তৃণমূল বিএনপিতে যোগদান করে আবারো আলোচনায় আসলেন বিএনপির সাবেক নেতা এড. তৈমূর আলম খন্দকার। গত পরশু আনুষ্ঠানিকভাবে প্রয়াত নাজমুল হুদার দল তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। জাতীয় নির্বাচনের কয়েক মাস আগে ইউটার্ন নিয়ে নতুন একটি দলের দায়িত্বভার নেয়াতে তৈমূরকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনরার ঝড় বইছে।
রাজনৈতিক বোদ্ধামহল মনে করছেন, আগামী কিছুদিনের মধ্যেই বিএনপির অনেক নেতাই এই দলে যোগ দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। নানা প্রেক্ষাপটের কারণে বিএনপি যদি আগামী নির্বাচনে অংশ না নেয় তাহলে তৃণমূল বিএনপির মাধ্যেমে অনেক সাবেক ও বর্তমান নেতাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে।
কারণ সরকার চাইছে, যেভাবেই হোক আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। এবং এই নির্বাচনে নানা ব্যানারে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিক। সরকার চাইছে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকারের লক্ষ্য একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা। তাতে কে আসলো না আসলো তা দেখার প্রয়োজন নেই, অংশগ্রহণ করাটাই হচ্ছে মূল লক্ষ্য। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ।
নির্বাচনের মাত্র তিন মাস আগে তৃণমূল বিএনপির উজ্জীবিত হওয়ার ঘটনার পেছনে সরকারের সমর্থন আছে বলে অভিযোগ করছেন বিএনপি নেতারা। রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে, সবকিছুর বাধা পেরিয়ে জাতীয় নির্বাচন যদি অনুষ্ঠিত হয়, তাতে তৃণমূল বিএনপির সভাপতি শমসের মবিন চৌধুরী এবং মহাসচিব এড. তৈমূর আলম খন্দকার যে অংশ নেবেন তা মোটামুটি নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।
এড. তৈমূরের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন রূপগঞ্জে। থাকেন নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইরে। ইতিপূর্বে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে দু’দুবার অংশ নিয়েছিলেন। তাই আগামী নির্বাচনে যে তৈমূর চাইবেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন (সদর-বন্দর) থেকে অথবা নারায়ণগঞ্জ-১ আসন (রূগপঞ্জ) থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য একেএম সেলিম ওসমান। বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ না নেয়, তাহলে তৃণমূল বিএনপির নেতা হিসেবে তৈমূর আলম খন্দকার এই আসনে প্রার্থী হলে ভোটের হিসাব নিকাশ পাল্টে যাবে। কারণ দীর্ঘদিন থেকে তৈমূর বিএনপির রাজনীতি করছেন।
নারায়ণগঞ্জ বিএনপির একটি অংশের ভোটাররা তৈমূরকে ভোট দিবেন। সেলিম ওসমান যদি আলাদাভাবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হন তাহলে আওয়ামীলীগের একটি বিরাট অংশের ভোট যাবে এই তৃণমুল বিএনপির ভোটবাক্সে। এক্ষেত্রে জাপা থেকে সেলিম ওসমানের প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলে জয়ের সম্ভাবনা কম থাকবে।
অপরদিকে এড. তৈমূর আলম খন্দকার যদি নারায়ণগঞ্জ-১আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেন আর আওয়ামীলীগ থেকে যদি বর্তমান সংসদ সদস্য মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী মনোনয়ন পান তাহলে সেখানেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির ভোটগুলো চলে যাবে তৈমূরের ভোটবাক্সে। আর তার সাথে গাজী বিরোধী আওয়ামীলীগের ভোটারদের ভোটও চলে যেতে পারে তৈমূরের বাক্সে।
পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, আগামী নির্বাচনে সবকিছুর হিসাব নিকেশ নির্ভর করছে, বিএনপির অংশ নেয়া কিংবা না নেয়াকে কেন্দ্র করে। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে হিসাব হবে এক রকম আর না হলে হিসাব হবে অন্য রকম। এস.এ/জেসি


