Logo
Logo
×

রাজনীতি

আড়াইহাজারের বিড়াল শহরে এসে বাঘ বনে যাচ্ছে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৯:০৬ পিএম

আড়াইহাজারের বিড়াল শহরে এসে বাঘ বনে যাচ্ছে
Swapno

 

# রাজনীতির নামে সন্ত্রাসই আজাদের মূল টার্গেট

 

 

আড়াইহাজারের বিড়াল এখন নারায়ণগঞ্জ শহরে এসে বাঘ বনে যাচ্ছে। নজরুল ইসলাম আজাদ তার নিজের সংসদীয় আসনে যেতেই সাহস পান না। ওই এলাকায় তার কোনো জনপ্রিয়তা বা গ্রহনযোগ্যতাও নেই। তাই আড়াইহাজার ছেড়ে তিনি কেনো নারায়ণগঞ্জ শহরে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন এই প্রশ্ন তুলছেন বিএনপির সকলে। বিগত নির্বাচনে আজাদ আড়াইহাজার আসনে নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু বিগত নির্বাচনে তিনি এক মিনিটের জন্যও মাঠে নামতে পারেননি।

 

আজাদের হাতে আড়াইহাজারের নেতৃত্ব তুলে দেয়ার পর থেকে আড়াইহাজরের মাঠে বিএনপি নেই। এলাকায় যেতেই সাহস পান না তিনি। সাংগঠনিক ভাবে এক প্রকার বিলুপ্তির পথে রয়েছে আড়াইহাজার থানা বিএনপির রাজনীতি। অথচ সেখানে তিনি কিছুই করতে না পরলেও নারায়ণগঞ্জ শহরে এখন তিনি বিরাট বড় নেতা। বিএনপির কেন্দ্রও বুঝে হোক আর না বুঝে হোক আজাদো হাতে তুলে দিচ্ছে এই জেলার যুবদল, ছাত্রদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতি। সর্বশেষ দলের পূরনো এবং ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে কমিটি করার কারনেই বুধবার শহরে বিএনপির দুই গ্রুপের মাঝে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।’

 

এদিকে আজাদের রাজনীতির উদ্দেশ্য নিয়ে আরো অনেক আগেই পরিষ্কার ধারনা পাওয়া গেছে। আসলে আজাদ রাজনীতির নামে সন্ত্রাস করতে চান বলে তার দলের অনেকেই জানিয়েছেন। বিএনপি যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলো তখন নারায়ণগঞ্জ শহরের যারা সন্ত্রাসী হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছিলো এমন কি বিএনপির আমলে মামলার আসামী ও গ্রেফতার হয়েছিলো তাদেরকে টার্গেট করে ডেকে নিয়ে শিষ্য বানাচ্ছেন তিনি। এদের মাঝে অধিকাংশই মাদকাসক্ত। তাই যারা তার শিষ্যত্ব গ্রহন করছেন তারাই পাচ্ছেন বিএনপির এবং বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের পদ।

 

ফলে রাজনীতি নয়, বরং রাজনীতির নামে সন্ত্রাসকেই বেঁছে নিয়েছেন নজরুল ইসলাম আজাদ। তিনি কোনো রাজনীতিবিদ হতে চান না, তিনি চান একজন গডফাদার হতে। তাই এই জেলায় বিএনপির ভেতরে এখন যতো বিশৃঙ্খলা এবং মারামারি হচ্ছে তার সব কিছুরই নেপথ্য কারিগর হলেন এই আজাদ। তাই আগামী দিনে তার কারনে এই দলে বিশৃঙ্খলা আরো বাড়বে। যার ফলে সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল হবে বিএনপি।

 

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের মাঝে এখন বিএনপির জনপ্রিয়তাই সবচেয়ে বেশি। মানুষ এখন রাজনীতির দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন। এই জেলার অনেকে মনে করেন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া তার জীবনে এ দেশের মানুষের জন্য যে সেক্রিফাইস করে যাচ্ছেন এটা একেবারে বিরল। তিনি যদি আপোষকামী হতেন তাহলে সারা জীবনই আরাম আয়েশে কাটাতে পারতেন।

 

মানুষ আরো মনে করেন, বর্তমান সরকার বার বার তাদের ভোটের অধিকার হরন করে জোর করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় টিকে আছেন এবং নানা ভাবে জনগনকে শোষন করছেন। তাই মানুষ এখন বিএনপিকে সমর্থন করছেন। ফলে তারা এই জেলায় এখন যোগ্য নেতৃত্ব দেখতে চান। কিন্তু পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে যতো দিন যাচ্ছে ততো আজাদের হাতেই যাচ্ছে নেতৃত্ব এবং এতে বিএনপির নেতৃত্ব ভালো মানুষের হাতে না থাকার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ফলে এই সময়ে এসে বিএনপির আবারও রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফিরার যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে তাতে আজাদের কারনে এই জেলায় ইমেজ সংকটে পড়তে পারে বিএনপি।

 

এদিকে জেলার রাজনীতি এখন উদীয়মান হিসাবে যারা পরিচিত তাদের মাঝে এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দীপু এবং গোলাম ফারুক খোকন রয়েছেন। তাদের মাঝে নিজের নেতৃত্বেও প্রয়োজনে সাখাওয়াৎ এখন আজাদের সঙ্গে সখ্যতা বজায় রেখে চলছেন। কিন্তু মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দীপু এবং গোলাম ফারকু খোকন প্রমুখ কোনো সন্ত্রাসের রাজনীতির সাথে জড়িত হতে রাজী নন। তাই তাদের সঙ্গে আজাদের বিরোধ অবধারিত হয়ে উঠেছে। এতে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ হবে বিএনপি।

 

কারন এরই মাঝে আজাদ একজন আন্ডারগ্রাউন্ড পলিটিশিয়ান হিসাবেই পরিচিতি লাভ করেছেন। তার মাঝে দুর্নীতির প্রবনতাও প্রবল। তাই তিনি সুযোগ পেলে যে লুটপাটে মেতে উঠবেন এতে কারোই কোনো সন্দেহ নেই। তাই নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল মনে করেন এখনই এই অপরাজনীতিবিদেও লাগাম টেনে না ধরলে নারায়ণগঞ্জ জেলায় আগামী দিনে বিএনপিকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ। রাজনীতির নামে তার অপরাজনীতি বিএনপির মতো জনপ্রিয় দলটিকে নারায়ণগঞ্জ জেলায় সাংগঠনিকভাবে একেবারেই দূর্বল করে ফেলবে বলে অনেকেই এখন জোর দিয়ে বলছেন। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন