# না.গঞ্জের মেসি-ম্যারাডোনাদের জবাব দিবো : খোকা
# হিরো আলমও লাঙ্গলের চাইতে বেশি ভোট পায় : দিপু
# আ.লীগের রাজনীতি করে জাপাকে ব্যাকাপ দেয় : কালাম
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতির মাঠ এখন উত্তপ্ত। সপ্তাহের ৭ দিনের ৩ দিনই সরকার পতনের আন্দোলনে থাকে বিরোধী দল বিএনপি। অপরদিকে বিএনপিকে ঠেকাতে রাজপথ থেকে কোন অংশে পিছিয়ে নেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এর মাঝে সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে জাতীয় পার্টি। স্থানীয় ভাবে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে তার প্রভাব পড়ছে।
তবে এখানে বিএনপির পাশাপাশি জাতীয় পার্টি নিয়ে বিব্রত রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতারা। ইতোমধ্যে জাতীয় পার্টি নিয়ে তারা নানা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। কেননা স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা দীর্ঘ দিন যাবৎ জেলার ৫টি আসনে নৌকার দাবী জানিয়ে আসছেন। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৩ এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার প্রার্থী চান। জাতীয় পার্টির উপর ভর করে থাকতে চান না।
সম্প্রতি আওয়ামী লীগের নেতারা নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জাতীয় পার্টির এমপি থাকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিপরীতে তাদের সময় মতো জবাব দেয়ার হুঙ্কার দেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা। এ নিয়ে সোনারগাঁয়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মাঝে নির্বাচন ঘিরে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ নির্বাচনী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর একাধিক প্রার্থী প্রচার চালাচ্ছেন। এ নিয়ে একে অপরের মধ্যে বিরোধ থাকলেও নৌকার প্রার্থী চাওয়া নিয়ে তারা একমত। তারা সোনারগাঁ নির্বাচনী এলাকায় নৌকার প্রার্থী চান। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সভা-সমাবেশের পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন কর্মকান্ডের যোগ দিচ্ছেন।
এমনকি দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ভুমিকা পালন করে যাচ্ছে। তাদের বিপরীতে সোনারগাঁ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা কমিটি গঠন করে এখন নির্বাচনী মাঠ গুছাচ্ছে। তাদের মাঝে আন্দোলনে থেকে মাঠে নেতা কর্মীদের চাঙ্গা রাখছেন বিএনপি। তারাও কোন অংশে পিছিয়ে নেই।
এদিকে নির্বাচন নিয়ে বিএনপিতে রয়েছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও আতঙ্ক। নিজেদের মধ্যে বিরোধও আছে। পূর্বের মামলা এবং সাম্প্রতিক ‘গায়েবি’ মামলায় দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে অনেকে। তবে নির্বাচন নিয়ে বিএনপিতে তেমন কোনো কর্মকাণ্ড নজরে পড়ছে না। কিন্তু সরকার পতনের দাবী আন্দোলনে তারা সক্রিয় রয়েছে।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ টানা দুই বার ২০১৪ সাল থেকে এ আসনটি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা। এবারও এ আসন থেকে তিনি লড়াই করবেন বলে তার সমর্থকরা জানান। সেই অনুযায়ী নির্বাচনের আগে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন তিনি।
এর আগে ২০০৮ সনের নির্বাচনে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন সোনাগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত। পরে জাতীয় পার্টি মহাজোটের সাথে শরীক হওয়া এই আসনটি তাদের ছেড়ে দিতে হয়। তবে এবার আর তারা এই আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে চান না। এজন্য এখানকার আওয়ামী লীগের নেতারা আগে থেকেই নৌকার দাবী জানিয়ে আসছেন।
আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু বলেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুনর্বাসন করেছে। এরশাদও করেছে। তারা একই অপরাধে দুইজন অপরাধী। ১৫ বছর যাবৎ আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা বিএনপি দ্বারা নির্যাতিত। এ নির্যাতনের হাত থেকে আমরা মুক্ত হতে চাই। আমরা নারায়ণগঞ্জে আর লাঙ্গল চাই না। ঢাকা ১৭ আসনের নির্বাচনে টিকটকের হিরো আলমও লাঙ্গলের চেয়ে বেশি ভোট পাইছে। আবার বলেন, লাঙ্গল ছাড়া আমরা ক্ষমতায় যেতে পারবো না। লাঙ্গল ছাড়াই আমরা ক্ষমতায় যাবো এবং নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসন উপহার দিবো ইনশাআল্লাহ।
সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের ১ নং সদস্য মাহফুজুর রহমান কালাম বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে কেয়ারটেকার গভর্নমেন্ট হবেনা। বিএনপিকে শেখ হাসিনার অধীনেই আপনাদের নির্বাচন করতে হবে। জামাত-বিএনপির জোটকে ষড়যন্ত্র করতে দেয়া হবে না। আমারা ঐক্যবদ্ধ থেকে তাদেরকে এই সোনারগাঁয়ের মাটিতে প্রতিহত করব। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে পিছনে জাতীয় পার্টিকে ব্যাকাপ দেয়া হচ্ছে। আর এই ব্যাকাপ দিয়ে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগকে দ্বিধাবিভক্তি করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা এবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে এখানে নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী জানিয়ে আসছি।
আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপুকে ইঙ্গিত করে জাতীয় পার্টি প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা বলেন, কিছু দিন আগে দেখলাম নারায়ণগঞ্জ থেকে মেসি, ম্যারাডোনারা সোনারগাঁওয়ে এসে বড় বড় বক্তৃতা দেয়, লাঙ্গলের বিরুদ্ধে কথা বলে, তাদের আমি চিনি, সময় মতো জবাব দিবো ইনশাআল্লাহ।
এর আগে সোনারগাঁয়ে গিয়ে আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিসুর দিপু লাঙ্গলকে চান না বলে মন্তব্য করেন। সোনারগাঁ উপজেলায় প্রতিটি ওয়ার্ড ইউনিয়ন জাতীয় পার্টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে অনেক সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী হচ্ছে। আগামী নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টি সোনারগাঁয়ে শক্তিশালী করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবো আমি। এস.এ/জেসি


