তৈমূরকে ছাড় দেবে না গাজী-সেলিম ওসমান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৩, ০৪:৩৭ পিএম
# তাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে জামানত হারাবেন কিংস পার্টির নেতা তৈমূর
দীর্ঘ বহু বছর বিএনপির রাজনীতি করার পর দলীয় সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়ার কারণে বিএনপি থেকে বহিষ্কার হয়েছেন এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। কিন্তু বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর তিনি বার বার চেষ্টা করেও বিএনপিতে ফেরৎ যেতে না পারার কারণে শেষ পর্যন্ত কিংস পার্টি খ্যাত তৃনমূল বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
আর যোগ দিয়েই তিনি অভাবনীয় ভাবে এই দলের মহাসচিব হয়েছেন। যা কিনা এ দেশের রাজনীতিতে বিরল ঘটনা। তবে তৈমূর কেনো কিংস পার্টিতে যোগ দিলেন এটা নিয়ে এরই মাঝে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। তবে তাকে যে কিছু একটা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে নেয়া হয়েছে সেটা মনে করেন নারায়ণগঞ্জের সবাই। তিনি হয়তো নগদ টাকা পাবেন অথবা নারায়ণগঞ্জের কোনো একটি আসন পাবেন। অথবা দুটোই পাবেন।
তবে নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল মনে করেন এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের প্রথম চয়েজ রূপগঞ্জ আসনটি আর দ্বিতীয় চয়েজ নারায়ণগঞ্জ সদর আসন। কিন্তু এই দুটি আসনেই যে দুইজন এমপি রয়েছেন তারা বেশ অনেক টাকার মালিক। আর জানা গেছে তারা কোনো মতেই তাদের আসন ছেড়ে দিতে রাজী নন। তবে আসনের বিনিময়ে দুজনেই প্রয়োজনে টাকা দিতে রাজী। কারণ এবারও যে ধরনের নির্বাচনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে তাতে তারা মনোনয়ন পেলেই পাশ।
তাই তারা দরকার হলে এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে মোটা অংকের টাকা দেবেন। কিন্তু আসন ছাড়বেন না। তাই তৈমুর এই শেষ বয়সে এসে রাজনীতির ব্যবসার মাধ্যমে বেশ ভালো টাকাই উপার্জন করতে পারবেন বলে অনেকের ধারণা। তবে এটা নিশ্চিত করে বলা যায় যে তৈমূর আলম খন্দকারকে মোটেও ছাড় দেবে না মন্ত্রী গাজী এবং সেলিম ওসমান এমপি। সম্প্রতি মন্ত্রী গাজীর ও সেলিম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলি এসব তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের সমাজে কিং মেকার হিসাবে পরিচিত এক ব্যবসায়ী নেতার বক্তব্য হলো কিছুতো একটা পাবার আশ্বাস তাকে দেয়া হয়েছে। আর সেটা সম্ভবত একটি আসন। কিন্তু তিনি যে দুটি আসন থেকে নির্বাচন করতে চান তারা দুই জনেই আর্থিকভাবে বিরাট প্রভাবশালী। মন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর এবং এমপি একেএম সেলিম ওসমান দুইজনেই বেশ প্রভাবশালী।
বিশেষ করে আর্থিকভাবে তারা এতোটাই সাবলম্বী যে একজন তৈমূরকে কিনে নেয়া তাদের জন্য কোনো বিষয়ই নয়। বরং এক সময় বিএনপির ভেতরে যারা তৈমূর আলম খন্দকারের অনুসারী ছিলেন তারা সকলেই একমত যে তৈমূর মারাত্মক লোভী একজন মানুষ। তার একই সাথে রয়েছে ক্ষমতার লোভ, টাকার লোভ এবং প্রচারের লোভ। তাই সরকার তাকে সহজেই ফাঁদে ফেলতে পেরেছে। যদিও লোভে পরে তৈমুর হয়তো কিছু টাকা কামাতে পারবেন।
কিন্তু দীর্ঘ সময় এই জেলার একজন গণমানুষের নেতা হিসাবে তার যে ইমেজ ছিলো তার সবই খুঁইয়েছেন তিনি। মানুষ তাকে এখন খুবই হালকা করে দেখছে। তার রজনৈতিক মৃত্যু ঘটেছে। তবে তিনি ভালো এমাউন্টের একটা টাকা উপার্জন করতে পারবেন বলে অনেকে মনে করেন। তাই অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলছেন শেষ পর্যন্ত তিনি কি নেবেন। টাকা নাকি আসন?
এদিকে বিএনপির নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীরা মনে করেন তৈমূরকে ঠিকই চিনেছে সরকারের গোয়েন্দারা। টোপ যে তিনি গিলবেন সেটা বুঝতে পেরেই তাকে টোপ দেয়া হয়েছে। তবে এখন তিনি কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে। কারণ তিনি নাকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দুটি আসনই চাইবেন। আর আসন দুটি হলো মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর রূপগঞ্জ আসন এবং সেলিম ওসমানের নারায়ণগঞ্জ সদর আসন।
তবে এই দুটি আসনের মাঝে কেনটি তৈমূর আলম খন্দকারকে দেয়া হবে এটি এখনো পরিষ্কার নয় বলে মনে করেন অনেকে। তবে একটি কিছু দেয়ার আশ্বাস দিয়ে যে তৈমূর আলম খন্দকারকে এই তৃণমূল বিএনপিতে নেয়া হয়েছে এটা এখন সকলের কাছেই পরিষ্কার। তবে তাকে কোনো আসন না দিয়ে মোটা অংকের টাকা দেয়ার কথাও বলছেন অনেকে। আর কোনো আসন না দিলে পরে হয়তো তাকে মন্ত্রী বানানোর আশ্বাস দেয়া হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। এছাড়া নগদ টাকা দেয়ার সম্ভাবনা তো রয়েছেই।
তবে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ মনে করেন এই জেলার কোথাও ব্যক্তি তৈমূর আলম খন্দকারের কোনো ভোট নেই। এতোদিন বিএনপির ভোটই ছিলো তার ভোট। বিগত সিটি নির্বাচনে তিনি যে ভোট পেয়েছেন সেটা ছিলো বিএনপির ভোট। কিন্তু এবার আর বিএনপির ভোটাররা তাকে ভোট দেয়ার কোনোই কারণ নেই। বরং বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে সরকারের দালাল বা এ যুগের রাজাকার হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।
তাই নির্বাচনে দাঁড়িয়ে তৈমূরের কোনো লাভ হবে না। গাজী গোলাম দস্তগীর এবং সেলিম ওসমান যদি তার সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবেও নির্বাচন করেন তবুও বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। কিন্তু একটি দলের মহাসচিব হয়ে তিনি যদি নির্বাচন না করেন তাহলে বিষয়টি বেমানান হবে। তাই এক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখী হয়েছেন তৈমূর। ফলে তিনি শেষ পর্যন্ত কি করেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। কারণ নির্বাচন যদি নুন্যতমও সুষ্ঠু হয় তাহলে তৈমুরের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জের সব মানুষ। এস.এ/জেসি


