# কয়েকদিনের ব্যবধানে দুই থানায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ১ দফা দাবি আদায়ের চলমান আন্দোলনের ধারবাহিকতায় বর্তমানে দফায় দফায় গায়েবী মামলার শিকার হচ্ছে বিএনপির নেতৃবৃন্দ। ইতিমধ্যে কয়েক দফায় এই গায়েবী মামলার শিকার হচ্ছেন বিএনপির তৃণমূল। অনেকের সাথে যোগাযোগ করে ও জানা গেছে, সকলের বিরুদ্ধে প্রায় ডজন খানিকের উপরে মামলা রয়েছে। যা নিয়ে ঠিক মতো নিজের গন্তব্যস্থানে থাকতে পারছে না তারা।
আতঙ্কে ঘর ছাড়া নারায়ণগঞ্জ বিএনপির হাজারো নেতাকর্মী কিন্তু দলীয় আন্দোলন সংগ্রামের ডাক আসলে ও সকল একত্রিত হয়ে রাজপথে চলে আসনে কর্মসূচি সফল করতে। বর্তমানে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে একই সাথে কয়েকদিনের ব্যবধানে ফতুল্লা থানা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় গায়েবী মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কিছুদিন পূর্বে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় গায়েবী মামলা হয় যেখানে মোট ৩৯ জন বিএনপির নেতাকর্মীকে নামীয় আসামী করা হয়। আসামীদের তালিকা প্রকাশ হলে দেখা যায়, তাদের অধিকাংশই বিএনপির মাঠ পর্যায়ের রাজনীতিতে সক্রিয় আসামীদের তালিকায় দেখা গিয়েছিলো ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বারী ভূঁইয়া, কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক আনোয়ার মিয়া, শাহাদাৎ হোসেন, নাজমুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মাজেদুল, কুতুবপুর বিএনপি নেতা জাকির, মিঠু সরদার, মজিবর শিকদার, ফতুল্লা থানা বিএনপির প্রচার সম্পাদক পিয়াস খন্দকার, সিরাজ, শামীম।
জেলা ছাত্রদল নেতা আতা ই রাব্বি, তার ছোট ভাই জিদনী, রাফি, তানহা, মাহফুজ, ইউনুস, রাজু, অভি, বিএনপি সন্ত্রাসী তুষার আহমেদ মিঠু, নজরুল ইসলাম, ফতুল্লা বিএনপি নেতা রোজেল, মকবুল হোসেন বাবলু, হাসান, লিটন সরকার, তারা মিয়া, জেলা ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান দোলন, হাসান মাহমুদ পলাশ, সেলিম চৌধুরী, মাসুম, এনি, গিয়াস উদ্দিন লাভলু, মোসলেম উদ্দিন মোসা, রুহুল আমিন মুন্সি, শামীম, আলমগীর হোসেন, হাজী শহীদুল্লাহ, কাউন্সিলর ইকবাল। যাকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে এক রকমের আতঙ্ক দেখা গেলে ও কাউর মনোবল নষ্ট হয়নি।
সেই সাথে কয়েকদিনের ব্যবধানে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আরেক দফায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বাস ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে পুলিশ। নিশ্চিত করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাম্মেল হক। এর আগে সোমবার (৯ অক্টোবর) দিনগত রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মশিউর রহমান রনি বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলায় আসামী করা হয়েছে: নাসিক ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। বাকী আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল হাই রাজু, নাসিক ১নং ওয়ার্ড সদস্য গাজী মনির হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য আব্দুল হালিম জুয়েল, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শ্রমিকদলের সভাপতি মো. আকবর হোসেন।
বিএনপি কর্মী তানভীর রশিদ মজুমদার, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগর, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আকরাম হোসেন, মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব শাহেদ আহমেদ, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, বিএনপির সদস্য মো. নজরুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদ হাসান ভুইঁয়া, মহানগর যুবদলের আহবায়ক মনিরুল ইসলাম সজল।
জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজিব, বিএনপির কর্মী রিপন ওরফে কাইল্লা রিপন, ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহালম মানিক, মহনগর যুবদলের সদস্য শাহাদাৎ হোসেন ভোলা, ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আকবর, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক লুৎফর রহমান খোকা, ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ-সভাপতি হাজী মো. শহীদুল্লাহসহ অজ্ঞাত অনেকেই। যা নিয়ে নেতকার্মীরা নিন্দ্রা প্রকাশ করছেন।
এই মামলা বিষয়ে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, সোমবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জে মৌচাক এলাকায় খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, এমন স্লোগান নিয়ে কিছুসংখ্যক বিএনপির নেতাকর্মী ওই সড়কে মিছিল করেন। মিছিল শেষে তারা ওই সড়কে পার্কিং করে রাখা একটি বাস ভাঙচুর করেন। খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হলেও এর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল রাজীব যুগের চিন্তাকে বলেন, এই মামলা-হামলা খেতে খেতে আমাদের এখন এটা সহ্য হয়ে গেছে। কোন প্রকারের ভয় কাজ করে না। কারণ বিগত দিনে ও এই সরকার মামলা করেছে, বর্তমানে ও করছে সামনে ও আরো করবে এটা নিয়ে এখন আর আমরা কোন ভয়ভীতি পাই না। যত মামলা -হামলা হোক এটাকে প্রতিরোধ করেই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাবো আর আমাদের মূল দাবি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন এটা আদায় করবো।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ যুগের চিন্তাকে বলে, আমাদের বিরুদ্ধে বর্তমানে দফায় দফায় মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে যা নিয়ে আমরা কোন প্রকারের বিচ্ছুলিত নয় আমরা রাজপথে ছিলাম রাজপথেই থাকবো। এমন মিথ্যা মামলা দিয়ে এই স্বৈরাচারি সরকার পতনের আন্দোলন দাবানো যাবে না। আমাদের বিরুদ্ধে যত মামলা হয় আরো রাজপথে ততটাই গর্জে উঠি।
মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল যুগের চিন্তাকে বলেন, এই মিথ্যা গায়েবী মামলা দিয়ে লাভ নেই আমাদের নেতাকর্মীরা এখন উজ্জ্বীবিত ও আন্দোলন মুখী কোন মামলা-হামলাকে আমরা ভয় পাই না।
জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি যুগের চিন্তাকে বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে দফায় দফায় যে মামলা হচ্ছে এটা আমাদের স্বপ্নের মতো ঘুম থেকে উঠেই দেখি নানান মামলা এটা এখন বিএনপির নেতাকর্মীদের নতুন কিছু না। আমরা বিরুদ্ধে এই নিয়ে ৫৭টি গায়েবী মামলা হয়েছে। সামনে আরো এমন অনেক মামলা-হামলার শিকার হবে বিএনপি। আর বর্তমানে আমরা যে দাবি নিয়ে রাজপথে রয়েছি এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের বিরুদ্ধে যত মামলা-হামলা হোক না কেন আমাদের দাবাতে পারবে না।
মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব শাহেদ আহম্মেদ যুগের চিন্তাকে বলেন, আমাদের এখন এমন একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যে ভাত না খেলে ও মামলা খেতে হবেই। এই স্বৈরাচারি সরকার বর্তমানে আমাদের বিরুদ্ধে গায়েবী মামলা দিয়ে আমাদের দাবিয়ে রাখতে চাচ্ছেন কিন্তু জিয়ার সৈনিকরা এখন গর্জে উঠেছে তাদের দামানো বা দাবিয়ে রাখতে চাইলে এখন মামলা দিয়ে লা হবে না। বিএনপির সকল দাবি এই স্বৈরাচারি সরকারকে মানতে হবে আর সুষ্ঠ নির্বাচন নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে তাহলেই জিয়ার সৈনিকরা শান্ত হবে।
মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগর যুগের চিন্তাকে বলেন, আমর বিরুদ্ধে এ নিয়ে ২০টি মামলা পূরণ হলো। জানি নির্বাচনের আগে আরো মামলা হবে কিন্তু এই মামলা দিয়ে কি লাভ। আমরা তো এখন আর মামলাকে ভয় পাই না। মামলা হলে আমরা আরো উৎফুল্ল হয়ে উঠি।
কারণ এখন বিএনপির নেতকার্মীরা গর্জনের সাথে রাজপথে থাকে। এখন এই গায়েবী মামলা দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের আর দাবিয়ে রাখতে পারবে না এই সরকার এই সরকারের সময় শেষ হয়ে এসেছে। আমরা আরো বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটাবো। এন. হুসেইন রনী /জেসি


