রাজনীতির নামে হঠকারিতা স্ট্যান্টবাজিই আজাদের পুঁজি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৯:১৫ পিএম
# মুই কি হনুরে ভাব নিয়ে থাকলেও বাস্তবে না.গঞ্জের সাধারণ মানুষ তাকে চিনেই না
নারায়ণগঞ্জ জেলার রাজনীতিতে জনপ্রিয়তার নিরিখে নজরুল ইসলাম আজাদ একটি বিগ জিরো হিসাবেই পরিচিত। নারায়ণগঞ্জ জেলার শতকরা নিরানব্বই শতাংশ মানুষ তাকে চিনেন না। আর নারায়ণগঞ্জ শহরেতো কেবল মাত্র বিএনপির নেতারা ছাড়া সাধারণ মানুষ তার নামও শোনেননি বলে জানিয়েছেন। তাই এই জেলার জনগনের মাঝে তার কোনো গ্রহনযোগ্যতাই নেই বললেই চলে। বিএনপির সামান্য কিছু লোক তার পেছনে যাচ্ছে এই কারনে যে তিনি জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ।
এটাই তার এক মাত্র যোগ্যতা বলে মনে করেন তাকে যারা চিনেন তারা। এছাড়া তার আর কোনো রাজনৈতিক যোগ্যতাই নেই। এই যে সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন করে চলেছেন তাতে নারায়ণগঞ্জ জেলায় তার কোনো অবদানই নেই। নজরুল ইসলাম আজাদের কোনো কর্মী সমর্থক নেই বলেই তিনি এখন জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপর ভর করেছেন।
কিছু নেতাও তাকে জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ লোক হওয়ার সুবাধে বিরাট কিছু মনে করছেন। বিশেষ করে এই জেলায় যারা অপরাজনীতি করেন, যারা সন্ত্রাসের সাথে এবং মাদকের সাথে জড়িত কেবল তারাই এখন তার শিষ্য। কিন্তু বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীরা এবং গোটা নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ মানুষের মাঝে তার কোনো গ্রহনযোগ্যতাই নেই। তার পরেও তিনি মুই কি হনুরে ভাব নিয়ে চলাফেরা করেন।
এদিকে গতকাল নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষের সাথে কথা বলে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয় তারা বিএনপি নেতা আজাদকে চিনেন কিনা? প্রায় সবাই একটাই উত্তর দেনযে এই নামের কোনো বিএনপি নেতাকেই তারা চিনেন না বা তার নামও তারা কখনো শোনেননি।
তবে সবাই এক বাক্যে বলেন তারা বিএনপি নেতা হিসাবে যাদেরকে চিনেন তাদের মাঝে রয়েছেন মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন, এডভোকেট আবুল কালাম, এডভোকেট সাখাওয়াৎ হোসেন খান, এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, আতাউর রহমান আঙ্গুর, কাজী মনির, দীপু ভুঁইয়া, আজহারুল ইসলাম মান্নান প্রমুখ। নজরুল ইসলাম আজাদ নামে কাউকে তারা চিনেন না বলেই জানান। এই হলো নারায়ণগঞ্জ জেলার এই মুহুর্তে কথিত দাপুটে রাজনীতিবিদ নজরুল ইসলাম আজাদের অবস্থান।
অপরদিকে সাধারণ মানুষ তাকে না চিনলেও বিএনপির নেতাকর্মীরা অনেকেই তাকে চিনেন। তারা মনে করেন আজাদ একজন হঠকারী ব্যক্তি। তিনি ভাব নিয়ে থাকেন এবং রাজনীতিরি নামে স্ট্যান্ডবাজী করেন। তাদের মতে দেশে আওয়ামী লীগ যে সন্ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করেছে বিএনপি ক্ষমতায় এলে সেটাই করতে চান আজাদ। তার মানে তিনি হতে চান গডফাদার বা মাফিয়া ডন। কিন্তু তিনি এটা বুঝেন না যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এক নয়।
বিএনপি কখনোই সন্ত্রাসের রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেয় না এবং আগামী দিনেতো আরো দেবে না। দেশে যদি কোনো পরিবর্তন হয় তাহলে সন্ত্রাস দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণমানুষের অধিকারের পক্ষেই হবে। তাই আজাদের মাফিয়া ডন বা গডফাদার হবার খায়েশ কোনো দিনই পূরণ হবে না। তাই তিনি নিজে যতোই নিজেকে বিরাট কিছু মনে করেন না কেনো জনগনের বিপক্ষে অবস্থান নিলে আর সন্ত্রাস নির্ভর রাজনীতি করতে চাইলে আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হতে সময় লাগবে না বলেই মনে করেন বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী। এস.এ/জেসি


