২৩ বছরের একটা মেয়ে বিয়ে করছেন খুন করেছেন ১৭টা : শামীম ওসমান
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৩, ০২:৩৭ পিএম
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনকে ইঙ্গিত করে বর্তমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, বয়সে আমার অনেক বড়, আমার শাশুড়ির বন্ধু ৭৮ নাকি ৭৯ বছর বয়স। এ বুড়া বয়সে ধরা খেয়ে ২৩ বছরের মেয়ে বিয়ে করছেন একটা। বলে রাখলাম। পরে নাম ঠিকানা বলে দিব। ২৩ বছরের একটা মেয়ে বিয়ে করছেন খুন করেছেন ১৭টা।
করেন সেটা আপনার ব্যক্তিগত বিষয়। আপনার বউয়ের নামও আমি বলতে পারবো। কোন এলাকাতে থাকেন এখন সেটাও বলতে পারবো। ভাববেন না আপনারা কোথায় থাকেন এটা জানি না। পুলিশ আপনাদের ধরে না দেখে ভাববেন আমরা জানি না। কিন্তু আমরা সব জানি। প্রতিহিংসা চাই না। মানুষের মনে থাকতে চাই। রাজনীতিটা নষ্ট কইরেন না। একসাথে থাকতে দেন। ছেলেদের রাস্তায় নামিয়ে এমন কিছু করবেন না যাতে মামলা খেয়ে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যায়।
গতকাল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের এর ৫৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের উদ্যোগে ব্যাপক জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণ কেন্দ্র চাষাঢ়া চত্ত্বরে বেলুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী’র শুভ উদ্বোধন করেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ.কে.এম শামীম ওসমান।
পরে নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের আহবায়ক আব্দুল কাদির ও সদস্য সচিব মো.কামাল হোসেন এর নেতৃত্বে হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে একটি বিশাল বর্নাঢ্য র্যালি করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ করেন। র্যালি শেষে জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভায় ও কেক কাটা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ.কে.এম শামীম ওসমান বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে যারা টেনশনে আছেন, তাদের বলছি কিচ্ছু হবে না।
গ্যাস বেলুন যেমন ফুস করে ফুস হয়ে যায়, আমি বলে দিচ্ছি আস্তে করে ফুস হবে। ঠিক টাইম মতো নির্বাচন হবে। জাতির পিতার কন্যার আন্ডারে নির্বাচন হবে, এক চুল পরিমান এদিক ওদিক হবে না। জানুয়ারি মাসে নির্বাচন হবে। সুষ্ঠ সুন্দর ভাবে জনগণের ভোট নিয়ে শেখ হাসিনা আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন।
দলের বিতরের নেতানেত্রীদের সমালোচনা করে শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জের কত বড় বড় নেতা নেত্রী আছে। যখন নৌকা দরকার হয়, তখন নৌকার জন্য জান দিয়ে দেয়। এখনতো দেখতেছি না অনেক’রে। জামাত বিএনপি, সুশিলদের বিরুদ্ধে গত ১ বছর, ২ বছরের মধ্যে দেখলাম না। নৌকাও নিলাম, গাড়িও নিলাম, পেপো করে গাড়িও চলে।
যাক হয়তো ভবিষ্যতে করি। কারো বিরুদ্ধে কথা বলবো না, সবাই ভালো থাকুক সুখে থাকুক। এ সময় শ্রমিকলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে শামীম ওসমান বলেন, আপনারা সংগঠনটাকে সুন্দর করে গুছান। হাইব্রিড-টাইব্রিড নিয়েন না, যারা অরিজিনাল, সিএস, আরএস ও এসএ পর্চা আছে, তাদের নিয়েন। কম নেন, লোক কম হোক, কিন্তু সলিট হয় যেন।
মাদক নিয়ে শামীম ওসমান বলেন, মক্কায় কাবা শরিফ ছুয়ে শপদ করে ছিলাম। টানবাজারের পতিতা পল্লি উচ্ছেদ করবো, সেটা উচ্ছেদ করতে পেড়েছি। কারণ, সেটা একটা নির্দিষ্ট জায়গায় ছিল। কিন্তু এবার যেটা ধরেছি, সেটা খুবই কঠিন। আমার বা পুলিশের পক্ষে একা মাদক বন্ধ করা সম্ভব না। যদি না আপনারা সবাই মিলে এগিয়ে না আসেন।
যারা মাদক বিক্রি করছে, সেতো ক্যারিয়ার, কিন্তু যে হোল সেলার সে হচ্ছে মূল। সে দেখবেন আমাদের মতো কারো পাশে এসে দাঁড়িয়ে আছে। সুন্দর করে বক্তিতা দিচ্ছে। বড় বড় এমপি মন্ত্রী, বিএনপির নেতা কিংবা সাংবাদিক সেজে বসে আছে। টুপি পড়ে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তাছে। মানুষ মনে করছে, বাহ্ কত ভালো মানুষ।
তিনি আরও বলেন, এই উন্নয়ন করে কি হবে, যদি না আগামী প্রজন্মকে বাঁচানোর জন্য আমরা এগিয়ে আসতে না পারি। তাহলে হলে যা কিছু করছেন, সব ধ্বংস হয়ে যাবে মাদকের জন্য। মাদক একটা পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। মাদক মায়ের চোখের সামনে সন্তানকে নষ্ট করে ফেলে। মাদক বন্ধ করতে সাংবাদিকসহ সকল ধরণের রাজনৈতিক নেতার কাছে যাবো, সকলকে ডেকে ও চিঠি দিয়ে সাহায্য চাবো।
শামীম ওসমান আরও বলেন, তারা আসবে কি আসবে না, সেটা তাদের ব্যাপার। এরপর আমরা মাঠে নামবো। ভোট ফোটের আমি চিন্তা করি না, ভোট করবো কি না, তাও জানি না। ভোট কি, কালকে বাঁচি কিনা ঠিক নাই। আমি মৃত্যুর সময় ভয় পেতে চাই না। মরার সময় খুশি মনে যেতে চাই।
সভাপতির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিকলীগের আহবায়ক আব্দুল কাদির বলেন, প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত আদরের ছোট ভায়ের নাম শামীম ওসমান। যেখানে গরীব আছে, শ্রমিক আছে, সেখানে শামীম ওসমান রয়েছে। এমন কি তার সহধর্মী লিপি ওসমানও আছেন। উনাদের সম্পর্কে বললে আমার অহংকারে গর্বে বুক ভরে যায়।
বাংলাদেশে যদি শামীম ওসমানের মতো ৮০% লোক হতো তাহলে কোনো বিএনপি, জামায়াতরা কথা বলার সাহস রাখতো না। বাংলাদেশের পথ হায়নার শকুনদের মুখে পড়েছে। যে আমেরিকা গণতন্ত্রের নামে আফগানিস্থান বা জিয়া তারা বিরোধী দলের সাথে হাত মিলিয়ে ঐ ধ্বংস করে দিয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে উনার মতো একজন নেতা রয়েছে।
যে দেশের জন্য শ্রম দিয়েছেন। এছাড়া তিনি আমাদের জন্য স্লোগান দিয়েছেন বীর বাঙ্গালী ঐক্য গড়ে, বাংলাদেশ রক্ষা করো। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই স্লোগান একদিন জাতীয় স্লোগান হিসেবে বিবেচিত হবে। আপনার এই স্লোগান জন্য স্যালুট জানাই।
এসময় নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের সদস্য ইঞ্জিঃ মো.আলমগীর মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা শ্রমিক লীগের সদস্য সচিব মো.কামাল হোসেন ও বাংলাদেশ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মো.আশরাফ উদ্দিন, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড.খোকন সাহা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবু চন্দন শীল, জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দর-কষাকষি বিষয়ক সম্পাদক ও বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধান, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এম.এ রাসেল।
জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু, জেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহবায়ক সিরাজুল হক, সদস্য মো.হুমায়ন কবির, মো.আলী হোসেন, শাহ-আলম, মো.মজিবুর রহমান, এস.এম আব্দুল কাদির, মো.মোসলেহ উদ্দিন জীবন, মো.আসলাম, সোহেল ভান্ডারী, সোনিয়া আক্তার, সোনারগাঁ উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি রোবায়েত হোসেন শান্ত, বন্দর উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মোজ্জামেল হক, গাজী মো.লিটন, সাহাবউদ্দিন সহ প্রমুখ। এন.হুসেইন রনী /জেসি


