Logo
Logo
×

রাজনীতি

সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় মাঠে বিএনপি নেতারা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৩, ০৮:০৭ পিএম

সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় মাঠে বিএনপি নেতারা
Swapno

 

# সরকারের পদত্যাগের দাবীতে আজ কালোপতাকা মিছিল

 

 

কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী জেলা মহানগর বিএনপি সরকার পদত্যাগের দাবী জানিয়ে আজও মরাজপথে আন্দোলনে নামছেন। আজ শহরে মহানগর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবীতে এক দফা আন্দোলনের অংশ হিসেবে কালো পতাকা নিয়ে মিছিল করবে। এজন্য মহানগর বিএনপি বিশাল গণমিছিল করার প্রস্তুতি নিয়েছে।

 

যদিও বিএনপি বলে আসছে তারা এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে আসবে না। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিএনপি নির্বাচনে আসবে তা ধরে নিয়ে তারা সর্বাত্মক ভাবে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বিএনপির যারা প্রার্থী হবেন তারা ভিতরে ভিতরে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে যারা বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী তারা সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে।

 

কেননা ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন দল আগামী মাসের সেপ্টেম্বর থেকে তাদের মনোনয়ন নির্ধারণ নেতাদের সবুজ সংকেত দিবে মাঠ গুছানোর জন্য। এই দিক দিয়ে বিএনপির প্রার্থীরা অপেক্ষার প্রহর গুনার পাশাপাশি মাঠে রাজপথেন সক্রিয় রয়েছেন।

 

এদিকে বিরোধী দল বিএনপি এখন এক দফা আন্দোলনে আছে। কিন্তু এক দফা আন্দোলন ঘোষণার পর যে মাত্রার কর্মসূচি দেয়া উচিত ছিল সেই মাত্রার কর্মসূচির এখন পর্যন্ত ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি দিতে পারেনি।

 

তাছাড়া ভবিষ্যতের আন্দোলনের কর্মসূচি কি ধরনের হবে এ নিয়েও অস্পষ্টতা-ধোঁয়াশা রয়েছে তৃণমূলের নেতা কর্মীদের মাঝে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে সেই কর্মসূচিও অনেকটাই গৎবাঁধা পুরনো কর্মসূচির মতোই।

 

বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি এবং আরোগ্য কামনা করে দোয়া মাহফিল কিংবা সমাবেশ, পদযাত্রার মতো কর্মসূচি কখনোই একদফা আন্দোলনের সহায়ক কর্মসূচি হতে পারে না এমনটি মনে করছেন বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। আর কর্মসূচি নিয়ে বিএনপির কালক্ষেপন এবং বিলম্ব বিএনপির নেতাকর্মীদের অস্থির করে তুলেছে।

 

তারা বলছে, একদিকে যেমন একদফা আন্দোলন ঘোষণা করার পর তাদের ওপর নানা রকম ভয় ভীতি এবং পুরনো মামলাগুলো নতুন করে চাঙ্গা হচ্ছে অন্যদিকে নতুন কর্মসূচি না দেওয়ার ফলে তাদের জীবনও অস্থির হয়ে উঠছে। ফলে এ রকম পরিস্থিতিতে বেশিদিন রাজপথে থাকা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

 

বিএনপির তৃণমূলের নেতা বলেছেন, প্রতিবাদ সমাবেশে আসার আগে তাদেরকে পুলিশের নজরদারি এড়িয়ে আসতে হয়। বারবার এভাবে আসা সম্ভব নয়। তার চেয়ে বরং বড় ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করে একটি চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন করাই সবচেয়ে সমোচিত কাজ। কিন্তু সে কাজটি বিএনপি নেতারা করছেন না।

 

তবে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এখন আসলে সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছে। কিন্তু কারা সবুজ সংকেত দেবে, কি সবুজ সংকেত দেবে এ ব্যাপারে বিএনপির নেতারা বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি নয়।

 

সূত্র বলছে, বিএনপিকে নিয়ে সুশীল সমাজ এবং পশ্চিমা দেশগুলোর একটি মাস্টার প্ল্যান আছে। কতগুলো বিষয় অর্জিত হওয়ার পরই বিএনপিকে মাঠে নামানো হবে। বিএনপি এখন বাধ্য ছেলের মতো পশ্চিমাদের কথায় উঠবস করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে এমন গুঞ্জন রয়েছে।

 

বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক বাংলাদেশির সম্পদ জব্দ করার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বিএনপির তৃনমূল চাচ্ছে দলীয় হাই কর্মান্ড এক দফা আন্দোলনে থকে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে নেমে আন্দোলন করতে। যাতে করে সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

 

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জের বিএনপি নেতারা বলছেন, তারা জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছে। আর তা হচ্ছে মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া। এজন্য তারা সরকার পদত্যাগের দাবী জানিয়ে এক দফা আন্দোলন করে যাচ্ছে। এই আন্দোলনের মাঝে যারা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হবে তারা ভিতরে ভিতরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদিও দলে স্বিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় নেতারা।

 

দলীয় সুত্র মতে, নারায়ণগঞ্জ-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে পুরোদমে সক্রিয় ভাবে ভুমিকা পালন করে যাচ্ছে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভ‚ইয়া। তার সাথে পিছিয়ে ২০১৮ সনের নির্বাচনের বিএনপির প্রার্থী কাজী মনিরুজ্জামান মনির। তারা দুজনে রূপগঞ্জ এলাকায় নির্বাচনী প্রস্তুতি হিসেবে মাঠে রয়েছেন।

 

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির সবচেয়ে বেশি প্রার্থী রয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ভাবে রাজপথে দলের আন্দোলনে সক্রিয় ভাবে ভুমিকা পালন করে যাচ্ছেন। তার মাঝে মাহমুদুর রহমান সুমন, বিএনপির আন্তার্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, আতাউর রহমান আঙ্গুর। তারা প্রত্যেকেই নিজের মতে করে দলীয় কর্মসূচি পালনে রাজপথে সক্রিয় রয়েছেন।

 

সেই সাথে সরকার পতনের আন্দোলনে মানুষকে সম্পৃক্ত করছেন। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে রয়েছেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং সাবেক সংসদ সদস্য রেজাউল করিম। তারাও দলের কর্মসূচি পালনে রাজপথে কোন অংশে পিছিয়ে নেই। নারায়ণগঞ্জ- আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন একক ভাবে মাঠ গুছিয়ে নিয়েছেন।

 

এখানে তারা বিপরীতে গিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সাথে লড়াই করবে তেমন শক্তিশালী প্রার্থী নেই। তাই তিনি দলীয় ভাবে সংগঠনকে ইতোমধ্যে শক্তিশালী ভাবে গড়ে তুলেছেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে। তার মাঝে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম রয়েছেন।

 

এছাড়া মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের নামও গুঞ্জন রয়েছে দলের মাঝে। এছাড়া কয়েকজন ব্যবসায়ীর নামও এখানে উঠে এসেছে। তবে নির্ভর করছে বিএনপি এই নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবে কী না।

 

মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আজ আমাদের কেন্দ্র ঘোষিত কালো পতাকা মিছিল। আমরা দলীয় কমসূচি পালনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছি। এই সরকারের পতন ঘটিয়ে আমরা ঘরে ফিরবো।

 

নির্বাচনের জন্য আমাদের আলাদা প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই। মানুষ বিএনপিকে চায়। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না মানুষ। তাছাড়া মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য আমার আন্দোলন করে যাচ্ছি। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন