Logo
Logo
×

রাজনীতি

ভাইরাস মুক্ত করাই না.গঞ্জ বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৩, ০৭:৫৬ পিএম

ভাইরাস মুক্ত করাই না.গঞ্জ বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ
Swapno

 

দলীয় আদর্শ ধারণ করে তা বাস্তবায়ন এবং দলকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়ার জন্য একটি রাজনৈতিক দলের নেতা, কর্মী ও সমর্থকগণ কাজ করবেন এটাই প্রত্যাশিত। তবে রাজনৈতিক অঙ্গণে সাধারণ কর্মী সমর্থকগণের মধ্যে দলীয় আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে এ বিষয়টির অভাব বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়।

 

বর্তমানে দেখা যায় দল, দলীয় প্রধানসহ নেতাকর্মীদের উপর দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের অনেকটাই ভালোবাসা থাকে। এর কোন একটি অংশের উপর বাহ্যিক আঘাত আসলে এসব কর্মী সমর্থকগণ নিঃস্বার্থভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন, প্রতিবাদ করেন। কিন্তু বেশিরভাগ স্থানীয় নেতাদের চিন্তা-ভাবনা থাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের আগ্রহ যতটা না দল বা দলীয় আদর্শের প্রতি, যতটা না দলীয় প্রধান বা দলের ভাবমূর্তির প্রতি, তার চেয়ে অনেক বেশি থাকে অর্থ কিংবা পদের প্রতি।

 

তাদের প্রায়ই দেখা যায় হয়তো দল বদল করতে, দলীয় গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিষ্ক্রিয় থাকতে কিংবা অর্থ ও নিজের পদকে শক্তিশালী করতে অন্য প্রতিপক্ষের সাথে আতাত করতে। এতে দলের লাভ কিংবা ক্ষতি তাতে তাদের কিছুই যায় আসে না। বর্তমানে যা খুবই বেশি আকারে দেখা যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির মধ্যে। বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, একদিকে ক্ষমতাসীন দলের একটি বিশেষ নেতা ও পরিবারের কাছ থেকে বড় অংকের টাকার লোভে এই দলের একাধিক নেতা কাজ করে যাচ্ছেন।

 

অন্যদিকে উচ্চাকাঙ্খা, উচ্চ পদে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা, কমিটিতে নিজের প্রভাব বৃদ্ধি ও ধরে রাখা এবং বিভিন্ন পদে নিজের স্বজন ও কাছের লোক ও টাকার বিনিময়ে পদে নিয়োগ দেওয়াসহ বিভিন্ন উপায়ে ফায়দা লুটার জন্য দলের নীতি, আদর্শ ও চাহিদাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ আসছে নিয়মিত। দলের এই দুঃসময়ে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে দলের নীতিকে বিসর্জন দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা যায়। তাই নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে সরকার দলীয় রাজনীতির সাথে সাথে নিজ দলীয় জঞ্জালের বিরুদ্ধেও লড়তে হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ।

 

তাদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করুক আর না করুক দলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের প্রকাশ্য বিভাজন ও কোন্দল নিজ দলের সর্বনাশসহ বিরোধীদের আরও সুযোগ করে দিবে বলে মনে করেন তারা। তাদের মতে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জে শুধুমাত্র পদ প্রাপ্তি এবং পদ বঞ্চিত হওয়ার কারণে দলটি বেশ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হচ্ছে। দলের বিভিন্ন কর্মসূচি পালনকালে যা প্রকাশ্যে বুঝা যায়।

 

বর্তমানে বিএনপির একাধিক নেতার বিরুদ্ধে সরকারী দলের সাথে আতাত করা, কমিটি নিয়ে বাণিজ্য, দলীয় স্বার্থ বিরোধী কাজ কিংবা মিথ্যা নাটক সাজানোসহ বিভিন্ন অভিযোগ আছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির একাধিক নেতার বিরুদ্ধে। তবে বর্তমানে এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচিত এবং সমালোচিত হিসেবে যার নাম উঠে আসছে তিনি হলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ।

 

দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইস্যুতে বেশ অনেকটাই সক্রিয় হয়ে ওঠেছিল নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কমিটিগুলো। কিন্তু দলীয় নেতাদের মাঝে কোন্দল থাকায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপি তাদের সেই সক্রিয়তা ধরে রাখতে পারছে না বলে জেলা ও মহানগর বিএনপির দলীয় অঙ্গ সংগঠনের তৃণমূল থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আর এই কোন্দলের মূলে যার নাম উচ্চারিত হচ্ছে তিনি হলেন নজরুল ইসলাম আজাদ। তার কারণে দলের অনেক ত্যাগী ও অনুগত নেতাই দলীয় কমিটি থেকে বাদ পড়ছেন বলে জানা গেছে।

 

তাই আজাদ এখন দলের জন্য বিষফোড়া হয়ে দাঁড়িয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এমনকি তার ইন্ধনে তার সমর্থকদের হাতে নিজ দলীয় কর্মসূচীতেও হামলার শিকার হয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। কমিটি বাণিজ্য ও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বেশ কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছেন তিনি। যদিও পরে তিনি দাবি করেছেন সরকার দলীয় লোকজন তার উপর হামলা চালিয়েছেন। বিএনপির এমন চরম দুঃসময়েও রাজনীতির নামে বাণিজ্য করার অভিযোগ আসে তার বিরুদ্ধে।

 

আর্থিক বিষয় নিয়ে বিএনপি নেতা আজহারুল ইসলাম মান্নানের সাথেও তার প্রতারণার বিষয়টি মিডিয়ায় উঠে এসেছে। দলীয় সিনিয়র নেতাদের উপর তার কোন ভক্তি বা শ্রদ্ধা নেই বলে দলের ভিতর থেকেই অভিযোগ আসে। এমনকি গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার পর নিজ দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আসে তার বিরুদ্ধে। তাছাড়া বর্তমান কমিটিগুলো গঠনে পদ দেওয়ার শর্তে নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার খবরও প্রচার হয়েছে।

 

২০২১ সালে ছাত্রদল ও যুবদলের কমিটিগুলো গঠনে রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। যার মূল হোতা হিসেবে নাম আসে নজরুল ইসলাম আজাদের। সে সময় থেকেই অনেককে ক্ষোভের সাথে বলতে শোনা যায় (পরবর্তীতে তা ব্যাপকভাবে গ্রহণ যোগ্যতা পায়), ‘নারায়ণগঞ্জে বিএনপির পদ পেতে হলে আন্দোলন সংগ্রাম না গিয়ে শুধু নজরুল ইসলাম আজাদকে ম্যানেজ করলেই চলবে। আজাদ হলো নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কমিটি গড়ার কারিগর।’ সে সময় দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে থেকেও শুধুমাত্র আজাদের কারনে তারা কোন পদ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন