এমন কোনো জেলা নেই যেখানে শেখ হাসিনা উন্নয়ন করেনি : জি.এম আরাফাত
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৩, ০৯:২২ পিএম
দুঃসময়ে রাজপথে থেকে দলের জন্য কাজ করেছেন এমন একঝাঁক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সামনে এনে চমক দেখিয়েছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জি.এম আরাফাত। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নগরীর ২নং রেলগেট এলাকায় আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে ১৫ ই আগস্ট ও ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় আরাফাতের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক অনেক নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে।
এ সময় জামাত বিএনপির জোট সরকারের আমলে যেভাবে নির্যাতীত হলেও যেভাবে দলের জন্য রাজপথে ছিলেন, তার স্মৃতিচারণ করে আবেগঘন বক্তব্য রেখেছেন আরাফাত। একই সাথে সভায় উপস্থিত ছাত্রলীগের সাবেক ও অন্যান্য সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাদেরও আরাফাতের সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের প্রশংসা করতে শোনা গেছে।
জি.এম আরাফাত বলেন, আজকে ১৫ বছর ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা ক্ষমতায় আছে। সারাদেশে তাকিয়ে দেখেন এমন কোনো জেলা নেই যেখানে শেখ হাসিনা উন্নয়ন করেনি। এই নারায়ণগঞ্জের কথাই ধরেন; শেখ হাসিনার একজন কর্মী ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি তার দক্ষতা দিয়ে এই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনকে সাঁজিয়েছেন। একটু আগে এক ছোটো ভাই বললো রাসেল পার্কের কথা বাদই দিলাম, শহর বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ বলেন, বন্দর বলেন, সব জায়গায় উন্নয়ন সাধিত করেছেন।
নারায়ণগঞ্জের মানুষ ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীকে দোয়া করে। আগামীর নেতৃত্ব হিসেবে নারায়ণগঞ্জের মানুষ তাকে চায়। তিনি এই নারায়ণগঞ্জের হাল ধরেছেন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র হিসেবে। আগামী দিনে আমরা আশাকরি রাস্ট্রীয় ভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে কোনো পদে অধিষ্টিত করবেন, তাকে পুরোষ্কৃত করবেন।
আমরা যেই পার্টি অফিসে বসে আছি। আপনারা অনেকেই জানেন না ২০১০ সালে মাননীয় মেয়র নিজের ১০ লক্ষ টাকা বেতনের পয়সা দিয়ে এই পার্টি অফিস করে দিয়েছিলেন। এরকম মমত্ববোধ আর কাউকে আমি দেখিনা। যখনই শেখ হাসিনা বলেন তখনই তিনি রাজপথে নামেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সারথী হিসেব কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে আরাফাত বলেন, আমাদের যুদ্ধ শেষ হয়নি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর ডাকে। আরেকটি যুদ্ধ হবে বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য। এই যুদ্ধে শেখ হাসিনার সারথী হিসেবে আমরা তার সাথে কাজ করতে চাই। আজকে ১৫ বছর হলো আওয়ামীলীগ ক্ষমতায়। নারায়ণগঞ্জের কেউ বলতে পারবে না সাবেক ছাত্রলীগের কোনো নেতা কোথাও চাঁদাবাজী করেছে বা মাস্তানী করেছে।
শেখ হাসিনা বলেছে ত্যাগের মধ্যে সবকিছু আছে। আমরা সেই ত্যাগে বিশ্বাসী। ভোগে বিশ্বাসী না। অনেকে ভোগ করেও বলে ত্যাগ করেছি। তাদের বলতে চাই ভোগ করেছেন এখন আর ত্যাগের কথা বলবেন না। আমরা শেখ হাসিনার কর্মী হিসেবে কাজ করবো। অনেকেই ভাবেন পার্লামেন্ট মেম্বারের কথা অনেকেই ভাবেন সংসদ নির্বাচনের কথা। আমি আপনাদের স্পর্ষ্ট ভাবে বলে দেই শেখ হাসিনা বলেছেন, বাগানে অনেক ফুল ফুটবে। যেই ফুলটা সবচেয়ে সুন্দর। আমরা সেই ফুলটা বাগন থেকে তুলে নেব।
পুরনো দিনেক কথা স্মৃতিচারণ করে আরাফাত বলেন, আন্দোলন সংগ্রামের দুয়েকটা স্মৃতি হঠাৎ মনে পড়ে গেল। আপনারা অনেকেই এখানে আছেন। আমরা যখন ২০০২ সালে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করি। তখন পুলিশ কিভাবে আমাদের পিটিয়েছিল তা দেখেছেন। আমাদের অনেকে এরেস্ট হয়েছিল। রাসেলকে বন্দরে বেধরক পিটিয়েছিল। আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করেছিল। যখন দেলোয়ার হোসেন সাইদীর বন্দরে আগমন হবে তখন আমরা ছাত্রলীগের শত শত নেতাকর্মী নিয়ে বন্দরে ব্যারিকেট দিয়েছিলাম।
তারপর পুলিশ এসে আমাদের বেধরক পিটিয়েছে। ২০০৪ সালের ২১ শে আগস্ট যখন বঙ্গবন্ধু কন্যার উপর হামলা হয়েছিল। সেই সময় নারায়ণগঞ্জে মিছিল করায় আামকে প্রধান আসামী করা হয়েছিল। সেই মামলা মাথায় নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছি। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের মাটি এক মুহূর্তের জন্য ছাড়ি নাই, আমি সেই কর্মী। এগুলো এখন স্মৃতি হয়ে গেছে। ২০০১ পরে যারা ছাত্রলীগ করে তারা এগুলো জানেও না। তবে ১৫ বছর ভোগ না করেও এখনো যে ঐক্যবন্ধ আছি এটাই শেখ হাসিনার শক্তি ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ।
আলোচনা সভায় সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আখতারুল ইসলাম রয়েল। আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সহসভাপতি সাব্বির আহম্মেদ সাগর, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সুমন বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ কলেজের সাবেক ভিপি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জামির হোসেন রনি প্রমুখ। এন. হুসেইন রনী /জেসি


