সভাপতির একক রাজত্বে অনৈক্য জেলা ছাত্রদলে
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১০:৫৬ পিএম
# জেলা ছাত্রদলের রাজনীতিতে বিষফোঁড়া নাহিদ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি বর্তমানে দফায় দফায় দলীয় আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে বিএনপিসহ সকল অঙ্গসংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্ঠা করছে। কিন্তু মূল দলগুলোতে একটু ঐক্যবদ্ধতা দেখা গেলে ও সহযোগী সংগঠনে ঐক্যবদ্ধ একেবারেই শূন্যের কোঠায়। কিন্তু বর্তমানে কঠোর আন্দোলনের রূপ রেখা তৈরি করছে বিএনপি।
কিন্তু এতে ও কোনভাবেই একত্রিত হতে পারছে না অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এদিকে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের। জেলা ছাত্রদলের কমিটি হওয়ার পর থেকেই জেলা ছাত্রদলে কোন্দলের দেখা মিলেছে। যার মূল বিতর্কের জন্ম দিয়ে যাচ্ছে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদ হাসান ভূঁইয়া।
নেতৃবৃন্দের দাবি, বিগত দিনে রূপগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সভাপতি থাকাকালীন সময়ে ও এই নাহিদ নানা কোন্দালের জন্ম দিয়েছিলেন। যার কারণে রূপগঞ্জ ছাত্রদল নিয়ে নানা খুবই চিন্তিত ছিল জেলার নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও এই সভাপতি তার নিজস্ব এলাকায় রাজনীতি করতে ভয় পায়।
কিন্তু বিভিন্ন তাদবিরে তাকে এখন জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক করায় নষ্ট হয়ে গেছে জেলা ছাত্রদলের রাজনীতি এমনকি এই দুঃসময়ে একক রাজনীতি করার লক্ষে নিজেদের মধ্যে সৃষ্টি করছে দ্বন্দ। জানা গেছে, নাহিদ ভূইয়া বর্তমানে একক শুধু রূপগঞ্জের কিছু সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে কর্মসূচিতে উপস্থিত হন।
আবার কোন সময় বিএনপির নিবার্হী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর নেতৃত্বধীন মিছিলে পিছনে পিছনে একই কর্মসূচি পালনে চলে আসে যা নিয়ে অনেকটাই ক্ষোপ প্রকাশ করছে তৃণমূল। সকলের দাবি এক নাহিদেই বর্তমানে ছন্নছাড়া জেলা ছাত্রদল।
দফায় দফায় নাহিদের একক রাজত্বের দৃশ্য সকলের চোখে পরলে ও গত ১ সেপ্টেম্ববর বিএনপির ৪৫তম প্রতিষ্ঠা বাষির্কীতে ঢাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা ও মহানগরসহ সকল অঙ্গসংগঠন ঐক্যবদ্ধভাবে উপস্থিত থাকলে ও জেলা ছাত্রদলে অনঐক্যর দৃশ্য সকল নেতাকর্মীদেও চোখে পরার মতোই ছিল।
জানা গেছে, বিএনপির প্রতিষ্ঠা বাষির্কীর দিনে নিজের কমিটিতে থাকা বাকিদের সাথে কোন প্রকারের যোগাযোগ না করেই রূপগঞ্জের কিছুসংখ্যক ছাত্রদলের নেতাকর্মী নিয়ে কোন রকম জেলা ছাত্রদলের ব্যানারে পোগ্রাম করে সভাপতি নাহিদ হাসান ভইঁয়া।
অপর দিকে জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক ও সিনিয়র যুগ সাধারন সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদককে দেখা গেছে, আলাদাভাবে জেলা ছাত্রদলের ব্যানারে ব্যাপক বিভিন্ন্ ইউনিটের নেতাকর্মী একত্রিত করে শোডাউন দিতে অপর দিকে সুলতান মাহমুদকে দেখা যায় জেলা ছাত্রদলের আলাদা শোডাউন দিতে।
অপর দিকে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সাগর সিদ্দিকী ফতুল্লা থানা যুবদলের ব্যনারে মিছি নিয়ে উপস্থিত হন। যার পরিপ্রেক্ষিতে বোঝা গেলে জেলা ছাত্রদলে বিভক্তে জর্জরিত। এতে বিনষ্ট হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ ছাত্র রাজনীতি হচ্ছে না কোন ইউনিট কমিটি যে দিকে লক্ষ্যে রেখে অনেকে চলে যাচ্ছে যুবদল বা স্বেচ্ছাসেবক দলে সেই পরিপ্রেক্ষিতে বোঝা যাচ্ছে সভাপতি নাহিদের কর্মকান্ডে ধ্বংর্সের পথে নারায়ণগঞ্জ জেলার ছাত্রদলের রাজনীতি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলকে সুসংগঠিত করা লক্ষে ৯ সদস্য বিশিষ্ট জেলা ছাত্রদলের কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। যেখানে সভাপতি করা হয়েছে নাহিদ হাসান ভূইঁয়া ও সাধারন সম্পাদক জুবায়ের আহম্মেদ জিকু, সিনিয়র সহ- সভাপতি সুলতান মাহমুদ, সহ-সভাপতি সাগর সিদ্দিকী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ভ‚ইয়া, সাংঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলন।
কমিটি গঠনের পর থেকেই দেখা গেছে কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা মোনমালিন্ন। শুধু সভাপতি ছাড়া কেউ জেলা ছাত্রদলের কমিটিকে পছন্দ করেনি। কিন্তু দলের দূ:সময়কে লক্ষ্যে রেখে সাধারন সম্পাদক জুবায়ের রহমান জিকু নাহিদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে।
কিন্তু বাকিরা কেউ আসতে না চাইলে ও পরবর্তীতে শুধু সিনিয়র সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাধেই জেলা ছাত্রদলের বাকি ৮ জন ঐক্যবদ্ধ হয়ে কিছুদিন রাজপথে কাজ করা শুরু করে। কিন্তু কিছদিনের মাধ্যেই জেলা ছাত্রদলে আবার দেখা মিলে দৈন্যদশা, নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী জানা গেছে, কোন চেইন অব-কমান্ড না রেখেই কাজ করছে সভাপতি যার কারণে বিশৃঙ্খলা আর বিশৃঙ্খলার থাবা পরেছে জেলা ছাত্রদলে।
এমনকি সভাপতি নাহিদ হাসান ভূইঁয়া কোন সময় রূপগঞ্জ থেকে নেতকার্মী নিয়ে আসে না, এছাড়াও নিজস্ব প্যাকশিকশনে সকল থানা কমিটি তৈরিসহ নানা বিষয় নিয়ে একক রাজত্ব কায়েম করতে মরিহা হয়ে উঠেছেন নাহিদ হাসান ভূঁইয়া। এছাড়াও এই নাহিদে ক্ষিপ্ততা প্রকাশ করছেন জেলা ছাত্রদলের আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।
এমনকি অনেকের দাবি বিগত দিনে ফতুল্লা সন্তান মশিউর রহমান রনির নেতৃত্বে জেলা ছাত্রদল অনেকটাই সুসংগঠিত ছিল। এমনকি প্রতিটি ইউনিটের নেতৃবৃন্দ যথাযথভাবে সকল কর্মসূচি পালনসহ অনেকটাই উজ্জ্বীবিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে রূপগঞ্জের ছাত্র নেতা নাহিদ ভ‚ইয়াকে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি দেওয়ার পর থেকেই অনঐক্যর বেড়া জালে বন্দি জেলা ছাত্রদল।
এর আগে ও এই সভাপতি নাহিদ হাসান ভ‚ইয়ার বিরুদ্ধে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ইফতার পার্টির কথা বলে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিরাট অংর্কের টাকা তুলে। কিছ লুঙ্গি ও চাল-সেমাই বিতরন করে বাকি টাকার কোন হিসাব না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল এই সভাপতির বিরুদ্ধে।
বর্তমানে একক রাজত্ব কায়েম করার আশায় উঠে পরে লেগেছে এই সভাপতি নাহিদ ভূঁইয়া। যার কারণে সংগঠনে বিশৃঙ্খলার পাশাপাশি হচ্ছে না কোন ইউনিট কমিটি এমনকি কেন্দ্র থেকে তিন মাসের সময় দেওয়া পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনে ও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে জেলা ছাত্রদল। এবার কয়েকভাগে বিভক্ত হয়ে আন্দোলনে জেলা ছাত্রদল থাকলে ও এটার মধ্যে বাকবান্ডিতা ও বিশৃঙ্খলার দেখা মিলবে দাবি তৃর্ণমূলে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাহি হাসান ভ‚ইঁয়ার মুঠোফোনে একাধিক বার কল করলে ও তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। এন.হুসেইন রনী /জেসি


