Logo
Logo
×

রাজনীতি

যুবলীগ-স্বেচ্ছাসেবকলীগে ফের মামা-ভাগিনার নজর

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৮:৫৬ পিএম

যুবলীগ-স্বেচ্ছাসেবকলীগে ফের মামা-ভাগিনার নজর
Swapno

 

# ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের নেতৃত্বে আসা দূরুহ হয়ে পড়েছে
# একই ব্যক্তিদের পুনরাবৃত্তি নিয়ে যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাদের আক্ষেপ

 

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবলীগ স্বেচ্ছাসেবকলীগের আসন্ন কমিটিতে সম্পর্কে তারা মামা-ভাগিনা নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া সাজনু ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন ওরফে ভাগিনা জুয়েল। দীর্ঘদিন ধরেই যুবলীগ-স্বেচ্ছাসেবকলীগের সংগঠনে শীর্ষ পদগুলো মামা ভাগিনার দখলে থাকা সত্ত্বেও আবারও তারা শীর্ষ পদের ভাগ বসাতে কেন্দ্রে নিজেদের রাজনৈতিক জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন।

 

দীর্ঘকাল নেতৃত্ব দেয়ার পর অঙ্গসংগঠন থেকে মূল দলে স্থান পাওয়ার পরও তাদের পদের লালসা না কমার কারণে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবলীগ স্বেচ্ছাসেবকলীগের আসন্ন কমিটিতে নেতৃত্বের পরিবর্তন বা নব নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কারণ তারা নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী সাংসদের আস্থাভাজন হওয়ায় অর্থ ক্ষমতার প্রভাবে মহানগর যুবলীগ স্বেচ্ছাসেবকলীগের শীর্ষ পদ ফের মামা-ভাগিনার দখলে চলে যেতে পারে।

 

দলীয় সূত্র বলছে, ২০০৫ সালের নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবলীগের কমিটি গঠিত হয়। কমিটিতে সভাপতি পদে শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া সাজনু ও সাধারণ সম্পাদক পদে আহমদ আলী রেজা উজ্জ্বলকে নির্বাচিত করায়। দীর্ঘ এক যুগের অধিক সময় ধরে সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া সাজনু ও সাধারণ সম্পাদক আহমদ আলী রেজা উজ্জ্বল মহানগর যুবলীগের নেতৃত্ব দিয়ে আসলেও খুব সীমিত সময়ের জন্য একত্রিত হয়ে যুবলীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

 

কারণ মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া সাজনু বলয়গত কারণে নিজ অনুসারীদের নিয়ে মহানগর যুবলীগের নেতৃত্ব দিতে থাকে। এতে করে তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হলেও মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী অবস্থান তৈরী করতে পারেননি। নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি থেকে শুরু করে ইউনিট কমিটি পর্যন্ত সংগঠনের নেতৃত্বে থাকা নেতাদের হুদিস খুঁজে পাওয়া যায় না।

 

কারণ ইউনিটগুলোর গুটিকয়েক নেতা তার সাথে যুবলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে এতেই মহানগর যুবলীগকে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে দাবি করেছেন। তবে প্রকৃতভাবে মহানগর যুবলীগকে দীর্ঘ এক যুগেও শক্তিশালী একটি সংগঠনে রূপ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তারপরও পূণরায় মহানগর যুবলীগের আসন্ন কমিটিতে আহ্বায়ক/সভাপতি পদে নিজের জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন।

 

এতে করে সাবেক ছাত্রনেতা থেকে শুরু করে বর্তমান যুবলীগের নেতৃত্বে থাকা নেতারা মহানগর যুবলীগের শীর্ষ পদের প্রত্যাশা করলেও তাদের নেতৃত্বের প্রত্যাশার অন্যতম বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া সাজনু। যার কারণে মহানগর যুবলীগে নব নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া সাজনুর ভাগিনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের বর্তমান সভাপতি পূণরায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি পদে নেতৃত্ব আসার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে।

 

দীর্ঘদিন ধরেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত জুয়েল হোসেন কখনো মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতি নানা সময় মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের শীর্ষ পদে নেতৃত্ব দিলেও আবারও মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের শীর্ষ পদে নেতৃত্ব দেয়ার খায়েশ তার এখনো মেটেনি আবারও আসন্ন মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের শীর্ষ নানা পদে নেতৃত্ব দিলেও নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সকল ইউনিট কমিটি গঠন এবং ইউনিটগুলো শক্তিশালী করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

 

আর এ সকল ইউনিট কমিটিগুলো পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্যোগে সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত হয়। সংগঠন পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েও আবার মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের শীর্ষ পদ প্রত্যাশা করছেন। তবে মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগে জুয়েল হোসেনের থেকে একাধিক শক্তিশালী প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও জুয়েল হোসেনের মামা মহানগর যুবলীগে সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া সাজনু ও মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল তাদের প্রভাবে মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের শীর্ষ পদ বাগাতে ফের উদগ্রীব জুয়েল।

 

যুবলীগের মহানগর সভাপতি হতে যাচ্ছেন এমপি শামীম ওসমানের আস্থাভাজন কর্মী শহর শাখার সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া সাজনু। সাধারণ সম্পাদক হতে যাচ্ছেন মেয়র আইভীর ছোট ভাই শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জল। মহানগর যুবলীগের জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন শহর যুবলীগের সহ-সভাপতি আমিনুর রহমান শাহিন, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ, সাধারণ সম্পাদক হাসনাত রহমান বিন্দু ও আহম্মেদ কাউসার।

 

এখানে আহম্মেদ কাউসারের কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে না থাকায় প্রথমে তার জীবন বৃত্তান্ত জমা নেয়নি কেন্দ্রীয় নেতারা। পরে তার জীবন বৃত্তান্ত জমা নিয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী ৬ বা ৭ সেপ্টেম্বর জমাকৃত জীবন বৃত্তান্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় যুবলীগের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকসহ নেতারা বসে দ্রুত আহ্বায়ক দেয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারে বলে জানা গেছে। তারা জানান, দীর্ঘ এক যুগ ধরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর যুবলীগের সক্রিয়তা কমে গেছে। যুবলীগ কারো একক নয় এটা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠন।

 

মহানগর যুবলীগের অল্প সিভি জমা পড়ায় এটা নিয়ে তেমন কোন চিন্তা বিষয় নয়। জেলায় একাধিক সিনিয়র নেতাদের আস্থাভাজন জীবন বৃত্তান্ত জমা দেয়ায় কিছুটা বিব্রত রয়েছে কেন্দ্রীয় নেতারা। সব মিলিয়ে দ্রুত সময়ে জেলা ও মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক বা আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হবে। জানা যায়, ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের পর সিনিয়র নেতারা গা-ঢাকা দেয়। এর কয়েক বছর পর ২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়।

 

এতেও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা থাকা অবস্থায় ২০০৫ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে জেলা যুবলীগের সভাপতি পদে আব্দুল কাদির ও সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল নির্বাচিত হন। মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া সাজনু ও সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জল নির্বাচিত হয়। ওই সময় এমপি শামীম ওসমান ও মেয়র ডা. আইভী রাজনৈতিকভাবে মিল থাকায়, তাদের সিদ্ধান্তে নেতারা নির্বাচিত হন।

 

সেই সঙ্গে জাকিরুল আলম হেলালকে করা হয় সিনিয়র সহ-সভাপতি, আসিফ হোসেন মানুকে সহ-সভাপতি ও শাহ নিজামকে করা হয়েছিল যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর ২০১৫ সালে মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জাকিরুল আলম হেলাল ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম মহানগর আওয়ামী লীগে যুক্ত হয়ে এখনো অব্যাহত রয়েছে।

 

শামীম-আইভী দ্বন্দ্বের কারণে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মতানৈক্য সৃষ্টি হয়। এর ফলে জেলা যুবলীগের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এর মধ্যে ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের আংশিক কমিটিতে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদলকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

 

১৩ মাস পর ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হয়ে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে সাবেক হয়েছেন। এই দুই নেতা যুবলীগের দায়িত্বে থেকেও জেলা আওয়ামী লীগে পদায়নে যুবলীগের কোনো কর্মসূচি পালন করেনি। এতে প্রায় ৬ বছর ধরে জেলা যুবলীগ নেতৃত্বহীন হয়ে আছে, কিন্তু প্রবীণদের পিছনে ফেলে নবীনদের জেলা যুবলীগের কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে।

 

২০০৫ সালে সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ শহর যুবলীগের (বর্তমানে মহানগর) কমিটি গঠিত হয়। কমিটির সভাপতি শাহদাত হোসেন ভূঁইয়া সাজনু ও সাধারণ সম্পাদক আহমদ আলী রেজা উজ্জল। এর মধ্যে সাজনু শামীম ওসমানের অনুসারী আর উজ্জল মেয়র আইভীর ছোট ভাই। মহানগর যুবলীগের শীর্ষ দুই নেতাকে দীর্ঘ ১৮ বছরেও একজোট হয়ে কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেখেনি নেতাকর্মীরা। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আলাদা আলাদা ভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করছেন। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন