Logo
Logo
×

রাজনীতি

বিএনপি’র মৌন মিছিলে লঙ্কাকাণ্ড

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৩, ০৭:৩১ পিএম

বিএনপি’র মৌন মিছিলে লঙ্কাকাণ্ড
Swapno

 

বিএনপির পূর্বঘোষিত মৌন মিছিল আর মৌন থাকেনি। যুবদলের কমিটি বঞ্চিতদের তাণ্ডব থেকে নিজদলের নেতাকর্মীরা তো বটেই বাদ যায়নি সাংবাদিক-পথচারীরাও। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা করেছে বিএনপির পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহানগর বিএনপির মৌন মিছিলের পূর্বের সমাবেশে পদবঞ্চিত যুবদল নেতা মাযহারুল ইসলাম জোসেফের নেতৃত্বে মহানগর বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত মৌন মিছিলকে পন্ড করতে জোফেস বাহিনীরা ককটেল বিস্ফোরণ করে লাঠি সোঠা নিয়ে আতঙ্কিত হামলা করে এতে প্রায় সাংবাদিকসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন।

 

গতকাল বুধবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মৌন মিছিল পূর্বক সমাবেশে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার সাথে সাথেই যুবদল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দরা জোসেফ বাহিনীকে প্রতিহত করতে নামলে বাহিনীরা দৌঁড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

 

মহানগর বিএনপির সিনিয়র নেতাদের উপর হামলায় ক্ষিপ্ত হয়ে যুবদল ও ছাত্রদল মিলিত হয়ে জোসেফসহ তার বাহিনীর সদস্য আমির হোসনকে মারধর করে এতে সে আহত হলে তাকে সাথে নেতাকর্মীরা হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মসূচির অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হয়। নেতৃবৃন্দের বক্তব্য চলাকালে বিকাল ৪টার দিকে লাঠি-সোঠা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় মহানগর যুবদলে পদবঞ্চিত মাজাহারুল ইসলাম জোসেফ সমর্থকরা।

 

এ সময় ব্যানার, ফেস্টুন ছিড়ে ফেলে এবং মাইক ভাংচুর করে। এক পর্যায়ে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করে হামলাকারীরা। এ সকল দৃশ্য ধারণ করার সময় সাংবাদিকদের উপরও হামলা করা হয়। 

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবু আল ইউসুফ টিপু দাবি করে বলেন, সরকারি দলের ইন্ধনে এই হামলা করা হয়। তারা যদি বিএনপির নেতাকর্মী হতো, তাহলে এই হামলা করতে পারতো না।

 

জানা গেছে, গত ২৯ আগস্ট রাতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। আর এই মহানগর যুবদলে আহ্বায়ক পদ পাওয়া মনিরুল ইসলাম সজল ও সদস্য সচিব শাহেদ আহম্মেদ। তারই অংশ হিসেবে মহানগর যুবদলের পদবঞ্চিত নেতা মাজহারুল ইসলাম জোসেফের বাহিনীরা আগে থেকেই সংঘবদ্ধ হয়ে হামলার প্লান তৈরি করে রেখেছিলেন।  

 

সেই সাথে গতকাল বিকেলে মহানগর বিএনপির গুম দিবসের মৌন মিছিলের পূর্বে আয়োজিত সমাবেশে জাসেফের অনুসারীরা তার নেতৃত্বে ৩০/৩৫ জন একত্রিত হয়ে ককলেট নিক্ষেপ করে হাতে লাঠি-সোঠা নিয়ে হামলা করে আর সমাবেশে যাকে পেয়েছেন তাদের উপরই আতঙ্কিত হামলা চালিয়েছেন। সেখানে থাকা একটি হুন্ডা ও অনুষ্ঠানে ভাড়া মাইক, সাউন্ডবক্স, রিস্কাসহ আরো অনেক ক্ষয়ক্ষতি করেন।

 

পরবর্তীতে যুবদল ও ছাত্রদল একত্রিত হয়ে জোসেফ বাহিনীর উপর হামলা চালায় তখন তারা তাদের বাহিনীর যাকেই পেয়েছে তাদেরকেই বেধড়ক মারধর করেছেন। পরবর্তীতে পুলিশ এসে টিয়ার গ্যাস ও কয়েক রাউন্ড রাভার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

 

নেতাকর্মীরা মহানগর বিএনপির উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, বিএনপির উপর হামলা করলে কোনভাবেই আপোষ বসে থাকা যাবে না। প্রতিহত করতে যুবদল, ছাত্রদল মহানগর বিএনপির সাথেই আছে থাকবে। আর তারা আরো দাবি করছে হামলাকারীদের মধে জোসেফের বাহিনীর সাথে কিছু ছাত্রলীগ  কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

 

এদিকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবি, পদ-পদবী নিয়ে নিজেদের মধ্যে ক্ষোভ থাকতে পারে কিন্তু এখানে মূল দলের সিনিয়র নেতাকর্মীদের উপর হামলা করে যুবদল নেতা জোসেফের ঠিক হয়নি আবার এখানে চলমান ছিল বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রোগ্রাম। যুবদল নেতা জোসেফের এমন কান্ডে সমালোচনার ঝড় বইছে বিএনপিতে।

 

এ বিষয়ে যুবদল নেতা মাযহারুল ইসলাম জোসেফ যুগের চিন্তাকে বলেন, আমার নেতৃত্বে এখানে কোন প্রকার হামলা হয়নি। আমার নিজস্ব নেতাকর্মীরা গতকালের মহানগর যুবদলের কমিটি বিষয়ে একটু ক্ষিপ্ত ছিল। তাই উত্তেজিত হয়ে তারা এই কর্মকান্ড চালিয়েছে। 

 

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার (ওসি) আনিচুর রহমান জানান, বিএনপির কর্মসূচিতে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়েছে। পরে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল ছুঁড়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন