Logo
Logo
×

রাজনীতি

জনস্বার্থে নয়, নিজের স্বার্থেই তৈমূরের সারা জীবনের রাজনীতি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৯:১৪ পিএম

জনস্বার্থে নয়, নিজের স্বার্থেই তৈমূরের সারা জীবনের রাজনীতি
Swapno

 

ক্ষমতা আর টাকার লোভই তার রাজনীতির মূল মন্ত্র। কখনোই রাজনীতিকে জনগনের সেবার কোনো মাধ্যম হিসাবে দেখেননি বরং সারা জীবনই রাজনীতির নামে ব্যবসা করেছেন এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। একজন আইনজীবী হিসাবে তিনি কখনোই যোগ্যতা বা দক্ষতা দেখতে পারেননি। তবে হঠকারী কর্মকান্ডের মাধ্যমে কিছু আইনজীবী এবং বিএনপির নেতকর্মীকে সারা জীবন বসে রাখতে পেরেছেন।

 

আবার এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের মতো ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষকে তিনি বেশি দিন বশে রাখতে পারেননি। তিনি যে রাজনীতির নামে একজন পূরো দস্তুর ধান্দাবাজ সেটা আরো অনেক বছর আগেই বুঝেছিলেন সাখাওয়াৎ সহ তৈমুরের এক সময়কার অনুসারী আরো বহু আইনজীবী। তাই বিএনপির এই সকল আইনজীবীর সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান বিএনপি সরকারে থাকতে যেমন এই তৈমুর প্রথমে সহকারী এটর্নি জেনারেল এবং পরে বিআরটিসির চেয়ারম্যান হয়ে মোটা অংকের টাকার ফায়দা লুটেছেন আবার বিগত পনেরো বছরে বিরোধী দলের থাকার সময়েও তিনি টাকা কামাতে গিয়ে কোনো রকম গণমানুষের স্বার্থ দেখেননি।

 

তিনি যে দুই দুই বার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এই দুইবারই তিনি আর্থিক ভাবে লাভবান হয়েছেন। সারা বাংলাদেশে বিএনপি পন্থী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েই তিনি নির্বাচন করেছেন। প্রথমবার যখন নির্বাচনের আগের রাতে তাকে বসিয়ে দেয়া হয় সেটাতো ছিলো বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার একটি কৌশল মাত্র। কারণ সেই নির্বাচনে যদি তৈমুর আলম খন্দকারকে বসিয়ে দেয়া না হতো তাহলে শামীম ওসমান জোর করে জিতে যেতো। শামীম ওসমান তখন বিএনপি ঠেকানোর ধুয়ো তুলে ভোট কেন্দ্রগুলি দখল করতেন।

 

তাই এই শহরে বিএনপি তার নেতাকর্মীদেরকে নিরাপদে রাখার জন্য আইভীকে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলো। কারণ শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের লালন পালন করার বিষয়টি আরো আগে থেকেই জাতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক ভাবে প্রচারিত হয়েছে। তাই বিএনপির কেন্দ্র তখন আইভীকে মন্দের ভালো হিসাবে বেছে নিয়েছিলো। তখন নারায়ণগঞ্জের অন্য সকল বিএনপি নেতারা বেগম খালেদা জিয়াকে বুঝিয়েছিলেন তৈমুর প্রার্থী থাকলে জোর করে জিতে যাবেন শামীম ওসমান। আর শামীম ওসমান জিতলে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর তিনি অত্যাচার চালাবেন।

 

কিন্তু তৈমুর না থাকলে শামীম ওসমান আর কেন্দ্র দখলের কোনো অজুহাত খুঁজে পাবেন না। তাই তখন তৈমুরকে বসিয়ে দেয়া হয়েছিলো। যদিও আইভী নির্বাচিত হয়ে বিএনপির কোনো উপকারে আসেননি বলে অনেক বিএনপি নেতা মনে করেন। তবে তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর অত্যাচার করেছেন এমন কোনো প্রমানও নেই। কিন্তু শামীম ওসমান যখন প্রথম এমপি হয়েছিলেন তখন অনেক বিএনপির নেতাকর্মী নারায়ণগঞ্জে আসতে পারেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসে শামীম ওসমানের মাঝেও অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

 

কিন্তু বিএনপির অনেক নেতা কর্মীরা আরো মনে করেন যে নারায়ণগঞ্জে আইভী ও শামীম ওসমানের মাঝে যে বিরোধ চলছে তাতে কিছুটা হলেও লাভবান হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ এবং বিএনপি। তাতে অন্তত নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এক ধরনের ব্যালেন্স প্রতিষ্ঠা হয়েছে। মূলত এমন একটি ব্যালেন্স এই শহরবাসীর জন্য দরকার ছিলো। তাই সেই নির্বাচনে বিএনপির কৌশলটি নারায়ণগঞ্জের জনগনের পক্ষেই গিয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

 

অপরদিকে সেই নির্বাচনে তৈমুরকে বসিয়ে দেয়া হলে তিনি কি আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন? মোটেও না। বরং সেই নির্বাচনেও তিনি সারা দেশ থেকে যে পরিমান টাকা পেয়েছিলেন সেই টাকা পূরোটা খরচ হয়নি বলে জানিয়েছেন তৈমূরের ঘনিষ্ঠ বিএনপি নেতাদের অনেকে। যদিও তৈমুর বাড়ি বিক্রি করার গল্প বলে যাচ্ছেন। বিএনপিকে দোষারোপ করছেন। অথচ সেই নির্বাচেন তাকে বসানো না হলে নির্বাচনের দিন সকালেই সব কেন্দ্র দখল হয়ে যেতো বলে মনে করেন এই শহরের বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয় দলের বহু রাজনীতিবদিরা। আর যদি দখল নাও হতো এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হতো তাহলে জিতে যেতেন মেয়র আইভী।

 

কারণ সেই নির্বাচনে আইভীর সাথে শামীম ওসমানের ভোটের ব্যবধান ছিলো এক লাখের বেশি। এই হলো সেই নির্বাচনের বাস্তবতা। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে কেবল নিজের স্বার্থের গানই গেয়ে চলেছেন তৈমুর। অপরদিকে বিগত নির্বাচনের আগে থেকেই সারা দেশে নির্বাচন বয়কট করে আসছিলো বিএনপি। তাই বার বার বলা হচ্ছিলো এই সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। তাই বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না। অথচ তৈমুর বিএনপির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়কের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দলের স্বিদ্ধান্তকে অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নিলেন।

 

মূলত বিগত সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি বিএনপির সাথে চরম বেইমানি করেছেন। বিএনপির আন্দোলনের পিঠে ছুড়ি মেরেছেন। তার দল বলছে এই সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। কিন্তু তৈমুর বলছেন এই সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন করবে এবং সরকারের উপর আস্থা রেখে তিনি বিগত সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। যার ফলে বিএনপি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করতে বাধ্য হয়েছে। আর এবার তো তিনি গোটা জাতির সাথে বেইমানি করলেন বলে মনে করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

 

কারণ গোটা দেশের মানুষ এখন তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পেতে আন্দোলনে সক্রিয় রয়েছেন অথচ তৈমুর আলম খন্দকার গং জাতির সাথে বেইমানি করে এই সরকারের অধীনে নির্বাচন করার পায়তারায় লিপ্ত রয়েছেন। এতেই বুঝা যায় তৈমুরের মাঝে কোনো নীতি বা আদর্শ নেই। টাকা কামানোই তার রাজনীতির লক্ষ্য। এবার হয়েতো নির্বাচনে যাওয়ার জন্য তিনি মোটা অংকের টাকা পাচ্ছেন বলে মনে করেন তারই এক সময়কার সহকর্মীরা।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ মাহনগর বিএনপির সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার হলেন আওয়ামী লীগের বি টিম। মূলত আওয়ামী লীগকে সুবিধা দেয়ার জন্যই তিনি তৃনমূল বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বলে আমরা মনে করি। আর এটা করে তিনি জাতির সাথে বেইমানি করেছেন। কারণ এই মুহুর্তে সারা দেশের মানুষ তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পেতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে।

 

তাই এখন যদি তিনি আগামী নির্বাচনে অংশ নেন তাহলে এটা হবে গোটা জাতির সাথে বেইমানি করা। তিনি আরো বলেন তবে তাকে নিয়ে আমাদের কোনো মাথ্য ব্যথা নেই। তিনি যদি বিএনপি না করতেন তাহলে এ দেশে তাকে কে চিনতো। বিএনপি করার কারনেই তো তাকে সবাই চিনেছে। তাই আমরা মনে করি তার মতো লোক কোন দলে গেলেন এবং কি করলেন এসব নিয়ে ভাবার সময় আমাদের নেই। সারা দেশের জনগন বিএনপির পাশে রয়েছে। তীব্র গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা এই সরকারের বিদায় ঘটিয়ে জনগনের ক্ষমতা শিগগিরই জনগনের হাতে তুলে দেবো ইনশাআল্লাহ।

 

অপরদিকে এ বিষয়ে এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের এক সময়কার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট বারী ভুঁইয়া বলেন, যেকোনো দল করার অধিকার তার আছে। তাই তিনি তৃণমুলে গেলেন নাকি অন্য কোনো দলে গেলেন সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। আমরা যেটা দেখতে চাই সেটা হলো এখন তিনি কি করেন। তিনি বেশ ভালো করেই জানেন দেশের মানুষ তাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করছেন।

 

তাই আমরা আশা করবো তিনিও তার দল নিয়ে দেশের মানুষের পক্ষে অবস্থান নেবেন। আর যদি তিনি সেটা না করেন তাহলে আমরা মনে করবো তিনি সরকারের কাছ থেকে হালুয়া রুটির ভাগে পেয়েছেন। তাই তিনি এবং তার দল যদি আগামী নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে গোটা দেশের মানুষই বুঝবে তিনি কেনো তৃনমূলে গিয়েছেন। হালুয়া রুটির ভাগ পেতেই গিয়েছেন বলে মনে করবে মানুষ।

 

তবে আমি পরিষ্কার করে একটি কথাই বলতে চাই। আর সেটি হলো কে কোথায় গেলো সেটা দেখার সময় আমাদের নেই। আমরা বিশ্বাস করি আর অল্প কিছু দিনের মধ্যেই এই ফ্যাসিষ্ট সরকারের বিদায় ঘটবে ইনশআল্লাহ। আগামী নির্বাচন হবে অবাধ ও সুষ্ঠু। যার ফলে খড়কুটোর মতো ভেসে যাবে সরকারের সব ধরনের ষড়যন্ত্র। বিএনপির নেতৃত্বে এ দেশের মানুষ তাদের হারানো অধিকার ফিরে পাবে ইনশাআল্লাহ। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন