Logo
Logo
×

রাজনীতি

পুনরায় নেতৃত্ব পেয়েও ব্যর্থতার কোঠায় হাই-বাদল

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৩, ০৭:৫৫ পিএম

পুনরায় নেতৃত্ব পেয়েও ব্যর্থতার কোঠায় হাই-বাদল
Swapno

 

# জেলার পৃথক প্রস্তাবিত কমিটি করতে দায় সাড়া
# সোনারগাঁয়ে কমিটি নিয়ে বিতর্ক থামাতে ব্যর্থ

 

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগে সভাপতি পদে আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল টানা দ্বিতীয় বারের মত জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ পদের নেতৃত্বে থাকলেও পূর্বের ন্যায় আবারও ব্যর্থতার কোঠায় ধাবিত হচ্ছে তাদের নেতৃত্ব। কারণ জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি পূর্ণ রূপ দেয়া শুরু করে করে জেলা আওয়ামীলীগ থেকে অন্যান্য উপজেলা আওয়ামীলীগের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।

 

এছাড়া সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলের মধ্যে পূর্বের ন্যায় বিভক্তিত রয়েছে। যার কারণে তাদের নেতৃত্বে জেলা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক ভাবে উর্বর হবে দূর থাক সাংগঠনিকভাবে দূর্বল হচ্ছে। এতে প্রতিয়মান হয়েছে পূণরায় নেতৃত্বে বহাল থেকেও নেতৃত্বে ব্যর্থ হচ্ছে হাই-বাদল।

 

দলীয় সূত্র বলছে, টানা দুই যুগ পর সম্মেলনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠিত হয়। কমিটিতে পূর্বের কমিটির সভাপতি আবুদল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলকে উক্ত পদে বহাল রেখেই আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কমিটির অনুমোদন দেন। কমিটি ঘোষনার সময় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাদের পূর্বের কর্মকান্ডের প্রতি হুশিয়ার করে পূণরায় নেতৃত্ব তুলে দেন।

 

তবে সম্মেলনে দলীয় সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশকে সম্মতি জানালেও কমিটি পাবার পর ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী দেখায় হাই-বাদল। কারণ কমিটি অনুমোদনের বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতেও তাদেরকে পৃথক দেখা যায়। এছাড়া দলীয় সকল কর্মসূচি পৃথক পৃথক ভাবে পালন করেন তারা। এছাড়া জেলা আওয়ামীলীগের কমিটিকে পূর্ণতা দিতে গিয়েও দেখা দিয়েছে তাদের বিভক্তির চরম মাত্রা।

 

জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই দীর্ঘ পাঁচ মাস পর ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ জেলা আওয়ামীলীগের ৭৫ সদস্য প্রস্তাবিত কমিটি কেন্দ্রে জমা দেন। অপরদিকে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল দীর্ঘ ছয় মাস পর ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল জেলা আওয়ামীলীগের ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট প্রস্তাবিত কমিটি পৃথক কমিটির জমা দেন। তাদের পৃথক পৃথক কমিটির জমা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

 

পরবর্তীতে জেলা আওয়ামীলীগের নেতাদের সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রের নির্দেশনা রয়েছে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে সমন্বয় করে কমিটি দেয়ার জন্য। তবে সমন্বয় করে কমিটি এখনো জমা দিয়েছে কিনা এখনো খোলাশা না করলেও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের ভাষ্য কমিটি কেন্দ্রে জমা দেয়া আছে কেন্দ্রে যেকোন সময় কমিটির অনুমোদন দিতে পারে।

 

জেলা আওয়ামীলীগের ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট প্রস্তাবিত কমিটি কেন্দ্রে জমা দিয়ে দায় এড়ালেও এখন জেলা আওয়ামীলীগের আওতাধীন অন্যান্য উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব সমন্বত রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন। উল্লেখ্য সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটির অনুমোদন জেলা আওয়ামীলীগ।

 

তবে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি অনুমোদন দিলেও সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. সামসুল ইসলাম ভূইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ্ আল কায়সার হাসনাত জেলা আওয়ামীলীগের কমিটিকে প্রত্যাখান করে কেন্দ্রে নালিশ দেন।

 

এমনকি জেলা আওয়ামীলীগের অনুমোদিত কমিটিকে পাশ কাটিয়ে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ্ আল কায়সার হাসনাতের দ্বারা গঠিত ৭১ সদস্য প্রস্তাবিত কমিটিকে প্রধান্য দিয়ে শোক দিবস উপলক্ষ্যে বর্ধিত সভা করেন।

 

এর আগেও জেলা আওয়ামীলীগের নিকট প্রস্তাবিত কমিটি জমা থাকা অবস্থায় জেলার নেতার কমিটি অনুমোদন না দিলেও কমিটি অনুমোদনের পূর্বেই সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে পাশ কাটিয়ে প্রস্তাবিত কমিটি নিয়ে এখনো পর্যন্ত সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক মাতামাতি করলেও এখনো পর্যন্ত সোনারগাঁয়ের নেতাদের বিরুদ্ধে কোন রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি জেলা আওয়ামীলীগ। এতে প্রতিয়মান হয়েছে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক জেলার আওতাধীন উপজেলা আওয়ামীলীগকে নিয়ন্ত্রণ করতেও ব্যর্থ হচ্ছেন। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন