ছাত্রলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগের লাগাম টানবে কে
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৭:৪৭ পিএম
♦ নেতাদের শেল্টারে অপকর্মের অভিযোগ
♦ দায় ভার নিচ্ছে না জেলা ছাত্রলীগ
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগি সংগঠন ছাত্রলীগের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা যেন থামছে না। একটা ঘটনা কাটিয়ে উঠতেই আরেক ঘটনা এসে নাড়া দেয়। আর এতে করে জেলা থেকে শুরু করে ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের দায়িত্বরত নেতৃবৃন্দ বিব্রত বোধ করেন। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে ছাত্রলীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগের অপকর্মেল পাল্লা ভাড়ী হওয়ায় তাদের দ্বায়ভাড় কে নিবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সাথে তাদের অপকর্মের লাগাম টানবে কে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে।
এদিকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁয়ে 'র্যাব পরিচয়ে' ছিনতাইয়ের অভিযোগে সোনারগাঁ পৌরসভা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান রবিন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার হাসান খাঁন ওরফে সাজুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রোববার সোনারগাঁ রয়েল রিসোর্টের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বছর খানেক আগেও ছাত্রলীগের এই দুই নেতার বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকের অভিযোগে একাধিক মামলা হয়েছে বলে জানান সোনারগাঁ থানা পুলিশের একটি সূত্র।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি গাড়ি থেকে ২৮৩টি মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। আদালত সূত্রে সোমবার দুপুরে আদালতে তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত রবিন ও সাজুকে ১ দিনে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তাদের অপকর্মের পাল্লা ভাড়ি হওয়ায় ছাত্রলীগ সংগঠন থেকে এই দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়।
দলীয় সুত্রমতে, সোমবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বছরখানেক আগেই সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই দুজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। এতে বলা হয়, ২০১৯ সালের ১৮ জানুয়ারি সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার হাসান খাঁন ওরফে সাজুকে এবং ২০২১ সালের ১১ জুলাই সভাপতি মাহবুবুর রহমান রবিনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু তাদের বহিষ্কারের পরেও সোনারগাঁ পৌরসভা ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় তারা দুজন ছাত্রলীগের এই পদ ব্যবহার করে তাদের অপকর্ম চালিয়ে যান বলে জানান স্থানীয় একাধিক নেতৃবৃন্দ। আর এনিয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় নেতারা বিব্রত বোধ করছেন।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ১০ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁয়ে মোমেন(৪৯) নামের এক ব্যক্তির বাড়িঘর ভাঙচুর ও স্বর্ণালংকার ছিনতাই করার অভিযোগে সোনারগাঁ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নাজমুল হাসান শান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মোমেন নামের ব্যক্তির বাড়ি থেকে ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকার স্বর্ণ ও অলংকার ছিনতাই করার অভিযোগ রয়েছে। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর ডিবি পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে শান্ত সহ ৩জনকে গ্রেপ্তার করে।
ভুক্তভোগি মোমেন জানান, ১০ সেপ্টেম্বর রাতে হঠাৎ করে বরিশাইল্লা শান্তর নেতৃত্বে ১০-১৫ জন যুবক রামদা, ছেনি নিয়ে বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। মোড়াপাড়া ইউনিয়নের বাড়ি মজলিস গ্রামে বরিশাইল্লা শান্তর নেতৃত্বে প্রায় বাড়িঘরে লুটপাট ছিনতাই হয়। সে গ্রামের ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে দিয়ে মাদক পাচার করে। এ গ্রামের আনাচে-কানাচে মাদকে ছড়িয়ে সিটিয়ে রেখেছে। তাদের অত্যাচারে পুরো সোনারগাঁবাসী অতিষ্ঠ। অচিরে তাদেরকে প্রতিহত না করা গেলে ভবিষ্যতে তারা বড় ধরনের কোন অপকর্ম করে ফেলবে। মোড়াপাড়ার এক নেতা এই শান্তকে শেল্টার দিয়ে থাকেন। তাকে কম বেশি সকলেই চিনে।
মাস কয়েক আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ পরিচয়ে এক সৌদি প্রবাসীর ১৭ লাখ টাকা ও মোবাইল লুটের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তপু চন্দ্র ঘোষকে ৪ এপ্রিল পুলিশ প্রশাসন গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনার পর পরই কেন্দ্রী ছাত্রলীগের সভাপতি সেক্রেটারি তাকে বহিষ্কার করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে ছাত্রলীগের অপমকর্ম নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। নানা ঘটনায় তারা আলোচনায় থাকেন। তাই রাজনৈতিক বোদ্ধমহল প্রশ্ন তুলেন, ছাত্রলীগের অপকর্ম প্রকাশ পাওয়ার পরেই কেন তাদের বহিষ্কার করা হয়। তারা যে এই ধরনের অপকর্ম করে তা জানা স্বত্বেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় না। তাদের এই অপকর্মের দ্বায়ভারই বা কে নিবে। তাদের নিয়ে অনেকটা বিব্রত অবস্থায় রয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। এস.এ/জেসি


