Logo
Logo
×

রাজনীতি

নিজের এলাকা ডুবে থাকলেও আইভীকে নিয়ে ব্যস্ত শামীম

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৭:৫১ পিএম

নিজের এলাকা ডুবে থাকলেও আইভীকে নিয়ে ব্যস্ত শামীম
Swapno

 

# ‘দলের চেইন অব কমান্ড না মানায় নিজ দল থেকেই বের করে দিয়েছে তৈমুরকে’

 

 

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমান এবং জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে দুইজনেই গো হারা হেরেছেন পৃথক দুটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে। জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে তাদের সঙ্গে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করেছেন মেয়র আইভী। আর এই নির্বাচনগুলি পর্যবেক্ষন করেছেন দেশী বিদেশী সকল মহল।

 

কিন্তু কেউ নির্বাচনে কোনো রকম কারচুপি হয়েছে এমন কোনো অভিযোগ করেননি বা প্রশ্ন তোলেননি কেউ। এছাড়া সারাদিন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াগুলো নির্বাচন পরিস্থিতি লাইভ করেছে। নিউজ পোর্টালগুলো মিনিটে মিনিটে সচিত্র প্রতিবেদন তুলে ধরেছে। এছাড়া নির্বাচনের পরের দিন দেশের জাতীয় এবং স্থানীয় সংবাদত্রগুলি এই নির্বাচনের বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সবাই এক বাক্যে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে বলে বিস্তারিত প্রতিবেদন করেছেন।

 

অথচ এ সময়ে এসে বিপুল ভোটে হেরে যাওয়া দুই ব্যক্তি বলছেন নির্বাচনে নাকি কারচুপি হয়েছে। কারচুপি করে নাকি জিতেছেন মেয়র আইভী। তাই এ বিষয়ে জানতে মেয়র আইভীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন নারায়ণগঞ্জের জনগন আমাকে পর পর তিনবার সিটি করেপোরেশনের মেয়র এবং একবার পৌরসভার মেয়র বানিয়েছেন। প্রতিটি নির্বাচনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাখো জনতা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন। আর এসব নির্বাচনে যারা হেরে গেছেন তাদের দুইজন এখন বলছেন আমার জয় নাকি প্রশ্নবিদ্ধ।

 

শামীম ওসমান বলেছেন, কে কেমনে পাশ করেছে তিনি নাকি সব জানেন। আবার তৈমুর আলম খন্দকার বলেছেন নির্বাচনে প্রশাসনিক ক্যু হয়েছে। তাই আমি মনে করি এসব বিষয়ে আমার তেমন কিছু বলার নেই। বরং আমাকে হারানোর জন্য কারা কি ভাবে ষড়যন্ত্র করেছেন এবং টাকা পয়সা ঢেলেছেন তাতো বিভিন্ন সময় মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের জনগনের একতার কারণে কোনো ষড়যন্ত্রই কাজে লাগেনি। তাই আমি বলবো শামীম ওসমান এবং তৈমুর আলম খন্দকার বয়সে আমার বড়।

 

তাদের রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন। রাজনীতিতে অভিজ্ঞ মানুষ তারা। তাই বলে নির্বাচনে হেরে গেছেন বলে কি মিথ্যা কথা বলতে হবে? নতুন করে গল্প বানাতে হবে? আপনারা কি মনে করেন? মানুষ কি আপনাদের কথা বিশ্বাস করে? তাহলে কেনো এসব বলছেন? এটা সবাই জানে, নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনের উপর সব সময় আমার বড় ভাই সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের প্রভাব থাকে। এখন তারা বলছেন আমার জয় নাকি প্রশ্নবিদ্ধ। এ বিষয়ে বলার মতো আমার আরো কথা থাকলেও আপাতত বলছি না। নারায়ণগঞ্জের জনগনই বিচার করবে তারা এসব কি বলছেন?

 

এদিকে এ বিষয়ে মেয়র আইভীর ঘনিষ্ঠ একজন সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতা যাকে তিনি চাচা বলে সম্ভাধন করেন তিনি বলেন, শামীম ওসমানের আসলে কোনো লাজলজ্জা নেই। তিনি সব সময়ই নির্লজ্জের মতো কথা বলেন, আইভীর সাথে নিজে হেরেছেন এক লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে। তার পরও প্রধানমন্ত্রী দয়া করে তাকে এমপি বানিয়েছেন। অথচ এখন তিনি সরকারের বিরুদ্ধেই কথা বলছেন। আইভী সরকারী দলের প্রার্থী হিসাবে নৌকা প্রতীক নিয়ে এডভোকেট তৈমুরের সাথে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।

 

কিন্তু তিনি নিজের এলাকার উন্নয়ন রেখে আইভীর বিরুদ্ধে লেগে আছেন। জলাবদ্ধতার কারনে তার এলাকার মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। এসব নিয়ে তার কোনো মাথ্য ব্যাথা নেই। সারাক্ষন লেগে আছেন আইভীর পেছনে। এখন আমাদের প্রশ্ন হলো এই যে আপনাকে পর পর দুই বার এমপি বানানো হলো তাতে আপনি কি করেছেন আপনার এলাকার জনগনের জন্য। জনগনের ট্যাক্সের টাকায় আপনার দাদার নামে স্ট্যাডিয়াম বানালেন। অথচ সেই স্ট্যাডিয়ামে এখন মাছ চাষ হচ্ছে।

 

নতুন কোনো রাস্তা, ব্রিজ বিছুই বানাননি আপনি। ফতুল্লার রাস্তাঘাটেরও বেহাল অবস্থা। এক কথায় নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচজন এমপির মাঝে সবচেয়ে ব্যর্থ এমপি হলেন আপনি। আর আপনার এই ব্যর্থতার পেছনে রয়েছে আইভীর প্রতি আপনার অতিরিক্ত হিংসা। কি করে আইভীর ক্ষতি করবেন সেই চেষ্টায় থাকেন। আমি শামীম ওসমানের উদ্দেশ্যে একটি পরিস্কার কথা বলতে চাই। আর সেটা হলো এখনো সময় আছে। আপনি এভাবে অন্যের পেছনে না লেগে জনগনের জন্য কিছু করেন। অন্যথায় ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না।

 

একদিন গডফাদার তকমা সঙ্গে নিয়েই মরতে হবে আপনাকে। সারাক্ষন ঝগড়া ঝাটি হুমকি ধমকি কোনো রাজনীতি হতে পারে না। আর তৈমুর আলম খন্দকার সম্পর্কে ওই নেতা বলেন তিনি তো নিজ দলের চেইন অব কমান্ডই মানেননি। আর এ কারনেইতো নিজ দল থেকে তাকে বের করে দিয়েছে। নির্বাচনে হেরে এতোদিন পরে আবার আবোল তাবোল বকতে শুরু করেছেন।

 

আমি চ্যালেঞ্জ দিলাম, আপনি আপনার বক্তব্য প্রমান করুন। প্রমাণ করতে পারলে আমরা আইভীকে বলবো আপনার কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে। দয়া করে বয়স অনুযায়ী দায়িত্বশীলতার সাথে কথা বলুন। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন