জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র চার মাস বাকি। এরই মাঝে এবারের এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশে বিদেশে ব্যাপক তৎপরতা চলছে। দেশে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো তত্ত্বাবদায়ক সরকারের দাবিতে টানা আন্দোলন করে যাচ্ছে এবং তারা আগামী মাসেই একটি চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে বিদেশীদের চাঁপও। এমতাবস্থায় আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ছে।
কিন্তু নির্বাচনের সময় যতো ঘনিয়ে আসছে ততোই শামীম ওসমানের মাঝে গিয়াস ভীতি বাড়ছে বলে জানা গেছে। কারণ তিনি জানতে পেরেছেন পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে শেষ পর্যন্ত বিএনপির অংশগ্রহনেই আসন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। আর সেই ক্ষেত্রে শামীম ওসমানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হবেন গিয়াস উদ্দিন। কারণ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের গুডবুকে রয়েছে গিয়াস উদ্দিনের নাম।
ফলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন গিয়াস উদ্দিনই পাবেন। তাই শামীম ওসমানের সাথে গিয়াস উদ্দিনের প্রতিদ্বন্দ্বীতা হলে গিয়াস উদ্দিন বিপুল ভোটে জিতে যাওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে অনেকে মনে করেন। কারণ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এলাকার ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে তাদের বেশির ভাগই নানা কারনে বর্তমান সরকারের উপর নাখোশ। তারা তাদের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের উপরও নাখোশ।
এসব কারণের মাঝে প্রধান কারণটি হলো দ্রব্যমূল্য। জিনিসপত্রের দাম এতো বেড়েছে যে বেশির ভাগ মানুষ কষ্টে আছে। অন্য আরো কয়েকটি কারনের মাঝে রয়েছে অর্থনৈতিক দূরবস্থা, বেকারত্ব, সন্ত্রাস ও মাদক, ভূমি দস্যুদের তৎপরতা, প্রশাসনিক কাজে চরম হয়রানী, ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ না হওয়া এবং উন্নয়ন বঞ্চনা। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ফতুল্লা থানা এলাকায় কোনো উন্নয়নই হয় নাই। মানুষ বেড়েছে সীমাহীন কিন্তু তাদের কোনো নাগরিক সুবিধা বাড়ে নাই।
ভালো কোনো রাস্তাঘাট নির্মাণ করা হয় নাই। পূরনো রাস্তাগুলো ঠিকমতো সংরক্ষন করা হয় নাই। সারা ফতুল্লা জুড়ে হাজার হাজার অটো রিকশার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ঘন্টার পর ঘন্টা মানুষকে যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে। তার উপর সারা বর্ষাকাল জুড়ে গোটা ফতুল্লা অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষকে সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাতে হয়। আর এই জলবদ্ধতার মূলে রয়েছে শামীম ওসমানের চরম অবহেলা।
টানা দশ বছর এমপি থাকার পরেও তিনি আন্তরিক ভাবে জনগণের জন্য কোনো কাজ করেননি। ফলে যা হবার তাই হয়েছে। জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। তাই দুর্ভোগ কবলিত বহু মানুষ শামীম ওসমানকে ভোট না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই এসব কারনে যতো দিন যাচ্ছে ততোই শামীম ওসমানের টেনশান বাড়ছে বলে তার নানা বক্তব্যে প্রতিয়মান হচ্ছে। তবে শামীম ওসমানের অনেক অনুসারী মনে করেন এবারও বিএনপিকে বাদ দিয়েই নির্বাচন হবে এবং শামীম ওসমান এমপি হবেন।
এদিকে ফতুল্লার সাধারণ মানুষের মতে এমনিতেও ফতুল্লায় বিএনপির দলীয় ভোট বেশি। স্বাধীনতার পর যতোগুলো সুষ্টু নির্বাচন হয়েছে তাতে বেশির ভাগ নির্বাচনে ফতুল্লায় বিএনপির প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জিতেছে। তাই সুষ্টু নির্বাচন হলে এবারও যে ফতুল্লায় বিএনপির প্রার্থী জয়ী হবেন এতে কারোই কোনো সন্দেহ নেই। অপরদিকে সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামী লীগের দলীয় ভোট কিছুটা বেশি হলেও গিয়াস উদ্দিন সিদ্ধিরগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় আঞ্চলিকতার টানে তিনি সেখানেও বেশি ভোট পান।
২০০১ সালের নির্বাচনে সেটার প্রমান পাওয়া গেছে। সেই নির্বাচনেও শামীম ওসমানের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিলেন গিয়াস উদ্দিন। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জের তিনটি ওয়ার্ডে বিএনপির কাউন্সিলররা রয়েছেন। এর মাঝে গিয়াস উদ্দিনের নিজের ছেলে সাদরিল দুইবার নির্বাচিত হয়েছেন। তাই আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হলে গোটা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এলাকায়ই যে গিয়াস উদ্দিনের জিতে যাবার সম্ভাবনা অনেক বেশি এটা জানেন শামীম ওসমান নিজেও।
কারণ শামীম ওসমানও একজন ঝানু রাজনীতিবিদ। তাই তার এসব না বুঝার কথা নয় বলেই মনে করেন এই আসনের সাধারণ মানুষের অনেকে। ফলে আগামী নির্বাচন যতো ঘনিয়ে আসছে ততোই শামীম ওসমানের টেনশান বাড়ছে বলে স্পষ্ট প্রতিয়মান হচ্ছে। এ কারনেই তিনি এখন রিলাক্স থাকতে পারছেন না, গিয়াস উদ্দিনকে আক্রমন করে বক্তব্য দিচ্ছেন। এস.এ/জেসি


