দুই আ.লীগ নেতার ছত্রছায়ায় আজাদের রাজনীতি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৩, ০৯:০৫ পিএম
# সম্প্রতি বেশ কিছু ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা
নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বর্তমানে নানা বিতর্কে জর্জরিত নেতা বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তজার্তিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। যার নামে বিগত দিন থেকেই রয়েছে একের পর এক অভিযোগ যা বর্তমানে পাহাড় সমতুল্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ও দলে বিভেদ, কোন্দলের কিং মেকার নামে ও পরিচিত এই আজাদ, এমনকি আড়াইহাজার বিএনপিকে ও তিনি জিম্মি করে রেখেছে যার কারণে তাকে নিয়ে অতিষ্ঠ নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া ও বিভিন্ন নেতাকর্মীরা বলছে এই নজরুল ইসলাম আজাদ বিগত দিন থেকেই আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীদের সাথে আতাঁত করে চলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আজাদের ইতিহাস ঘেটে সূত্র মতে জানা গেছে, এক বিরাট চমক দিয়ে যার রাজনীতি শুরু তার নাম বর্তমান বিএনপির আন্তজার্তিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ যার কর্মজীবনের এক সময় তিনি ফকির গ্রুপের ড্রাইভার ছিলেন, যেখান থেকে চুরির অভিযোগে মামলা খেয়ে বিদায় নিতে হয় তারপর দেখান হঠাৎ করে এক চমক।
নজরুল ইসলাম আজাদ এর রাজনীতি জীবন শুরু যুবদলের সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কেন্দ্রীয় কমিটি দিয়ে। কেউ কেউ বলে রাজনীতি না করেও হঠাৎ করে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পদ ভাগিয়ে নেয়। এরপর আর্থিক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে মালোয়েশিয়া কমিটির সহ বিভিন্ন কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগে তাকে যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর বিভিন্ন ছলচাতুরি করে আবার যুবদলের পূর্ণবহাল হয়।
এরপর আর তাকে পিছনে তাকাতে হয়নি যার কারণ হিসেবে বলা চলে জিয়ার পরিবারের সদস্য এবং একজন জিয়া পরিবারের সদস্যের নাম ভাঙিয়েই সেই বিএনপির আন্তজার্তিক বিষয়ক সম্পাদক পদে পদায়িত হয়ে ছিলেন। তারপর থেকেই জিয়া পরিবারের নাম বিক্রি করে চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে সব অপকর্ম করেন, এরপর শুরু হয় তার দৌরাত্ম্য। পরে এই নেতার চোখ পরে নারায়ণগঞ্জ জেলার সব কমিটি এবং আড়াইহাজার থানা কমিটি বাণিজ্যের ওপর। এরপর আর কেউ থামাতেই পারছে না তাকে।
এরপর গত ২০১৮ সালে বিএনপির থেকে নমিনেশন পেয়ে শুরু করেন চাঁদাবাজির আরেক ধাপ আর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুর সাথে আর্থিক সুবিধা নিয়ে নির্বাচনে প্রচারণা থেকে সরে পড়েন। কোথাও কোন বাড়ি থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ভোট চাননি, একটি পথসভা ও একটি নির্বাচনী সভা বা কোন নির্বাচনী কমিটি আর কোন ওয়ার্ড কমিটি কিছুই করেনি শুধু গাড়িতে ঘুরে বেড়িয়েছে চুপি চুপি। যা নিয়ে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন আজাদের বিরুদ্ধে।
এছাড়া ও বিগত দিন থেকেই যেন বিভিন্নভাবে চাঁদাবাজির কারবারি চালু রেখেছে আজাদ জানা গেছে, এর আগে বিভিন্ন মানুষের থেকে বিভিন্ন নামে টাকা মেরে দেয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে যেমন বিদেশে পাঠাবে বলে, দলে পদ দিবে বলে, ব্যবসা-বাণিজ্য করে দিবে বলে, সুতার এজেন্ট এনে দিবে বলে আর মিল কারখানা বানিয়ে দিবে বলে মানুষের থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়। একবার পাওনাদাররা অতিষ্ঠ হয়ে তার উপরে আক্রমণ করে বসে। যা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় এসেছে।
পুরো জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠন নিজের করায়ত্তে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করে এবং নেশাখোর, বিভিন্ন দল ছুট ও দলের বেঈমানদের দিয়ে এইসব কমিটি করিয়ে নেয় এবং দলকে আজকে ধ্বংসের দ্বাড়প্রান্তে নিয়ে এসে দাঁড় করিয়েছে, যার কারণে নারায়ণগঞ্জের সমস্ত নেতারাই তার উপরে বিরক্ত। এবং সে একটি প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সোর্স বলে দাবি করে এবং তিনি ও তার নেতাকর্মী প্রায়ই দলের অন্যান্য নেতাকর্মীদের এই ভিনদেশী এজেন্ট পরিচয় দিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে।
এছাড়া ও আজাদের আপন ছোট ভাই রাকিব যাকে সবাই এক নামে চিনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের পুত্র হিসেবে। কারণ সে সবার কাছে নিজের পরিচয় দেয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক তার বাবা। জানা গেছে, নানকের বিধবা ছেলের বউকে ৯ বছরের বাচ্চা সহ বিয়ে করে ছিলেন এই রাকিব। তারা এই পরিচয় দিয়ে মানুষকে হুমকি-ধমকি দিয়ে রাখেন।
আর বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ১ দফা ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দফায় দফায় আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সে এখন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ সদস্য শামীম ওসমান এবং নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর সাথে আঁতাত করে বিএনপির আন্দোলনে বিভিন্ন নাটক বাজি করে যাচ্ছেন আড়াই হাজার এবং নারায়ণগঞ্জের বাইরে দূর-দূরান্তে কোন সময় ৩০০ ফুট কোন সময় বা নরসিংদীর বিভিন্ন জায়গায় নাটকবাজি করে যাচ্ছে আন্দোলন এবং শোডাউন এর নামে।
ধোঁকাবাজি করে যাচ্ছে দলের সাথে, তার বিভিন্ন ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করলেই বোঝা যাবে। তাকে যদি এখনই থামানো না যায় তাহলে দলের সমূহ ক্ষতি হয়ে যাবে কারণ সামনে আন্দোলন সংগ্রাম এবং দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচন যাকে ঘিরে অতি দ্রুত তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া দাবি জানিয়েছে তৃণমূল। এস.এ/জেসি


