Logo
Logo
×

রাজনীতি

রাজনীতির মাঠে গুরুত্বপূর্ণ না.গঞ্জ-৫

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:১৬ পিএম

রাজনীতির মাঠে গুরুত্বপূর্ণ না.গঞ্জ-৫
Swapno

 

জাতীয় নির্বাচনে রাজধানী লাগোয়া জেলা নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমে ওঠেছে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় উদ্যোগের সাথে তাল মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন দলগুলোও কেউ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে নিজেদের ঝালাই কের নেওয়ার চেষ্টায় এবং রাজপথ গরম রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আবার কেউ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার হঠানোর আন্দোলনে মাঠ গরম রাখার চেষ্টায় ব্যস্ত আছেন।

 

নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন হলো নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন। নারায়ণগঞ্জ সদর এবং নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সব সময় যেই নামটি উচ্চারিত হয় সেই বন্দর উপজেলা নিয়ে এই আসনটির অবস্থান। এই আসনটি শহর-বন্দরকে কেন্দ্র করে গঠিত হওয়ায় এবং নারায়ণগঞ্জ রাজনীতির বনেদী পরিবারগুলো এই আসনের সম্পৃক্ত থাকায় এই আসনের দিকে তাকিয়ে থাকেন জেলার সবগুলো রাজনৈতিক দরের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে দলগুলোর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ও।

 

তাই এখানকার রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন সময়ের কর্মকাণ্ড ও প্রতিযোগিতায় কোন দলের কতটুকু অবস্থান তার উপর নির্ভর করেই রাজনীতির বর্তমান এবং ভবিষ্যতের একটি প্রত্যাশা প্রকাশ করেন বিশ্লেষকগণ। এর মধ্যে স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে সাধারণত দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। একটি হলো ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ১৯৯০ সালের এরশাদ সরকারের পতন পর্যন্ত। আর দ্বিতীয়টি হলো এরশাদ সরকারের পতন পরবর্তী অর্থাৎ ১৯৯১সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত। এর দ্বিতীয় পর্ব বর্তমানের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকায় সাধারণত দ্বিতীয় পর্বকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়।

 

১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় থেকে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন আসনে বেশ কয়েকটি দল অংশগ্রহণ করলেও মূল প্রতিযোগিতা ও সফলতা শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সীমাবদ্ধতা থাকতে দেখা যায়। শুধুমাত্র নারায়গঞ্জ-৫ আসনের চিত্রই ভিন্ন। এখানে মূল প্রতিযোগিতায় আছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও জাতীয় পার্টি।

 

১৯৯০ সালের পর থেকে এই আসনে বিএনপি নির্বাচিত হন তিনবার (১৯৯১, ১৯৯৬ এর ১৫ ফ্রেব্রয়ারি এবং ২০০১) আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হন মাত্র একবার ১৯৯৬ এর ১২ জুন। একই সাথে ২০০৮ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে একাধারে তিনবার নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী। আর এই আসনের গত কয়েক বছরের নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করলেই বুঝা যায় কার অবস্থান কতটা শক্তিশালী।

 

সর্বশেষ গত ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে নির্বাচনে মোট ১৭১টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে ২ লাখ ৮০ হাজার ৫৩৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন জাতীর পার্টির একেএম সেলিম ওসমান, অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষের প্রার্থী এসএম আকরাম পান ৫১ হাজার ৯৮৬ ভোট। এর আগে গত ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা বাংলাদেশের ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সাংসদের একজন ছিলেন জাতীর পার্টির একেএম সেলিম ওসমান।

 

২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার উপস্থিতি ছিল ৩ লাখ ০৫ হাজার ৭৮৯ জন। তারমধ্যে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির একেএম নাসিম ওসমান। বিএনপির এডভোকেট আবুল কালাম পান ১ লাখ ২৭ হাজার ১৪৯ ভোট। ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার উপস্থিতি ছিল ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪৯ জন। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী এডভোকেট আবুল কালাম ৭৩ হাজার ১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

 

আওয়ামী লীগের এসএম আকরাম পান ৬২ হাজার ২৩২ ভোট। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার উপস্থিতি ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯৭৩ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এসএম আকরাম ৫৮ হাজার ৪৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির এডভোকেট আবুল কালাম পান ৪৩ হাজার ৫৬২ ভোট।

 

একই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ সমমনা দলগুলো নির্বাচন বয়কট করলে বিএনপির প্রার্থী এডভোকেট আবুল কালাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এছাড়া ১৯৯১ সালে প্রথম তত্ত্বাবধায়কের অর্ধীনে নির্বাচনে মোট ভোটার উপস্থিতি ছিল ১ লাখ ২৬ হাজার ৮১৯ জন। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী এডভোকেট আবুল কালাম ৫৩ হাজার ৩০০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের অধ্যাপিকা নাজমা রহমান পান ৩৮ হাজার ৬০৩ ভোট।

 

এর বাইরেও, এই আসন থেকে কমিউনিস্ট পার্টি, তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বিকল্পধারা, গণফোরামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেখা যায়। তাছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীও থাকে। তবে উপরের চিত্র একটু পর্যবেক্ষণ করলেই দেখা যায় ভোটারদের উপস্থিতি যেখানে ভালো থাকে অর্থাৎ আমরা যে নির্বাচনগুলোকে সফল নির্বাচন বলতে পারি। এমন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মধ্যে লড়াই হয় হাড্ডাহাড্ডি।

 

এবারের আসন্ন নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশগ্রহণ করে তাহলে এই আসনে এবার বেশ কয়েকজন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী থাকার সম্ভাবনা আছে বলে মনে করেন সচেতন মহল। তাই অন্যান্য আসনের তুলনায় এই আসনের নির্বাচন অনেকটাই জমজমাট হবে বলে ধারণা তাদের। আর এই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কার গলায় বিজয়ের মালা শোভা পায় তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন