সভাপতির একক প্রেসক্রিপশনে কেন্দ্রে ছাত্রদলের ১২ইউনিটের খসড়া কমিটি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৯:২৬ পিএম
# এর মাধ্যমে স্পষ্টত বড় বিভেদ তৈরি হলো ছাত্রদলে
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির অত্যন্ত সহযোগী সংগঠন জেলা ছাত্রদল যা বিগত দিনে সহযোগী সংগঠন হিসেবে আন্দোলণ সংগ্রামে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে এসেছে। কিন্তু কয়েক মাস পূর্বে জেলা ছাত্রদলের নয়া কমিটি গঠনের পর থেকে লক্ষ্যে করা যাচ্ছে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না জেলা ছাত্রদলের। জানা গেছে, বর্তমানে জেলা ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি নাহিদ হাসান ভূঁইয়া সংগঠনে একের পর এক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী জানা গেছে, জেলা ছাত্রদলের আওতাধীন ১২টি ইউনিটে তিনি এককভাবেই রাজত্ব করতেই একঘেয়ামী পানা শুরু করে দিয়েছে। সূত্র মতে জানা গেছে, এবার জেল ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদ কমিটি গঠনের সময় যে নির্দেশনা দেয়েছিলেন কেন্দ্র সেই নিয়ম ভেঙ্গে সেক্রেটারী, সিনিয়র-সভাপতি, সহ-সভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের সাথে কোন সমন্বয় না করে সভাপতি নাহিদ নিজের একক প্রেসক্রিপশনে জেলা ছাত্রদলের আওতাধীন ১২টি ইউনিটের খসড়া কমিটি কেন্দ্রে জমা দিয়েছেন।
যা নিয়ে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনে জেলা ছাত্রদলকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। এমন একের পর এক বিতর্কের কারণে এবার নেতৃবৃন্দরা কেন্দ্রে রদবদলের দাবি ও জানাতে পারে বলে জানা গেছে। এই নাহিদ হাসান ভূঁইয়া জেলা ছাত্রদলকে একটি হাস্যকর সংগঠন হিসেবে পরিচয় দিয়ে রেখেছে। এর আগে ও এই নাহিদ হাসান ভূঁইয়া রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক থাকাকালীন সময়ে ও সংগঠনে একের পর এক বিতর্কের সৃষ্টি দিয়েছিলেন।
এমনকি কোন ওয়ার্ডও ইউনিয়ন কমিটি সে সময় তিনি যোগ্যতাদের না দিয়ে নিজস্ব বলয়ের লোক দিয়ে কমিটি গঠনের মতো ও নজির রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি এই নাহিদ ভূঁইয়া নিজস্ব এলাকায় রাজনীতি, শোডাউন দিতে ভয় পায় বলে জানিয়েছে নেতৃবৃন্দরা। কিন্তু গত বছর জেলা ছাত্রদলের কমিটি হওয়ার সময় কিছু নেতাদের আর্শিবাদে এই যোগ্য নাহিদ জেলা ছাত্রদলের সভাপতির পদ পায়। তার পর থেকেই জেলা ছাত্রদলের সুসংগঠিত কমিটিতে বিতর্ক কমিটিতে পরিনত হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলকে সুসংগঠিত করা লক্ষে ৯ সদস্য বিশিষ্ট জেলা ছাত্রদলের কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। যেখানে সভাপতি করা হয়েছে নাহিদ হাসান ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহম্মেদ জিকু, সিনিয়র সহ- সভাপতি সুলতান মাহমুদ, সহ-সভাপতি সাগর সিদ্দিকী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ভূঁইয়া, সাংঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলন। কমিটি গঠনের পর থেকেই দেখা গেছে কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা মনোমালিন্য।
শুধু সভাপতি ছাড়া কেউ জেলা ছাত্রদলের কমিটিকে পছন্দ করেনি। কিন্তু দলের দূঃসময়কে লক্ষ্যে রেখে সাধারন সম্পাদক জুবায়ের রহমান জিকু নাহিদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে। কিন্তু বাকিরা কেউ আসতে না চাইলে ও পরবর্তীতে শুধু সিনিয়র সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাদেই জেলা ছাত্রদলের বাকি ৮ জন ঐক্যবদ্ধ হয়ে কিছুদিন রাজপথে কাজ করা শুরু করে। কিন্তু কিছদিনের মাধ্যেই জেলা ছাত্রদলে আবার দেখা মিলে দৈন্যদশা, নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী জানা গেছে, কোন চেইন অব-কমান্ড না মেনেই জেলা ছাত্রদল চালাতে চায় এই নাহিদ সেই পরিপ্রেক্ষিতেই সংগঠনের আজ দৈন্যদশা।
এবার এই সভাপতি জেলা ছাত্রদলে আওতাধীন ফতুল্লা থানা, সোনারগাঁ থানা, রূপগঞ্জ থানা, আড়াইহাজার থানা, গোপালদী পৌরসভা, সোনারগাঁ পৌরসভা, তারাবো পৌরসভা, কাঞ্চন পৌরসভাসহ আরো বাকি ইউনিটগুলোতে একক রাজত্ব লাভের আশায় এবার তিনি কেন্দ্রীয় নির্দেশ ভঙ্গ করে কমিটিতে থাকা সুপার ফাইভের কোন সদস্যকে না জানিয়ে নিজের একক সাইনে কেন্দ্রে সকল ইউনিটের খসড়া কমিটি সার্ভমিট করেছেন।
এর আগে জানা গেছে, ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠা বাষির্কীতে ঢাকায় জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে থাকা সুপার ফাইভের সাথে কোন প্রকারের সমন্বয় বা যোগাযোগ না করেই রূপগঞ্জের কিছুসংখ্যক ছাত্রদলের নেতাকর্মী নিয়ে কোন রকম জেলা ছাত্রদলের ব্যানারে প্রোগ্রাম করে এই বিতর্কিত সভাপতি নাহিদ হাসান ভূঁইয়া।
এদিকে সুপার ফাইভের বাকি নেতৃবৃন্দরা যখন জানতে পারলেন নাহিদ এককভাবে জেলা ছাত্রদলের শোডাউন নিয়ে চলে গেছে তখন কোন দিশে না পেয়ে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদককে দেখা গেছে, আলাদাভাবে জেলা ছাত্রদলের ব্যানারে ব্যাপক বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মী একত্রিত করে শোডাউন দিতে অপর দিকে সুলতান মাহমুদকে দেখা যায় জেলা ছাত্রদলের আলাদা শোডাউন দিতে।
অপর দিকে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সাগর সিদ্দিকী ফতুল্লা থানা যুবদলের ব্যনারে মিছিল নিয়ে উপস্থিত হন। যার পরিপ্রেক্ষিতে বোঝা গিয়েছিল জেলা ছাত্রদলের কমিটি বিভক্তে জর্জরিত। এতে বিনষ্ট হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ছাত্র রাজনীতি। এবার আরেক বিতর্ক সৃষ্টি করে একক ১২টি ইউনিট জমা দিয়ে জেলা ছাত্রদলে বিশৃঙ্খলের আরেক মূল ধারা সৃষ্টি করলো এই নাহিদ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদ হাসান ভূঁইয়ার মুঠোফোনের এয়ারটেল নাম্বারের শেষে ৯৭৪ ও বাংলালিংক নাম্বারের শেষে ২২১৭ এই নাম্বারগুলোকে কয়েকবার কল করলে ও ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। এস.এ/জেসি


