জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে মহাজোটের টিকেটে পর পর দু’বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় পার্টির লিয়াকত হোসেন খোকা। তিনি নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের আশীর্বাদপুষ্ট। খোকার জন্ম সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের হাবিবপুর গ্রামে হলেও তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের আবহাওয়ায় বেড়ে ওঠেছেন।
শিশুকাল থেকেই তিনি তার পরিবারের সাথে নারায়ণগঞ্জ শহরের আমলাপাড়ায় বসবাস করতেন। যে কারণে সোনারগাঁবাসীর কাছে খোকা ছিলেন এক অখ্যাত, অচেনা ব্যক্তি। ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হওয়ার পরই তারা জানলেন, তিনি সোনারগাঁয়ের সন্তান। সোনারগাঁয়ের কিছু ঠোঁটকাটা লোক তো বলেই ফেললেন, ‘মহাজোটের প্রার্থী না হলে অপরিচিত এই হাবাগোবা খোকাতো মেম্বার পদে দাঁড়ালেও ফেল করতেন।’
কিন্তু সেই অপরিচিত হাবাগোবা খোকাই বরাতগুণে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে পর পর দু’বার এমপি নির্বাচিত হয়ে গেলেন। চেয়ারে বসেই তিনি তার সুন্দর মুখের হাসি আর কূটকৌশল দিয়ে আওয়ামী লীগের ঘাড়ে পা রেখে সোনারগাঁয়ে জাতীয় পার্টিকে জিরো থেকে হিরোতে পরিণত করেন।
এর আগে হ্যাজাক দিয়েও সোনারগাঁয়ে জাতীয় পার্টির কোন নেতাকর্মী কিংবা কমিটির হদিস পাওয়া যেতো না। লিয়াকত হোসেন খোকা এখন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, ঢাকা বিভাগীয় অতিরিক্ত মহাসচিব এবং জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আওয়ামী লীগের একাংশের প্রচ্ছন্ন সহযোগিতায় সোনারগাঁয়ের রাজনীতিতে খোকা এখন অপ্রতিরুদ্ধ শক্তিতে পরিণত। কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না তার এই বিজয়রথ। আওয়ামী লীগকে সুকৌশলে ব্যবহারকারী খোকার কর্মকাণ্ডে প্রচণ্ড রেগেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।
গত পরশু সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে তিনি বেশ ঝাঁঝালো কণ্ঠে খোকার সমালোচনা করে বলেন, ‘আপনি আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছেন। আলাদাভাবে নির্বাচন করে দেখেন কয়টা আসন পান, পায়ের তলার মাটি খুঁজে পাবেন না। সোনারগাঁ জাতীয় পার্টির আসন নয়। এখানকার মানুষ নৌকা মার্কার প্রার্থী চান।’
কিন্তু এখনকার খোকা আর সেই হাবাগোবা নেই। তিনি এখন আপাদমস্তকে একজন কৌশলী রাজনীতিবিদ। ঘরোয়া কিংবা মাঠের বক্তৃতায়ও পরিপক্কতার ছাপ স্পষ্ট। বিগত ১০ বছর টানা এমপিগিরি করে তিনি অনেক কিছুই করায়ত্ব করে ফেলেছেন। তিনি জানতেন, ভবিষ্যতে তাকে কঠোর রাজনীতির মুখোমুখি হতে হবে। আর সে কারণেই খোকার মুখ থেকে উচ্চারিত হতে শোনা যায়, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো ক্ষমতায় এনে দেশের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সব উন্নয়নের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। আমি এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র।’ আবার আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে খোকা যখন বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার জাতীয় পার্টির গলার কাঁটা। তখন তো কারো বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে, খোকা আর বোকা নেই! এস.এ/জেসি


