জনসভার বিষয়ে জানেন না আ.লীগ নেতারা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৮:৩২ পিএম
# আমাকে সমাবেশের বিষয়ে কেউ কিছু জানায়নি : আনোয়ার হোসেন
# আমরা মাইকিংয়ে শুনলাম শামীম ওসমানের উদ্যোগে জনসভা : দিপু
# সাধারণ সৌজন্যতাবোধ থাকার দরকার ছিল : জাহাঙ্গীর
আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান ঘোষিত জন সমাবেশ। বেশ কিছুদিন আগেই এই সমাবেশের আয়োজন হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন আওয়ামী লীগের একজন রাজনীতিবিদ ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। অন্যদিকে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র সাড়ে তিন মাসের মতো।
অথচ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশের কথা জানানো হয়নি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতাদের। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে এই সমাবেশকে সর্বাত্মক সফল করার জন্য এবং দলকে নারায়ণগঞ্জে নিজের প্রভাব বোঝানোর জন্য এই সমাবেশ ডাকা হয়েছে। যার জন্য শামীম ওসমান শুধু মাত্র তার ভক্ত বা অনুসারীদেরই এই সমাবেশে শরীক করছেন। অন্যদের ডাকা বা জানানোর প্রয়োজনও বোধ করছেন না তিনি।
তবে নির্বাচনের আগেকার এমন গুরুত্বপূর্ণ সময় দলীয় কোন্দল বা বিভেদ ভুলে সকলের সমন্বয়ে এই সমাবেশের কার্যক্রম করলে বিরোধী শক্তির কাছে আরও বড় ম্যাসেজ যেতো বলেও মনে করেন তারা। এই সমাবেশকে ঘিরে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদলকে দেখা গেলেও দেখা যায়নি সভাপতি আবদুল হাইকে। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহাকে দেখা গেলেও দেখা যায়নি সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেনকে।
এর বাইরেও জানানো হয়নি আওয়ামী লীগের ওসমান পরিবার তথা শামীম ওসমানের পক্ষের বাইরে থাকা কোন আওয়ামী লীগ নেতাকে। ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর ও সোনারগাঁ থানায় প্রস্তুতি সভা করা হলেও রূপগঞ্জ কিংবা আড়াইহাজারে এধরণের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও জানা গেছে।
এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখানে আওয়ামী লীগের সমাবেশ হবে অথচ যারা আয়োজন করতেছেন তারা আমাদের কাউকে জানাননি। এটা দলীয় সমাবেশ নাকি কারো একক সমাবেশ বুঝতেছি না। কারণ দলীয় সমাবেশ হলেতো দলের সকলকে জানানোর কথা।
ফতুল্লা থানা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা, বন্দর থানা এবং সোনারগাঁ থানা অর্থাৎ রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার থানা ছাড়া সকল থানায়ই প্রস্তুতি সভা করা হয়। প্রস্তুতি সভা করবে ভালো কথা। কিন্তু সাধারণ সৌজন্যতাবোধ থাকার দরকার ছিল। যারা যারা নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতা হিসেবে আছেন তাদেরকে অন্তত বলার প্রয়োজন ছিল যে, আওয়ামী লীগের জনসভা আছে তোমরা বা আপনারা থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মন্ত্রী এখানে আসবেন, কেউ যদি মন্ত্রীকে বুঝাতে চায় যে এখানে যারা উপস্থিত আছেন শুধু তারাই ওনার শুভাকাঙ্খী তাহলে সেটা ভুল। কারণ উনি (শামীম ওসমান) আমাদের দাওয়াতও দেয়নি এবং ফোনে বা কোন মাধ্যমে জানাননি। আমি মনে করি আমাদের মন্ত্রী মহোদয় বিষয়টা বুঝবেন। ওনাকে কেউ ইচ্ছা করলেই উল্টা পাল্টা বুঝাতে পারবেন না।
এই বিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু বলেন আমাকে পার্সোনললি বা দলীয়ভাবে কেউ বলেনি। আমরা যেহেতু মাইকিংয়ের মাধ্যমে শুনতে পারলাম শামীম ভাইয়ের উদ্যোগে জনসভা। তাই বলতেই হবে শামীম ওসমানের জনসভা।
যেহেতু এখানে আমাদের মন্ত্রী আসতেছেন তাই বিষয়টি আমাদের আওয়ামী লীগের যারা জেলা পর্যায়ের নেতা আছেন তাদেরকে জানানো উচিৎ ছিল। এর আগেও আমরা দেখেছি কোন উচ্চ পর্যায়ের নেতা বা মন্ত্রী আসলে দলকে ওভাবে বলা হয় না। এমনকি প্রশাসন থেকেও তাদের যে ছকবাধা লিস্ট আছে এর বাইরে কাউকে বলা হয়নি। এখন সামনে নির্বাচন। তাই সবাই যার যার অবস্থান থেকে নিজেদের অবস্থান জানানোর জন্য কর্মসূচী নেয়। এটা হয়তো শামীম ওসমানেরও তেমন কর্মসূচী। তবে আমাদের কেউ এই বিষয়ে জানায়নি।
এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, আগামী কালের (আজ) সমাবেশের বিষয়ে সাধারণ মানুষ যেভাবে জেনেছে আমিও সেভাবে জেনেছি। বিভিন্ন পত্রিকায় নিউজ ছাপা হইতেছে মাইকিং করা হইতেছে আমরা সেখান থেকে জেনেছি যে আগামী কাল (আজ) সমাবেশ হচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আমি কোন দাওয়াত পাইনি এবং আমাকে সমাবেশের বিষয়ে কেউ কিছু জানাইনি। এস.এ/জেসি


