Logo
Logo
×

রাজনীতি

জেলায় কে হবেন বিএনপির পরবর্তী কান্ডারী

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৮:২৯ পিএম

জেলায় কে হবেন বিএনপির পরবর্তী কান্ডারী
Swapno

 

# তিন নেতার মাঝে জমে উঠেছে দলে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই
# দীপু-খোকন জনপ্রিয়তার রাজনীতি করলেও আজাদ সন্ত্রাস নির্ভর

 

 

আাগামী দিনে কাদের হাতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির রাজনীতি? বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির মূল নেতৃত্বে রয়েছেন আলহাজ্ব মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন। এই জেলার রাজনীতিতে তিনি কেবল বিএনপিতে নন বরং সব দলের মানুষের কাছেই একজন বড় মাপের রাজনীতিবিদ হিসাবে পরিচিত। তিনি যে একজন ‘জাত পলিটিশিয়ান’ এটা জানেন তার প্রতিপক্ষ দলের নেতারাও। বলতে গেলে নারায়ণগঞ্জ জেলায় এখন তার সমকক্ষ রাজনীতিবিদ আর কেউই নেই।

 

কিন্তু গিয়াস উদ্দিনেরও বয়স হয়েছে। ফলে খুব স্বাভাবিক কারনেই আগামী দিনে বিএনপির নেতৃত্বে আসবেন পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃবৃন্দ। কিন্তু এরা কারা? যারা আসতে চান কতোটুকুইবা যোগ্যতা আছে তাদের? বিএনপির পরবর্তী নেতৃত্বে আসার জন্য যারা এখন মাঠে রয়েছেন তাদের মাঝে উল্লেখযোগ্য হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তফিজুর রহমান ভুইয়া দীপু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন এবং কেন্দ্রীয় বিএনপি সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ।

 

এছাড়া এই তিন নেতার সঙ্গে আরো আছেন সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু সহ আরো কয়েকজন। তবে এই জেলায় এখন গিয়াস উদ্দিনের পরে তিন নেতার তৎপরতা এখন চোখে পড়ার মতো। এরা হলেন দীপু ভুঁইয়া, খোকন এবং আজাদ। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে এই মুহুর্তে নারায়ণগঞ্জ জেলার রাজনীতিতে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হলেন মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দীপু।

 

এরই মাঝে প্রমান হয়েছে যে তিনি যখন ডাক দেন তখন তার ডাকে সারা দিয়ে মাঠে নামেন হাজার হাজার মানুষ। দীপুর চেয়ে বড় মিছিল এখন আর এই জেলায় কেউ করতে পারে না। তাই বলা চলে এই মুহুর্তে দীপুই হতে পারেন বিএনপির মূল কান্ডারী। তবে তিনি তার বন্ধু গোলাম ফারুক খোকনকে সামনে রেখে রাজনীতি করছেন। বলা যায় দীপু আর খোকন এখন একে অপরের পরিপূরক। তাই দীপু আর খোকন যদি সততার সহিত রাজনীতি করেন তাহলে তারা দুইজনেই হতে পারেন নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতির পরবর্তী কান্ডারী।

 

কিন্তু অনেক বিশ্লেষকের মতে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বেশ বড় আকারে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন নজরুল ইসলাম আজাদ। এই আজাদ এরই মাঝে একজন অপরাজনীতিবিদ হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছেন। বলা হচ্ছে বিএনপি যদি রাস্ট্র ক্ষমতায় আসে তাহলে আজাদ মূলত দুটি টার্গেটকে সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছেন। ১) সন্ত্রাস, ২) দুর্নীতি। বিগত দিনগুলিতে আজাদের রাজনীতি পর্যবেক্ষন করে দেখা গেছে এই ব্যক্তির কোনো জনপ্রিয়তা নেই।

 

জেলার কোথাও আজাদের সাথে নারায়ণগঞ্জের গণমানুষের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কিন্তু দিনে দিনে তিনিই বনে যাচ্ছেন এই জেলার দন্ডমুন্ডের কর্তা। প্রচার রয়েছে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর বন্ধু হওয়ার কারণে তার উপর জিয়া পরিবারের আশির্বাদ রয়েছে। আর এই আশির্বাদ থাকার কারণেই কোনো রকম যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি এখন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক।

 

আর এই পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি এখন এই জেলায় বিএনপির রাজনীতিতে যারা সন্ত্রাস ও মাদকের সাথে জড়িত তাদেরকে কাছে টেনে নিয়েছেন। তাই নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের অনেকে মনে করেন আজাদের রাজনীতি মানেই হলো সন্ত্রাস। তাই বিএনপির কেন্দ্র যদি আজাদকে শেল্টার দেয়া বন্ধ না করে এবং তার হাতে তুলে দেয় এই জেলায় বিএনপি গঠনের দায়িত্ব তাহলে আগামী দিনে নারায়ণগঞ্জে সাংগঠনিক ভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে বিএনপি।

 

তাই আগামী দিনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান কি এই জেলায় কোনো জনপ্রিয় নেতাকে বেছে নেবেন নাকি কোনো সন্ত্রাসীকে বেছে নেবেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে শেষ পর্যন্ত মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দীপু আর গোলাম ফারুক খোকন যদি আন্তরিকতা এবং সততার সহিত মাঠে থাকেন তাহলে নারায়ণগঞ্জের মাঠের রাজনীতিতে তাদের সাথে টিকবে না নজরুল ইসলাম আজাদ। যদিও এদের মাঝে দলে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই এরই মাঝে পরিষ্কার হয়ে উঠেছে বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন।এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন