কিশোরগ্যাংয়ের অপরাধ দমনে একমত মন্ত্রী-এমপিরা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৯:০৯ পিএম
# কিশোরগ্যাং নিয়ে অভিভাবকদের সাথে কথা বলছি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
# অন্যদলের নেতারা কিশোরগ্যাং ব্যবহার করে: শামীম ওসমান
# না.গঞ্জে ৮২ টি মামলা হয়েছে কিশোরগ্যাংয়ের বিরুদ্ধে
নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম শিল্পাঞ্চল। প্রায় সকল জেলার মানুষ এই জেলায় বসবাস করে। যার ফলে এই জেলায় অপরাধের পরিমাণও তুলনামূলক বেশি। কয়েক দিন পর পরই নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন ভাবে কিশোর অপরাধীরা নানা ভাবে অপরাধ করে থাকে। মাঝে তাদের অপরাধের মাত্রা সন্ত্রাসীদেরকেও ছাড়িয়ে যায়।
এদেরকে ক্ষমতাসীন দলের কিংবা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জনপ্রতিনিধি বা নেতৃবৃন্দ শেল্টার দিয়ে থাকে বলে অভিযোগ আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের সভাপতি হাজী নুর উদ্দিনের। তবে গতকাল জেলা পুলিশের এক সভায় নারায়ণগঞ্জের কিশোরগ্যাং অপরাধ দমন নিয়ে একমত প্রকাশ করেন স্থানীয় এমপি মন্ত্রীরা। একই সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও তাদের সাথে এক মত প্রকাশ করেন।
এদিকে গতকাল নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ আয়োজিত কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এমপি মন্ত্রীরা কিশোরগ্যাং নিয়ে মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, যারা কিশোরগ্যাং অপরাধে জরিয়ে যাচ্ছে তারা না বুঝেই এই অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। এদের মাঝে যারা ১৮ বছর রয়েছে তাদেরকে থানায় মামলার মাধ্যমে আমরা আইনের আওতায় আনছি।
কিশোরগ্যাং বিষয়ে আমরা অভিভাবকদের সাথে কথা বলছি। নারায়ণগঞ্জে ৮২ টি মামলা হয়েছে কিশোরগ্যাং নিয়ে। এছাড়া এই জেলায় এক হাজার একশ’ তেত্রিশটি মামলায় ৩ হাজার ৩শ’ আসামী জেলা করাগারে রয়েছে। আমরা কিশোরগ্যাং নিয়ে অভিভাবকদের সাথে কথা বলে তাদেরকে সতর্ক করছি।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান কিশোরগ্যাং প্রসঙ্গে বলেন, প্রতিমহুর্তে ষড়যন্ত্র চলছে। সামনের সময়টা অনেক কঠিন। ষড়যন্ত্রকারীরা চাচ্ছে এই দেশকে ধ্বংস করতে। অন্যদলের নেতারা কিশোরগ্যাংকে ব্যবহার করে কিশোরদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে। তবে তিনি কোন দলের নাম না উল্লেখ্য করলেও কোন দলকে বুঝিয়েছেন তা রাজনৈতিক মহলের বুঝতে বাকি নেই।
নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, অন্য জেলার তুলনায় নারায়ণগঞ্জ ব্যতিক্রম। জনসংখ্যার তুলনায় এখানে পুুলিশের সংখ্যা কম। তবে আগের চেয়ে এখানকার অপরাধের মাত্রা কমেছে। কিশোরগ্যাং নজর দিলে এই অপরাধের মাত্রাও কমবে। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুও কিশোরগ্যাং দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান।
অপরদিকে সম্প্রতি সময়ে নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন এলাকায় কিশোরগ্যাং কর্তৃক একাধিক হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় অনেকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। দেখা যায় কিশোর গ্যাং, কিশোর আড্ডা, গলির মুখে মোটর সাইকেল মহড়া, সিনিয়র জুনিয়র নিয়ে নিয়মিত ঝগড়া এমনকি খুনাখুনি এসব এখন নিত্য নৈমিত্তিক বিষয়।
উঠতি বয়সি কিশোরদের অপরাধ নিয়ে সমাজে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়ে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে খোদ অভিভাবক মহলও রয়েছে চরম দুঃশ্চিন্তায়। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে এ বিষয়ে আইন প্রয়োগের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো অভিভাবকদের ভূমিকা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত মাসে নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর এলাকায় কিশোরগ্যাং সন্ত্রাসী গ্রুপ ব্যবসায়ীদের দোকান পার্টে হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা শেল্টার দিচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯ আগস্ট নাসিক ১৩ নং ওয়ার্ডের তালা ফ্যাক্টরির মোড় এবং ঈদগাহ মাঠের সামনে তান্ডব চালায় কিশোরগ্যাং সন্ত্রাসীরা। এসময় পথচারী, দোকানদার, পুলিশ সদস্যসহ ১২ জন আহত হয়। এছাড়াও অন্তত ১৮টি দোকান ভাংচুর করে সন্ত্রাসীরা। সদস্যসহ ১২ জন আহত হয়। এছাড়াও অন্তত ১৮টি দোকান ভাংচুর করে সন্ত্রাসীরা।
১৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানের অনুসারী জুবায়ের আহম্মেদ অমিও গ্রুপের সদস্যদের খোঁজ করতে এসেছিল মাসদাইর কবরস্থান সংলগ্ন এলাকার নেছার ও সাব্বির গ্রুপের লোকজন। তবে অমিও গ্রুপের কাউকে না পেয়ে তালা ফ্যাক্টরির সামনে বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করে তারা।
মহড়া দিয়ে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠের সামনে গেলে সেখানে একটি রেস্টুরেন্টে দাওয়াতে আসা রূপগঞ্জের এক পুলিশ সদস্য তাদের ভিডিও করেন। এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের পুরো শহর জুরে আতঙ্ক তৈরী হয়। এমনকি সচেতন মানুষের কাছে আলোচনা তৈরীয় হয়।
সমাজ বিশ্লেষকদের মতে কিশোর বয়সীদের দ্বারা সংঘটিত সমাজে বিদ্যমান মূল্যবোধ ও নিয়মনীতি বিরোধী কাজই কিশোর অপরাধ। তবে সামাজিক মূল্যবোধ রাষ্ট্র, শহর, গ্রাম বা এলাকাভেদে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। কিশোর-কিশোরী ও অপ্রাপ্তবয়স্করা চিন্তাভাবনা না করে আবেগের বশবর্তী হয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ দ্বারা অতিসহজে ও স্বল্প সময়ে প্রভাবিত হয়। তারা উদ্দেশ্যহীন ভাবে, কৌতূহলবশত বা নিজেকে জনগণের সামনে প্রকাশ করার জন্য অপরাধ করে থাকে। তাদের এই অপরাধ থেকে বের করে আনার জন্য অভিভাবক মহলকে সচেতন হতে হবে।
আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের সভাপতি নুর উদ্দিন বলেন, নারায়ণগঞ্জ এখন অপরাধের ব্যাধির আকার ধারণ করেছে। কিশোর বয়সের ছেলে সন্তানদের বোধশক্তি কম থাকায় তারা অপরাধে জড়িয়ে পরছে। হঠাৎ করে তারা বড় ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পরছে। তাছাড়া রাজনৈতিক পাতি নেতারা তাদের ব্যবহার করে লাইম লাইটে আসে।
এমনকি ভাই বোনের লোক পরিচয় দিয়ে তাদের শেল্টার দিয়ে থাকেন। তাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে এলাকার প্রভাব বিস্তার করে ডিস ব্যবসা, ওয়াইফাই ব্যবসা সহ বিভিন্ন ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করতে গিয়ে তারা অপরাধে জড়িয়ে পরে। এর জন্য মুক্তি পেতে পারিবারিক, সামাজিক ভাবে মানুষে আরও তৎপর হতে হবে। এমনকি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর হতে হবে। এস.এ/জেসি


