নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের রাজনীতিতে শাহআলম পন্থীরা আবারও ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তাদেরকে পেছন থেকে ইন্ধন দিচ্ছেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। শামীম ওসমানের এখন একটাই টার্গেটে, সেটা হলো বিএনপিতে বিভক্তি। কারণ তিনি বেশ ভালো করেই জানেন যে আগামী জতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যদি একতাবদ্ধ থাকে এবং অংশ নেয় তাহলে তার পক্ষে জিতে আসা মোটেও সহজ হবে না। তাই তিনি এখন ষড়যন্ত্রের পথ বেঁছে নিয়েছেন বলেই মনে করেন বিএনপির সক্রিয় নেতারা।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির নেতা মাজেদুল ইসলাম বলেন, সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান সাহেব বরাবরই আমাদের নেতা মুহম্মদ গিয়াসউদ্দিন সাহেবকে আক্রমন করে বক্তব্য রেখে এসেছেন। তবে আমি মনে করি গণতন্ত্রে তিনি তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসাবে গিয়াস উদ্দিন সাহেবের সমালোচনা করতেই পারেন। কিন্তু তিনি যে ভাষায় আক্রমন করছেন এটা রাজনীতির ভাষা নয়। আমরা তার কাছে আশা করবো তিনি প্রতিহিংসার ভাষা পরিত্যাগ করে গঠনমূলক বক্তব্য দেবেন।
মাজেদুল ইসলাম আরো বলেন, আপনারা দেখতে পাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এলাকায় বিএনপির একটি গ্রুপকে মাঠে নামানো হয়েছে। তারা বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে যোগ দেন না। আলাদা কর্মসূচির নামে অল্প কিছু লোক নিয়ে দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে চলেছেন। আমরা মনে করি এরা সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পারপাস সার্ভ করার জন্য এসব করছেন। কিন্তু আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই এসব করে কোনো লাভ হবে না।
আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন গিয়াস উদ্দিন সাহেব দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে সারা জেলায় কি পরিমান চাঙ্গা হয়ে উঠেছে বিএনপি। তাই ওদের মতো কিছু দালাল দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলেও তারা ব্যর্থ হবেন। কারণ দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে গোটা জাতি একতাবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছেন। তাই আমরা মনে করি বিএনপির রাজনীতি দালালদের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না ইনশাআল্লাহ।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির রাজনীতিতে এখন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আজাদ বিশ্বাস জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুন মাহমুদ, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহিদ হাসান রোজেল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক পান্না মোল্লা সহ কিছু নেতা পৃথক কর্মসূচির নামে দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে চলেছেন। এরাই এখন বিএনপির ভেতরে শামীম ওসমানের বি-টিম হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
এরা বিএনপির কেন্দ্র থেকে ঘোষিত কর্মসূচিগুলি পৃথক ভাবে পালন করছেন। আর শামীম ওসমান তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী গিয়াস উদ্দিনের তীব্র সমালোচনা করলেও এদের প্রশংসা করছেন। শামীম ওসমান সরকারী দলের এমপি হয়ে যাদের প্রশংসা করছেন তারা যে কারা এটা বুঝতে কোনো রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই বলেই মনে করেন সকলে। তাই বিএনপির এই চূড়ান্ত সময়ে এই বি টিমের আচরন তাদেরকে রাজনীতি থেকে এরই মাঝে বিতারিত করেছে বলেই মনে করেন মাজেদুল ইসলাম।
অপরদিকে বিএনপির পদত্যাগী নেতা মোহাম্মদ শাহ আলম আগামী দিনের রাজনীতিতে কি করবেন সেটা জানা না গেলেও এই বি টিমের নেতারা এখনো নিজেদেরকে শাহ আলমের লোক পরিচয় দিচ্ছেন। তারা প্রচার করছেন যে প্রয়োজনে বিশ কোটি টাকা দিয়ে হলেও নাকি শাহ আলম বিএনপির মনোনয়ন কিনে নেবেন।
কিন্তু বাস্তবতা হলো শাহ আলম কখনোই সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন না বলেই আরো অনেক আগেই জানা গেছে। এটা নাকি শামীম ওসমান এবং শাহ আলমের মাঝে জেন্টলম্যান্ট কমিটম্যান্ট। আজাদ বিশ্বাসের মধ্যস্থতায় এই কমিটম্যান্ট করা হয়েছিলো বলে তখন চাউর হয়েছিলো।
তাই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচনে এবার যদি বিএনপি অংশ নেয় তাহলে গিয়াস উদ্দিনই পাচ্ছেন বিএনপির মনোনয়ন। এটাই চূড়ান্ত বলে খোদ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের ঘনিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাই এই বি-টিমের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বলতে যে আর কিছু অবশিষ্ট নেই এটা এখন বেশ জোর দিয়েই বলা যায়। কেনো না যতো দিন যাচ্ছে এই জেলায় গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে আরো শক্তিশালী হচ্ছে বিএনপি। এস.এ/জেসি


