Logo
Logo
×

রাজনীতি

‘কয়েক মাসের জন্য নিরাপদে মেয়র আইভী’

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৩, ০৮:৩০ পিএম

‘কয়েক মাসের জন্য নিরাপদে মেয়র আইভী’
Swapno

 

# আপাতত আসন্ন নির্বাচন পর্যন্ত গিয়াস উদ্দিনকে নিয়ে ব্যস্ত এমপি শামীম ওসমান

 

 

সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাই আপাতত নিরাপদ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী। নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের মতে গত কয়েক মাস ধরে টার্গেট পরিবর্তন করেছেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। মেয়র আইভীর সমর্থকদের মতে বিগত প্রায় টানা ১৪ বছর নানা ভাবে শামীম ওসমানের নিশানা ছিলেন মেয়র আইভী।

 

আইভীর সাথে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর থেকেই বিগত বছরগুলিতে চরম ভাবে হয়রানী করেছেন শামীম ওসমান। নারায়ণগঞ্জ শহরবাসী অনেকের মতে গত দশ বছর ধরে এমপি হওয়ার পরেও শামীম ওসমান তার নিজের এলাকার সকল প্রকার উন্নয়ন বাদ দিয়ে শুধু মাত্র আইভীকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। আইভীর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলির মতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাজে বাধা দেয়ার জন্য যতোগুলো মামলা হয়েছে তার নব্বই শতাংশ হয়েছে শামীম ওসমানের ইন্দনে।

 

এসব মামলা দিয়ে শামীম ওসমান সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কাজে বাধার সৃষ্টি করেছেন। শুধু তাই নয় তার ইন্দনে সিটি করপোরেশনের ঠিকাদারদের গ্রেফতার পর্যন্ত করা হয়েছিলো। শহরের শেখ রাসেল পার্ক যাতে না করতে পারেন তার জন্য এমন কোনো বাধা নেই যা দেয়া হয়নি। কিন্তু অদম্য আইভী তার সকল বাধাকে উপেক্ষা করে উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

 

নগরবাসীর মতে, শামীম ওসমান এই শহরের মানুষের শেষ ঠিকানা কবরস্থানের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন কাজেও বাধার সৃষ্টি করেছেন বলে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ। নানা উসিলায় তিনি এসব বাধার সৃষ্টি করেছেন। মেয়রের বিরুদ্ধে এই এমপি কবরস্থানের মসজিদ, মন্দির এবং মাদ্রাসার জায়গা দখল করার অভিযোগ করিয়েছেন।

 

অথচ বাস্তবতা হলো মাসদাইর কবরস্থানে খুবই সুন্দর এবং বড় একটি মসজিদ নির্মান করা হয়েছে। আর মাদ্রাসা যেটি ছিলো সেটি ছিলো সরকারি রাস্তার উপর ব্যক্তি মালিকানা। সেটা যিনি নির্মান করেছেন তিনিই সরিেেয় নিয়েছেন। এছাড়া কবরস্থানের পাশের শ্বশানের উন্নয়ন করার সময় কি পরিমান নাটক যে হয়েছে এটাতো নারায়ণগঞ্জবাসী সকলেই দেখেছেন। তিনি তার পালিত লোকদের দিয়ে মসজিদ মন্দিরের জমি দখল ছাড়াও আরো নানা অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন আইভীকে।

 

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ শহরে মেয়রের বিরুদ্ধে অশ্লীল পোষ্টার সাটানো, ফুটপাতের দখল নিয়ে মেয়রের উপর নির্মম হামলা, দূর্নীতি দমন কমিশনে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ সহ মেয়রের ব্যক্তিগত চরিত্র হনন করা সহ এমন কোনো অপকর্ম নেই যা করা হয় নাই। এটা চলেছে টানা ১৪ বছর। তাই নগরবাসী অনেকেই মনে করেন মেয়র আইভী ধৈর্য্য আর সাহসের কারনে এখনো টিকে আছেন।

 

তবে এই সময়ে এসে শামীম ওসমান মেয়রকে কোনো রকম আক্রমন করতে দেখা যাচ্ছে না। বাহ্যিকভাবে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রও আপাতত বন্ধ হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো কতোদিন? এখন সবাই বলছে আপাতত শামীম ওসমান টার্গেট পরিবর্তন করেছেন। তার টার্গেট এখন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন। তবে গিয়াস উদ্দিন তার প্রতিপক্ষ দলের নেতা হওয়ায় তার সমালোচনা তিনি করতেই পারেন। তারা একে অপরের ভুল ত্রুটি তুলে ধরবেন এটাই স্বাভাবিক।

 

তাই আগামী নির্বাচন পর্যন্ত গিয়াস উদ্দিনই থাকবেন শামীম ওসমানের টার্গেট। এবারের এই নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক হলে শামীম ওসমানের সাথে গিয়াস উদ্দিনের প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে। আর অংশগ্রহনমূলক না হলে আবারও শামীম ওসমান প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এমপি হবেন। তাই সার্বিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে আগামী কয়েকটা মাস মেয়র আইভী থাকবেন নিরাপদে। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন