বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পর পরই আলোচনায় চলে আসেন এড.তৈমূর আলম খন্দকার। বহিষ্কারের আকস্মিকতায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন জাতীয়তাবাদী রাজনীতির একনিষ্ঠ ধারক ও বাহক। তিনি ভেবেই নিয়েছিলেন, কেন্দ্র হয়তো তাকে সাময়িক চাপে রাখার জন্য এ কাজটি করেছে। তাই তিনি বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে থেকে প্রতীক্ষার প্রহর গুণছিলেন-এই বুঝি তার বহিষ্কারের আদেশ প্রত্যাহার করে নেয়ার চিঠি আসলো!
কিন্তু দীর্ঘ সময় পরও যখন কেন্দ্র থেকে পজিটিভ কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হলো না, তখন তিনি হতাশায় ভুগতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি ধরেই নিলেন,‘ঘরের ছেলে ঘরে আয়’ বলে তাকে আর বিএনপি বুকে টেনে নিচ্ছে না। ক্রাইসিসের এই মুহূর্তটাকে টার্গেট করেই তৃণমূল বিএনপি তার দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়। কী আর করার! খড়কুটার মতো তৃণমূলকেই আঁকড়ে ধরে তীরে ওঠার মহড়া দিতে প্রস্তুতি গ্রহণ করেন তৈমূর আলম খন্দকার।
তার দলবদলের এই সিদ্ধান্তে নারায়ণগঞ্জে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশেষকরে নারায়ণগঞ্জের দ্বিখন্ডিত বিএনপির বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা তৈমূরের এই সিদ্ধান্তকে সহজে মেনে নিতে পারছেন না। তাদের অনেকে তাকে বিশ্বাসঘাতক, বেঈমান, মোনাফেক ইত্যাদি বিশেষণে বিশেষায়িত করতেও দ্বিধা করছেন না।
এ প্রসঙ্গে তৈমূর আলম খন্দকার যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘কি করমু কন, দল আমাকে শোকজ না করেই বহিষ্কার করে দিলো আত্মপক্ষ সমর্পণের সুযোগও তো দিলো না। তারপরও তো আমি দেড় বছর দলটাকে টানলাম, মাথায় পতাকাটা নিয়ে হাঁটলাম। টোকাইয়ের মতো আমি আর কদ্দিন হাঁটমু বলেন? আমার তো আর প্লাটফরম নাই, সেই হিসাবে গেছি। কামটা কি খারাপ করছি?
আগামী সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রার্থী হবেন কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন এইটা নিয়ে কোন কথা বলা যাইবো না। এখনতো একটা বাইন্ডিংয়ে চরে গেলাম আবার। দলীয় সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত। এই মুহূর্তেই বলা যাবে না, দল নির্বাচন করবে কি করবে না।
তিনি বলেন, এখনতো আমি বিএনপির কেউ না, তারো তো আমাকে বহিষ্কারই করে দিছে। আমার ব্যাপারে বিএনপির কারো কথা বলার অধিকার নেই। একজন বহিষ্কৃত লোকের কি নিজস্ব প্লাটফরম খুঁজে নেয়ার অধিকার থাকবে না? আমি চলে যাওয়ায় আমার অনুসারীরা মনে ব্যথা পেয়েছেন, একথা সত্য। কিন্তু আমার কোন অনুসারীকে আমার সাথে যোগ দেয়ার কথা বলি নাই। এমনকি আমার ভাই ভাগিনাদেরকেও বলি নাই।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে জনাব তৈমূর বলেন, তৃণমূল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার প্রধম থিউরিই ছিলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। আর এই কথা বলতে গিয়েই তিনি বিএনপির মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। তিনিই ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপকার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমি মনে করি দেশে এখন নির্বাচনের পরিবেশ নাই। এস.এ/জেসি


