নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে সেলিম ওসমানের হুঙ্কার
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৮:২১ পিএম
# আগেও একই কৌশল অবলম্বন করেছেন তিনি
# আগামী নির্বাচন কঠিন হবে চ্যালেঞ্জিং
আগামী জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনীতির মাঠ এখন উত্তপ্ত। আওয়ামী লীগ বিএনপি কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না। দুই দলই রাজপথে নেতা কর্মীদের নিয়ে সক্রিয় রয়েছে। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য এক দফা আন্দোলন করে যাচ্ছে। অপরদিকে দুই দলের জাতা জাতিতে সুযোগ সন্ধানীতে রয়েছে জাতীয় পার্টি।
কেননা জাতীয় পার্টিকে বিএনপি আওয়ামী লীগ দুই দলই ডাকছে। পরিস্থিথির উপর নির্ভর করছে জাতীয় পার্টি কোন দিকে যাবে।এদিকে জাতীয় পার্টির দুজন সংসদ সদস্য রয়েছে নারায়ণগঞ্জে। তারা আওয়ামী লীগের মহাজোট থেকে মনোনীত হয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সেলিম ওসমান এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে লিয়াক হোসেন খোকা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।
তবে প্রতি জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি বিভিন্ন ইস্যুতে হুঙ্কার দেন। কিন্তু তার এই হুঙ্কারকে কেউ ভয় না পেলেও অনেকে নিরব হয়ে যান। আবার কেউ কেউ নির্বাচনের আগে সেলিম ওসমানের এই হুঙ্কারকে কৌশল বলে মনে করেন। তার বিরুদ্ধে যেন শক্তিশালী প্রার্থী না থাকে। এবারও একই কৌশলে নেমেছে বলে গুঞ্জন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর বন্দরের এক সভায় গিয়ে সাংসদ সেলিম ওসমান বলেন, কয়েক দিন যাবতই নারায়ণগঞ্জের বেশি কয়েকটি পত্রিকায় সেলিম ওসমান অসুস্থ্য থাকার অজুহাতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। যদি আমাকে বন্দরের জনগণ চায়, আগামী সংসদ নির্বাচনে আমি থাকবো।
যতক্ষন বন্দরের একজন মানুষও আমাকে চাইবে, ততক্ষণ আমি নির্বাচন করবো। এতে যদি আমার মান সম্মান চলেও যায়, চলে যাক। জাতীয় পার্টির এমপির এমন মন্তব্যে পুরো জেলা জুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা হচ্ছে। কেননা তিনি তার কিছু আগে বন্দরের আরেক সভায় গিয়ে বলেছেন তিনি নির্বাচন করবেন কী না তা শিউর না। নির্বাচন তার কোন ফ্যাক্ট না।
তিনি মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চান। হঠাত করে বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান নির্বাচন করার ঘোষনা দিয়ে হুঙ্কার দিয়েছেন। বন্দরের একজন লোক চাইলেও তিনি নির্বাচন করবেন। এতে যদি মানসম্মান চলে যায় তাকে কিছু যায় আসে না। তার এমন মন্তব্য নিয়ে সচেতন মহলে আলোচনা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বোদ্ধমহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে আগামী নির্বাচন নিয়ে তিনি কি ভাবতাছেন। পুর্বের নির্বাচন কঠিন না হওয়ায় তিনি সহজে জয় পান। কিন্তু এবার আগে থেকে আলোচনা হচ্ছে নির্বাচন কঠিন হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে। তাই তিনি অনেকটা বিচলিত রয়েছে বলে মনে করেন সচেতন মহল। আর না হয় তিনি এর আগে দুইবারের নির্বাচনে মানসম্মান চলে গেলে যাক।
আর এই কথা দিয়ে কি বুঝাতে চাচ্ছেন। তা নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা। তার মানস্মানই বা চলে যাবে কেন। এমন মন্তব্যই বা কেন করলেন নিজেকে নিয়ে। সূত্র মতে বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে জাতীয় পার্টিবে নিয়ে নতুন করে আলোচনায় হচ্ছে। দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের ভারত সফর ও সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদের
ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দলটিকে নিয়ে রাজনীতির ময়দানে নতুন তৎপরতা শুরু হয়েছে। স¤প্রতি দেখা গেছে, জিএম কাদের ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সাথে একাধিক বৈঠক যেমন করেছেন, তেমনি ভারত সফরে গিয়ে বিভিন্ন মহলে বৈঠক করেছেন। কিন্তু বৈঠকের বিষয়ে কি কথা বলেছেন তা নিয়ে তিনি মুখ খুলেন নাই।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মাঝে দুটি আসন দীর্ঘ দিন যাবত জাতীয় পার্টির দখলে রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন ২০০৮ সন থেকে এখন পর্যন্ত জাতীয় পার্টির দখলে রয়েছে। ২০০৮ সনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনীত হয়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রয়াত নাসিম ওসমান এমপি নির্বাচিত হন।
একই ভাবে এই আসন থেকে ২০১৪ সনের নির্বাচনেও তিনি বিনা ভোটে সংসদ সদস্য হন। কিন্তু নির্বাচনের কিছু দিন পরে প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমান মারা যাওয়ার পর এই আসন থেকে তারই ভাই সেলিম ওসমান উপ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তবে তিনি ব্যবসায়ী নেতা হিসেবেও পরিচিত। ২০১৮ সনের নির্বাচনেও সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এমপি নির্বাচিত হন। তবে তিনি আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবেন কি না তা নিয়ে এতদিন মুখ না খুললেও ইতোমধ্যে নির্বাচন করার ঘোষনা দিয়েছেন। এন. হুসেইন রনী /জেসি


