন সুর উচ্চারণ করেছেন।
দলীয় সূত্র বলছে, গত (২০ আগস্ট) বন্দরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে খোকন সাহা তার বক্তব্যের এক পর্যায়ে বলেন, ‘নৌকা কিংবা লাঙল নেত্রী যেটা দিবেন সেটাই মেনে নিব। নেত্রী যাকে মনোনয়ন দিবে আমরা তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাকে আসন্ন নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য আমরা ঝাঁপিয়ে পরবো। নৌকা বা লাঙ্গল আমি কিছু বুঝি না। নেত্রী যাকে মনোনয়ন দিবে আমরা তার পক্ষে কাজ করব। এখানে হিংসাত্মক বক্তব্য দেওয়ার দরকার নেই।’
এই বক্তব্যের পরের দিনই ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের আয়োজিত আলোচনা সভায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আহসান হাবীব বলেছেন খোকন সাহা বিনয়ের সাথে বলছেন তিনি নির্বাচনে যাবে না মহানগর আওয়ামীলীগে বাকি থাকে একজন তাই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেনকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাই।
মূলত আনোয়ার হোসেনের ঘনিষ্ঠতম অনুসারী হিসেবে পরিচিত আহসান হাবীব। যার পরিপ্রেক্ষিতে কৌশলে আহসান হাবীব আনোয়ার হোসেনকে একক প্রার্থীর একটি সুর তুলে দিয়েছেন। এতে প্রতিয়মান হয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীতা এবং মনোনয়ন নিয়ে শীর্ষ নেতাদের তোড়জোড় বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে মহানগর আওয়ামীলীগের নেতাদের মতে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের ১৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে বেশিরভাগ ওয়ার্ডে সাংগঠনিক ভাবে দূর্বলতায় রয়েছে। সম্মেলন হওয়ার পরও কমিটি অনুমোদিত হয়নি। এছাড়া ওয়ার্ডগুলো নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের নির্বাচনী এলাকা জুড়ে।
যেহেতু নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন নিজেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং তিনি মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি সে হিসেবে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহার সমন্বয়ে আমাদের প্রত্যাশা ওয়ার্ড কমিটিগুলো অনুমোদন দিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামীলীগকে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী করুক। পরবর্তীতে মহানগরের আমাদের শীর্ষ নেতারা মনোনয়ন ও প্রার্থী নিয়ে মাথা ঘামাক। এস.এ/জেসি


