সরকার দেশকে দুর্ভিক্ষাবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, মাঠে নামছে মানুষ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১০:০০ পিএম
একই দাবিতে মার্কিন যুক্তরাস্ট্র ভিসা নীতি ঘোষনা করেছে এবং বিএনপি আন্দোলন করছে বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মাহনগর বিএনপির সিনিয়ন নেতৃবৃন্দ।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, সরকার যদি তাদের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে কোনো রকম সাজানো পাতানো নির্বাচনের আয়োজন করতে চায় তাহলে বিএনপি তফসিল ঘোষনা সাথে সাথেই হরতাল অবরোধ সহ অসহযোগ আন্দোলন শুরু করবে।
তিনি বলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেন সরকারী দলের নেতা, মন্ত্রীরা একেক জন একেক সময় ভিসা নীতি নিয়ে একেক কথা বলছেন। তাদের কথার মাঝে কোনো সমন্বয় নেই। তবে তারা যে বলছেন বিএনপির উপরও এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সেটা আসলে উল্টো। আমরা মনে করি আমাদের দলের উপর এক চুল পরিমানও এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কোনো কারন নেই।
কারন মার্কিন যুক্তরাস্ট্র যে দাবিতে ভিসা নীতি ঘোষনা করেছেন সেই একই দাবিতে বিএনপিও আন্দোলন করে যাচ্ছে। বিএনপি চায় দেশে একটি অবাধ ও সুষ্টু নির্বাচন, মার্কিন যুক্তরাস্ট্রও সেটাই চায়। তাই বিএনপিকে ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা যারা বলছে তারা পাগলের প্রলাপ বকছে। ফলে আমি বলবো বিএনপি ও যুক্তরাস্ট্র একই উদ্যেশ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
গতকাল এ প্রতিনিধির কাছে এসব প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ¦ মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন। তিনি আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের সমাবেশকে মহাসমাবেশে রুপ দেওয়া হবে বলে ঘোষরা দিয়েছেন। গিয়াস উদ্দিন বলেছেন মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করা সহ ইউরোপিয় ইউনিয়নও একই কারনে দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষক না পাঠানোর ঘোষনা দিয়েছে।
তাই বাংলাদেলে মানুষের সাথে বিশে^র মুক্তিকামী দেশগুলোও একতাত্বতা প্রকাশ করে এই মহা দূর্নীতিবাজ স্বৈরাচার সরকারকে বিদায় করার জন্য সর্ব শক্তি নিয়োগ করে চলেছে। আমি আরো জোরালো ভাষায় বলতে চাই সরকারের জন্য আরো কঠিন পরিনতি অপেক্ষা করছে।
সরকার হয়তো কল্পনাও করতে পারছে না বিএনপির নেতাকর্মীরা দেশের সর্ব স্তরের জনগনকে সঙ্গে নিয়ে কি ধরনে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। আমাদের আন্দোলনতো এখন সভাসমাবেশে স্বিমাবদ্ধ রয়েছে। এখনই তত্বাবদায় সরকার নিয়ে আলাপ আলোচনা শুরু না করলে ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।
সরকারকে তখন নাস্তানাবুধ হয়ে বিদায় নিতে হবে। তিনি আরো বলেন আপনারা এরই মাঝে জেনেছেন জাতীয় পার্টিও এমপি মশিউর রাঙ্গা নিজেই বলেছেন তিনি শুনেছেন যে তাকে ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তাই সরকার যে বলছে এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা বিএনপির জন্য এটা যে কতোবড় হাস্যকর বিষয় সেটা জানে দেশের প্রত্যেকটি মানুষ।
তাই আমরা মনে করি সরকার না বুঝলে তীব্র গনআন্দোলনের মাঝে এই সরকারের বিদায় ঘটবে ইনশাআল্লাহ। এ সময় গিয়াস উদ্দিন দেশের সর্ব স্থরের মানুষকে আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহবান জানান। এছাড়া তিনি আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের সমাবেশ সফল করার জন্য নারায়ণগঞ্জবাসী সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
এদিকে একই রকম প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি বলেন সব কিছু দেখেশুনে মনে হচ্ছে দেশের ও দেশের জনগনের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে হলেও এই অবৈধ ফ্যসিষ্ট সরকার রাস্ট্র ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।
এরই মাঝে যুক্তরাস্ট্র যেভাবে ভিসা নিষেধাজ্ঞা ঘোষনা করেছে এবং ইউরোপিয় ইউনিয়ন সহ পশ্চিমা দেশগুলি বাংলাদেশ নিয়ে বিভিন্ন ব্যাবস্থা গ্রহন করছে তাতে একই সাথে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ইমেজ সংকটে পরেছে এবং আর্থিক সংকটে পরেছে। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতার লোভে এ দেশের জনগনকে চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
কারন আমাদের ব্যাবসা বানিজ্য সব কিছুই এই সকল পশ্চিমা দেশগুলির উপর নির্ভরশিল। আমাদের গার্মেন্ট পন্য পূরোটাই রপ্তানী হয় এসব দেশে। কিন্তু সরকার কেবল মাত্র রাস্ট্র ক্ষমতায় টিকে থেকে তাদের লুটপাট জারি রাখার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। দেশের সতেরো কোটি মানুষকে তারা চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
এরপর রাজনৈতিক সংকটের কারনে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পতিত হবে দেশ। রাস্ট্রীয় সন্ত্রাস এবং রাস্ট্রীয় দূর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে আবারও ৭৪ এর দূর্র্ভিক্ষাবস্থার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে এ দেশের সতেরো কোটি মানুষকে। তাই এখনই দেশের সব মানুষ সম্মিলিত ভাবে মাঠে নেমে একটি গণঅভ্যুথ্যান ঘটিয়ে এই সরকারকে বিদায় দেয়ার কোনো বিকল্প নেই বলেই আমি মনে করি। তিনিও নারায়ণগঞ্জে বিএনপির আজকের সমাবেশ সফল করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। এন.হুসেইন রনী /জেসি


